ঢাকা, শুক্রবার 6 April 2018, ২৩ চৈত্র ১৪২৪, ১৮ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

এক আসর পরেই লিগ শিরোপা পুনরুদ্ধার করলো আবাহনী

স্পোর্টস রিপোর্টার : এক আসর পরেই প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের শিরোপা পুনরুদ্ধার করলো আবাহনী লি:। গতকাল লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জকে ৯৪ রানে হারিয়ে এক বছর বিরতি দিয়ে ঘরে তুলেছে প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা। লিগের শেষ ম্যাচ জিতলেই চ্যাম্পিয়ন, এমন সমীকরণ সামনে রেখে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে নেমেছিল আবাহনী। আর জয় দিয়েই শিরোপা ঘরে তুলল আবাহনী। এই আসরে শিরোপার ত্রিমুখী লড়াইয়ে নেমেছিল রূপগঞ্জ, শেখ জামাল ও আবাহনী। তবে শেখ জামাল বড় ব্যবধানে হেরে যাওয়ায় আগেভাগেই শিরোপার সুবাস পেতে থাকে আবাহনী। কেননা তখন রূপগঞ্জের বিপক্ষে হারলেও শিরোপা হারানোর শঙ্কা ছিল না তাদের। এবার শিরোপা পুনরুদ্ধারের স্বপ্ন নিয়েই দল গঠন করেছিল আবাহনী। মাশরাফিকে নিয়ে আসে শাইনপুকুর থেকে। পুরো টুর্নামেন্টে বল হাতে দারুণ পারফর্ম করেছেন মাশরাফি। এমনকি ব্যাট হাতেও দারুণ কিছু ইনিংস খেলেছেন তিনি। গতকালও যেমন ৮ বলে ৪ ছক্কায় খেলেন ২৮ রানের ইনিংস, আর ম্যাচ শেষে মাতেন শিরোপা পুনরুদ্ধারের আনন্দে। এর আগে ২০১৫-১৬ মৌসুমে শেষবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আবাহনী। গেলবার শিরোপা জিতেছিল গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স। বিকেএসপির ৩ নম্বর মাঠে আগে ব্যাট করে নাজমুল হোসেন শান্ত ও নাসির হোসেনের সেঞ্চুরিতে ৬ উইকেট হারিয়ে ৩৭৪ রান করে আবাহনী। জবাবে ৪২.৪ ওভারে ২৮০ রানে অল আউট হয়ে যায় রূপগঞ্জ। ফলে আবাহনী জয় পায় ৯৪ রানে। এ জয়ে ১৬ ম্যাচে সর্বোচ্চ ২৪ পয়েন্ট নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হলো আবাহনী। গত আসরে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের কাছে শিরোপা হারানোর এক আসর পরেই শিরোপা পুনরুদ্ধার করলো দলটি। আবাহনীর কাছে হারায় রানার্স আপও হতে পারেনি রূপগঞ্জ। সমান ২০ পয়েন্ট হলেও হেড টু হেডে রানার্স আপ হয়েছে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। রানরেটে এগিয়ে থেকেও তৃতীয় স্থানে সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে রূপগঞ্জকে। গতকাল আবাহনীর দেওয়া ৩৭৫ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ওপেনার আব্দুল মজিদকে হারায় রূপগঞ্জ। এরপর দলীয় ৪১ রানে হারায় অভিষেক মিত্রকে। তবে চাপে পড়া দলের হাল মুশফিকুর রহীমকে নিয়ে ধরেন আরেক ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম। গড়েছেন ৯১ রানের জুটি। এরপর মোহাম্মদ নাঈম আউট হয়ে গেলে চতুর্থ উইকেটে অধিনায়ক নাঈম ইসলামকে নিয়ে জুটি বাঁধেন মুশফিক। ৫৮ রান যোগ করেন তারা। এরপর পঞ্চম উইকেটে ভারতীয় ব্যাটসম্যান পারভেজ রসুলের সঙ্গে ৪৯ রানের জুটি গড়েন অধিনায়ক। কিন্তু এ জুটি ভাঙতেই যেন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে রূপগঞ্জের ইনিংস। শেষ ৬টি উইকেট হারায় তারা ৪১ রান তুলতেই। আর দলীয় ২৮০ রানের মাথায় আউট হন চার ব্যাটসম্যান। ৪৪ বল বাকি থাকতেই অল আউট হয়ে যায় দলটি। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৭৬ রানের ইনিংস খেলেছেন নাঈম ইসলাম। ৬৮ বলে ৫টি চার ও ২টি ছক্কায় এ রান করেছেন তিনি। ৫৪ বলে ৬টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৭০ রান করেছেন মোহাম্মদ নাঈম। এছাড়া মুশফিক খেলেছেন ৬৭ রানের ইনিংস। ৬৬ বলে ৪টি চার ও ১টি ছক্কায় এ রান করেছেন তিনি। আবাহনীর পক্ষে ২টি করে উইকেট নিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ, সানজামুল ইসলাম, সন্দিপ রায় ও নাসির হোসেন। এর আগে টসটা জিতেছিলো রূপগঞ্জই। কিন্তু ব্যাটিং স্বর্গে ফিল্ডিং বেছে নেয় দলটি। তার ফায়দা শুরু থেকেই তুলতে থাকে আবাহনী। আগে ব্যাটিং করে আবাহনী ৬ উইকেটে ৩৭৪ রানের পাহাড় গড়ে। সেঞ্চুরি পেয়েছেন নাসির হোসেন ও নাজমুল হোসেন শান্ত। সত্যিকার অধিনায়কের মতো ব্যাট হাতে নেতৃত্ব দিয়েছেন নাসির। ৯১ বলে খেলেন ১২৯ রানের অসাধারণ এক ইনিংস। ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতা ইনিংসটি তিনি সাজিয়েছিলেন ১৫ চার ও ৪ ছক্কায়। তার সঙ্গে ওপেনিংয়ে শান্ত ১০৭ বলে ১১ চার ও ২ ছক্কায় করেন ১১৩ রান। ওপেনিং জুটিতেই আবাহনীর আসে ৯২ রান। এরপর অবশ্য দ্রুত ৩টি উইকেট হারায় তারা। কিন্তু চতুর্থ উইকেটে ১৮৭ রানের জুটিতে বড় সংগ্রহের ভিত পেয়ে যায় আবাহনী। শেষ দিকে মাশরাফি ব্যাটে ঝড় তোলেন। ফলে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ৩৭৪ রান করে দলটি। আবাহনীর পক্ষে নাসির হোসেন দারুণ এক সেঞ্চুরি তুলেনেন।এছাড়া সেঞ্চুরি তুলে নেন নাজমুল হোসেন শান্তও। লিগে এটা তার চতুর্থ সেঞ্চুরি। ১০৭ বলে ১১টি চার ও ২টি ছক্কায় ১১৩ রান করেন এ ওপেনার। এনামুল হক বিজয় করেছেন ৫৭ রান। শেষ দিকে মাত্র ৮ বলে ৪টি ছক্কার সাহায্যে ২৮ রান করে অপরাজিত থাকেন মাশরাফি। রূপগঞ্জের পক্ষে ৪২ রানের খরচায় ৩টি উইকেট পান পারভেজ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর :

আবাহনী লিমিটেড : ৫০ ওভারে ৩৭৪ রান (বিজয় ৫৭, শান্ত ১১৩, বিহারি ৬, মিঠুন ১, নাসির ১২৯, সৈকত ১৯*, মিরাজ ৭, মাশরাফি ২৮*; শহীদ ২/৮১, আশিকুজ্জামান ০/৬৮, পারভেজ ৩/৪২, আসিফ ১/৯৩, মোশারফ ০/৫৩, নাঈম ইসলাম ০/৩২)।

লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ : ৪২.৪ ওভারে ২৮০ (মজিদ ০, মোহাম্মদ নাঈম ৭০, অভিষেক ১৩, মুশফিক ৬৭, নাঈম ইসলাম ৭৬, পারভেজ ২৯, মিলন ৭, মোশারফ ৭, শহীদ ০, আশিকুজ্জামান ০*, আসিফ ০; মিরাজ ২/২৯, মাশরাফি ১/৩০, সানজামুল ২/৬৩, সন্দিপ ২/৫৩, নাসির ২/৬৭, সাকলাইন ০/৩৭)।

ফলাফল : আবাহনী ৯৪ রানে জয়ী।

ম্যান অব দ্য ম্যাচ : নাসির হোসেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ