ঢাকা, শনিবার 7 April 2018, ২৪ চৈত্র ১৪২৪, ১৯ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খালেদা জিয়ার মুক্তি আমাদের এক নম্বর শর্ত তারপর অন্য আলোচনা --- মির্জা ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের সংকট উত্তরণে শুধু ফেসবুক নয়- রাস্তায়ও সোচ্চার হতে হবে। তিনি বলেন, দেশে এখন দুঃসময়। তরুণ-যুবকদের বলছি, শুধু ফেসবুক দেখলে চলবে না, শুধু সোশ্যাল মিডিয়াতে দুই-একটা কথা বললেই চলবে না; রাষ্ট্রকে রক্ষা করতে হলে, দেশকে রক্ষা করতে হলে, রাজনীতিকে রক্ষা করতে হলে রাস্তায় সোচ্চার হতে হবে, প্রতিবাদে সোচ্চার হতে হবে। আমাদের উঠে দাঁড়াতে হবে। নিজের অধিকারটাকে আদায় করে নিতে হবে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে ২০ দলীয় জোটের শরীক জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) ৩৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

জাগপার সভাপতি অধ্যাপক রেহানা প্রধানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় খেলাফত মজলিশের চেয়ারম্যান মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক, এলডিপি‘র মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ, জাগপার সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, সহসভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান, মাস্টার এম এ মান্নান, আবিদুর রহমান, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-মহাসচিব আসাদুর রহমান খান, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য খন্দকার মারুফ হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

বিএনপিতে বিভক্তির জন্য সরকার অপপ্রচার চালাচ্ছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, কত নাটক সাজায়। দেখেন ওরা (সরকার) মনের দিক থেকে কত দুর্বল, কত দেউলিয়া যে, দল ভাঙার চেষ্টা। এরা মিথ্যা লেখে সমস্ত সোশ্যাল মিডিয়াতে। এই মিথ্যা কথা বলে দলের মধ্যে বিভ্রান্ত সৃষ্টি করতে চায়। কিন্তু ইতিহাস বলে এসব মিথ্যা কথা বলে, মিথ্যা প্রচার করে জনগণকে বিভ্রান্ত করা যায় না, সম্ভব নয়।

সুন্দরবনের কাছে ১৯০টি শিল্প স্থাপনে সরকারি অনুমতি প্রদানে উদ্বিগ্ন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, সুন্দরবন এমন একটি প্রাকৃতিক সুরক্ষা যা বাংলাদেশের অস্তিত্বকে রক্ষা করে। এই সরকার ক্ষমতায় আসার পরে এই সুন্দরবনকে ধ্বংস করে ফেলার প্রক্রিয়া হিসেবে ইতিমধ্যে ১৯০টি ইন্ডাষ্ট্রিয়াল ইউনিটের লাইসেন্স দিয়েছে। সেটা সুন্দরবনকে একেবারে ধ্বংস করে ফেলবে। কারণ পরিবেশ বিজ্ঞানীরা পরিষ্কার করেই বলেন যে, এই ধরনের ফরেস্টের কাছে যদি কোনো শিল্প  তৈরি হয়, সেখান থেকে যে বিষাক্ত গ্যাস বেরিয়ে আসে তাতে এই বন ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে ও  যাবে। আমরা উদ্বিগ্ন সুন্দরবন নিয়ে। রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন নিয়ে বহু  হৈচচৈ হয়েছে। কিন্তু সরকার কানেই নিচ্ছে না। কারণ তার (সরকার) কাছে এদেশের কোনো মূল্য নেই। তাদের একটাই ইচ্ছা ক্ষমতায় টিকে থাকা।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের শর্ত সরকারের কাছে মানুষদের দিয়ে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট। প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা খরচ করে ফ্রান্স থেকে সেটা তৈরি করা হয়েছে। উৎক্ষেপ করা হবে। সেটার শর্ত একদম কাছের মানুষদের দিয়ে দেয়া হয়েছে। যা কিছু করবেন তাদেরকে পয়সা দিয়ে করতে হবে। ভালো করে একটু খোঁজ-খবর নেন সাংবাদিক ভাইরা। এই কথা বাজারে চলে এসেছে। সমস্ত ব্যাংকগুলো তাদের (ক্ষমতাসীন) নিজেদের লোকজনদের দিয়ে দেয়া হয়েছে। বড় বড় কনট্রাক্টস সব তাদেরকে দিয়ে দেয়া হচ্ছে। পদ্মাসেতু ৮ হাজার কোটি টাকা থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকায় এসে দাঁড়িয়েছে। সড়ক-মহাসড়কের অবস্থা কী আপনারা জানেন।

সরকারের ভ্রান্তনীতির কারণে রোহিঙ্গা সমস্যার কোনো অগ্রগতি হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, দেশের জন্য অশনি সংকেত। সরকারের ভ্রান্তনীতির কারণে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান হচ্ছে না। পত্রিকায় এসেছে- প্রধানমন্ত্রী নিজেই বলছেন কোন অগ্রগতি নেই। একটা লোককেও ফেরত নেয়নি মিয়ানমার। এই হচ্ছে আমাদের পররাষ্ট্রনীতির সাফল্য। এই হচ্ছে আমাদের যোগ্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাফল্য, এই হচ্ছে আমাদের যোগ্য প্রধানমন্ত্রীর সাফল্য।

জার্মানির একটি গবেষণা সংস্থা কর্তৃক সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনে বাংলাদেশ সরকারকে ‘স্বৈরাচারি সরকার’ অভিহিত করার প্রসঙ্গটি টেনে সরকারের স্বরূপ উন্মোচিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল।

আলোচনা প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তিই এক নম্বর শর্ত। তিনি বলেন, আমি পরিষ্কার করে একটি কথা বলি, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি হচ্ছে আমাদের (বিএনপির) এক নম্বর দাবি, এক নম্বর শর্ত। তারপর অন্য কিছু আলোচনা হবে। এর আগে আর কিছু নিয়ে আলোচনা করব না।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিএনপি নির্বাচনমুখী একটি দল। আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। আমরা সবসময় উদার গণতন্ত্রের রাজনীতি করি। নির্বাচন কমিশনের মৌলিক বিষয়গুলো চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়া কঠিন। তবে বরাবরই আমরা স্থানীয় নির্বাচনে নীতিগতভাবে ঘোষণা দিয়ে অংশ নিয়ে আসছি।

বিএনপির ৮ নেতার ব্যাংক হিসাব নিয়ে দুদকের তদন্তের প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফলরুলের ভাষ্য, দুর্নীতি দমন কমিশন দুর্নীতি রোধে কার্যকর কোনও  ভূমিকা রাখতে পারছে না। এর প্রমাণ দুদকের একটি ভুয়া, সাজানো মামলায় চেয়ারপার্সনকে কারাগারে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অন্য নেতাদের নামে অর্থ লেনদেনের মিথ্যা তদন্তে নেমেছে এ সংস্থাটি।

জাগপার মরহুম নেতা শফিউল আলম প্রধানের স্মৃতিচারণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি আপাদমস্তক একজন রাজনীতিবিদ ছিলেন। তার মতো দেশপ্রেম, গণতন্ত্রের জন্য ভালোবাসা, স্পষ্ট কথা বলা আজকাল খুব একটা দেখা যায় না। বর্তমান রাজনৈতিক সংকটে তার মতো একজন প্রতিভাবান রাজনীতিবিদের বড়ই প্রয়োজন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ