ঢাকা, শনিবার 7 April 2018, ২৪ চৈত্র ১৪২৪, ১৯ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মিয়ানমারে ‘গণহত্যা’ চলছে: দুতের্তে

৬ এপ্রিল, এএফপি : মিয়ানমারে ‘গণহত্যা’ চলছে বলে মন্তব্য করেছেন ফিলিপিন্সের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তে। সেখান থেকে পালিয়ে আসতে থাকা শরণার্থী নেওয়ারও ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি। তবে ইউরোপের দেশগুলোকেও এ ব্যাপারে সহায়তা করতে হবে বলে জানিয়েছেন দুতের্তে। বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে কৃষক ও কৃষি বিষয়ক কর্মকর্তাদের উদ্দেশে এক বক্তব্যে দুতের্তে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলার সময় মিয়ানমার নিয়ে ওই কথা বলেন।

মিয়ানমারের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে দুতের্তে রোহিঙ্গাদের জন্য সমবেদনা প্রকাশ করেন এবং তাদেরকে সাহায্য করার প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, “সত্যিই সেখানকার মানুষদের জন্য আমার দুঃখ হয়। আমি শরণার্থী নিতে চাই। রোহিঙ্গাদের, হ্যাঁ। আমি তাদেরকে সাহায্য করব। তবে আমাদেরকে ইউরোপের সঙ্গে তাদেরকে ভাগ করে নিতে হবে।”

মিয়ানমারের সমস্যা সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অক্ষমতার কথাও উল্লেখ করে দুতের্তে বলেন, “তারা এমনকি রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান করতে অপারগ। আর তাই গণহত্যা ঘটছে।” তবে মিয়ানমার কোনো গণহত্যা চলার কথা অস্বীকার করেছে। মিয়ানমার সরকারের মুখপাত্র জ হাতয় বলেছেন, দুতের্তের মন্তব্যে প্রকৃত পরিস্থিতির প্রতিফলন ঘটেনি। হাতয় বলেন, “তিনি (দুতের্তে) মিয়ানমার সম্পর্কে কিছু জানেন না। সচরাচর অসংযতভাবেই তিনি কথা বলেন। সেকারণেই তিনি অমন কথা বলেছেন।”

দুতের্তের মন্তব্য টিভিতে সরাসরি প্রচারিত হয়েছে। প্রতিবেশী দেশকে নিয়ে দক্সিণ-পূর্ব এশীয় এক নেতার এমন নিন্দামূলক বক্তব্য খুবই বিরল। ফিলিপিন্স এবং মিয়ানমার দুইই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোটের সদস্য এবং দু’দেশই দীর্ঘদিন ধরে জোটের সদস্যদেশগুলোর সমালোচনা না করার রীতি মেনে এসেছে।

 রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়াতে ব্যর্থতার জন্য মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি বিদেশে প্রচ-ভাবে সমালোচিত হলেও তার নাম উল্লেখ করে দুতের্তে কিছু বলেননি। তিনি কেবল বলেন, “এই নারী আমার বন্ধু”।

জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, গতবছর অগাস্টে রাখাইনে সেনা অভিযানের পর থেকে এ পর্যন্ত ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। জাতিসংঘ ও  কয়েকটি পশ্চিমা দেশ ওই অভিযানকে ‘জাতিগত নিধনযজ্ঞ’ বলে অভিযোগ করলেও মিয়ানমার তা অস্বীকার করে আসছে। নিরাপত্তা বাহিনী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে বৈধ অভিযান চালাচ্ছে বলেই দাবি  মিয়ানমারের।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ