ঢাকা, শনিবার 7 April 2018, ২৪ চৈত্র ১৪২৪, ১৯ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খালেদা জিয়ার জন্য মেডিকেল বোর্ড গঠন লোক দেখানো ---------ব্যারিস্টার মওদুদ

গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ঢাকাস্থ ফেনী জেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্র ও যুব ফোরাম আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : কারাগারে অসুস্থ খালেদা জিয়ার জন্য সরকারের মেডিকেল বোর্ড গঠন লোক দেখানো মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, বেগম জিয়ার কিছু হলে দায় সরকারকেই নিতে হবে।

গতকাল শুক্রবার সকালে এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, এই সরকার মেডিকেল বোর্ড করেছেন, এই সরকার মানুষকে দেখানোর জন্য নানা রকমের কৌশল অবলম্বন করেছেন। কেনো? এটা দুরভিসন্ধিমূলক। সরকার দ্বারা এই যে মেডিকেল বোর্ড করা- এগুলো লোক দেখানো। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, খালেদা জিয়ার চিকিৎসকরা যারা তার চিকিৎসা করে এসেছেন গত এক যুগ ধরে, সেই চিকিৎসকদের নিয়ে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। আপনারা অবিলম্বে আইনে যা আছে তাই করুন।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে ঢাকাস্থ ফেনী জাতীয়তাবাদী ছাত্র ও যুব ফোরামের উদ্যোগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এই আলোচনা সভা হয়। সংগঠনের সভাপতি ওমর ফারুক ডালিমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলু, আবদুল আউয়াল মিন্টু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ভিপি জয়নাল আবেদীন, প্রচার সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, সাবেক রেহানা আখতার রানু, ওয়াদুদ ভূঁইয়া প্রমুখ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

সাবেক এই আইনমন্ত্রী বলেন, আমাদের সংশোধনী জেলকোডে আছে যে, আমি যদি জেলখানায় যাই, জেলখানায় যাওয়ার আগে আমি অসুস্থ থাকতাম, তখন যেসব ডাক্তাররা আমার চিকিৎসা করতেন সেই চিকিৎসকদের দিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। আজকে দুই মাসের বেশি হয়ে গেছে বেগম খালেদা জিয়া জেলখানায় আছেন। আমরা যখন তার সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম উনি নিজেই আমাদের বলেছেন, আমি মোটামোটি ভালোই আছি, তবে আমার ব্যথাটা একটু বেড়েছে। এখন কাকে দরকার? যারা ১০/২০ বছর ধরে তাকে চিকিৎসা দিয়ে সেবা করেছেন, পরামর্শ দিয়েছেন তাদের। সেই চিকিৎসকই জানতে পারবে কিভাবে রোগীর চিকিৎসা করা যায়। হঠাৎ করে নতুন একজন চিকিৎসক আনবেন এটাতে লাভ হবে না।

হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে মওদুদ বলেন, মানসিক নয়, শারীরিকভাবে এখন বেগম খালেদা জিয়াকে আরো দুর্বল করা। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে তাঁর (খালেদার) স্বাস্থ্য ভালো নয়, শারীরিক ভাবে সুস্থ নয় সেজন্য তাকে আদালতে হাজির করা যাচ্ছে না। এর অর্থ কি? এটা হল ষড়যন্ত্রের অংশ।  আজকে যদি তার স্বাস্থ্যের কোনো রকমের অবনতি ঘটে তাহলে সম্পূর্ণ দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে এবং এদেশের মানুষ এই সরকারকে ক্ষমা করবে না। আমরা চাই না বেগম জিয়ার স্বাস্থ্যের অবনতি হোক।

খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলন সম্পর্কে তিনি বলেন, আমরা বলেছি, তার মুক্তির জন্য আইনি লড়াই করব, সাথে সাথে রাজপথেও থাকব। আইনি লড়াইয়ের সীমাবদ্ধতা আছে কিন্তু জনতার আন্দোলনের সীমাবদ্ধতা নাই। সময় খুব কম। সেজন্য আমাদেরকে প্রস্তুতি নিতে হবে। এই আন্দোলনকে আমাদের ধীরে ধীরে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে যখন সরকার বাধ্য হবে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে এবং দেশের একটি নির্দলীয় সরকার গঠনের মাধ্যমে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা। এর কোনো বিকল্প নাই। যদি সরকার সমঝোতায় না আসে এর উত্তর রাজপথ দেবে। খালেদা জিয়াকে নিয়েই একাদশ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন মওদুদ আহমদ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ