ঢাকা, শনিবার 7 April 2018, ২৪ চৈত্র ১৪২৪, ১৯ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

‘গণহত্যা বন্ধ কর’ ছাত্রদের বিক্ষোভে উত্তাল কাশ্মীর

 

৬ এপ্রিল, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস : তিন দিন বন্ধ থাকার পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার পর ছাত্র বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে ভারত শাসিত কাশ্মীর। গণহত্যা বন্ধ কর লেখা ব্যানার নিয়ে রাস্তায় নামা ছাত্রদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। ছাত্র বিক্ষোভ ঠেকাতে ব্যবহার হয়েছে টিয়ারগ্যাস, ছররা গুলি আর সাউন্ড গ্রেনেড। পুলিশ আর নিরাপত্তারক্ষীদের ওপর পাথর ছুঁড়ে জবাব দিয়েছে ছাত্ররা। সংঘর্ষে দুই পুলিশ কর্মকর্তার আহত হওয়ার তথ্য জানিয়ে কাশ্মীর পুলিশের প্রধান জানিয়েছেন পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে এদিনের বিক্ষোভে কত ছাত্র আহত হয়েছে সে সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি। গত রবিবার নিরাপত্তা অভিযানে ১৯ জন নিহত হওয়ার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বিক্ষোভে নামে ছাত্ররা।

তিন দিন বন্ধ থাকার পর বৃহস্পতিবার ভারত শাসিত কাশ্মীরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেওয়া হয়। সকালে ক্লাস, পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও কাশ্মীর বিশ্ববিদ্যালয়ের শত শত শিক্ষার্থী বিক্ষোভে শামিল হয়। ‘গণহত্যা বন্ধ করো’, ‘আর হত্যা নয়’ লেখা ব্যানার নিয়ে রাস্তায় নামে শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভ হয়েছে কাশ্মীর উপত্যকার কলেজগুলোতেও। বেমিনা ডিগ্রি কলেজ, অমর সিংহ কলেজ, গান্ধী কলেজ, এসপি হাইয়ার সেকেন্ডারি স্কুলের শিক্ষার্থীরা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভে যোগ দিয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।  ভারতবিরোধী আর স্বাধীনতার দাবিতে স্লোগান তুলে ছাত্ররা বিক্ষোভ দেখায়। টিয়ারগ্যাস ছুঁড়লে পুলিশের ওপর পাথর নিক্ষেপে জবাব দেয় ছাত্ররা।

কাশ্মীরে সশস্ত্র বিদ্রোহী সংগঠনগুলোর কেউ সরাসরি স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলনরত। কেউ কেউ আবার কাশ্মীরকে পাকিস্তানের অঙ্গীভূত করার পক্ষে। ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় সেখানকার স্বাধীনতা আন্দোলনের ইসলামীকরণ হয়েছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ কাশ্মীরের মুক্তি আন্দোলনকে জঙ্গিবাদী তৎপরতা হিসেবে বিবেচনা করে। ‘সন্দেহভাজন জঙ্গি’ নাম দিয়ে বহু বিদ্রোহীর পাশাপাশি বেসামরিকদেরও হত্যার অভিযোগ রয়েছে ভারতীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে। গত রবিবার কাশ্মীরের সোফিয়ান ও অনন্তনাগ জেলায় আলাদা অভিযান চালায় ভারতীয় বাহিনী। সেসব অভিযানে মোট ২০ জনের প্রাণহানি ঘটে। এরপরই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে পুরো কাশ্মীর জুড়ে। স্বাধীনতাপন্থি কাশ্মীরিদের পক্ষ থেকে ধর্মঘট ঘোষণা করা হয়। তিনদিনের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার তা খুলে দেওয়ার পর বিক্ষোভ শুরু হয়।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবরে বলা হয়েছে, এদিনের বিক্ষোভে নারী শিক্ষার্থীরাও যোগ দিয়েছে। লাল চকের উইমেন কলেজের ছাত্রী বের হয়ে এসে শহরের মূল কেন্দ্র অবরোধ করে রাখে। গাড়ি চলাচল ব্যহত হলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় নারী শিক্ষার্থীরা। ছাত্র বিক্ষোভ হয়েছে কাশ্মীরের উত্তরাঞ্চলীয় এলাকাগুলোতেও। উত্তর কাশ্মীরের বারামুলা ও বান্দিপোরা জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে।

কাশ্মীর রেঞ্জের পুলিশ মহাপরিদর্শক স্থানীয় এক বার্তা সংস্থাকে জানিয়েছেন, ছাত্র বিক্ষোভের ঘটনায় দুই পুলিশ অফিসার আহত হয়েছেন। তবে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গত বছরও ছাত্র বিক্ষোভ প্রত্যক্ষ করেছে কাশ্মীর। দক্ষিণ কাশ্মীরের পুলমাওয়া জেলার এক ডিগ্রি কলেজে অভিযান চালানো হলে সে বছর বিক্ষোভে ফেটে পড়ে পুরো কাশ্মীরের ছাত্ররা। শুক্রবার জুমার নামাজের পরও কাশ্মীরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে স্বাধীনতাপন্থিরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ