ঢাকা, শনিবার 7 April 2018, ২৪ চৈত্র ১৪২৪, ১৯ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কারাগারে ‘ভালো নেই’ অসুস্থ খালেদা জিয়া

গতকাল শুক্রবার নাজিম উদ্দিন রোডস্থ বিএনপি চেয়ারপার্সন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাৎ শেষে মিডিয়া ব্রিফিং করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর -সংগ্রাম

মোহাম্মদ জাফর ইকবাল : কারাগারে ভালো নেই অসুস্থ খালেদা জিয়া। গত বেশ কয়েকদিন ধরেই বিএনপির পক্ষ থেকে এই অভিযোগ আনা হচ্ছে। দলটির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, কারাগারে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন না। বেগম জিয়া যে অসুস্থ তার প্রমাণ আরও আগে পাওয়া গেছে। তিনি অসুস্থ থাকায় আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ আদালতে হাজির করা যায়নি। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তার মামলার শুনানী করা হয়েছে। তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা একাধিকবার আবেদন করেও সাক্ষাতের অনুমতি পাছেন না। গতকাল শুক্রবার বেগম জিয়ার সাথে কারাগারে দেখা করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সাক্ষাৎ শেষে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, খালেদা জিয়াকে কারাগারে চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছেনা। তিনি কারাগারে ভালো নেই। 

প্রসঙ্গত, গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হয়। এরপর পুরান ঢাকার পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারকে বিশেষ কারাগার ঘোষণা দিয়ে খালেদা জিয়াকে সেখানে রাখা হয়।

মহাসচিবের সাক্ষাৎ: দুদকের হাস্যকর মামলায় কারাগারে আটক বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া অসুস্থ বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল শুক্রবার বেগম জিয়ার সাথে একঘন্টা সাক্ষাৎ করে এসে কারাগারের বাইরে সাংবাদিকদের কাছে বিএনপি মহাসচিব এই কথা জানান। তিনি বলেন, ম্যাডামের স্বাস্থ্য খুব ভালো নয়। তার যে আর্থারাইটিজের সমস্যা এটা বেশ বেড়ে গেছে। তার হার্টেও কষ্ট হয়। যেটাকে কিছুটা স্নায়ুয়িক সমস্যা বলা হয়, সেটাও দেখা দিয়েছে। তিনি এখন সত্যিকার অর্থে স্বাস্থ্য সমস্যায় পড়েছেন। এজন্য প্রয়োজনীয় যে চিকিৎসা দরকার, দুঃখজনকভাবে ওই চিকিৎসা এখনো তিনি পাচ্ছেন না। কারণ তার যারা চিকিৎসা করতেন ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের এখনো দেখা করতে দেয়া হয়নি। অবিলম্বে ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাতের ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আবারো দাবি জানান মির্জা ফখরুল।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা মনে করি যে, যারা তার নিয়মিত চিকিৎসা করেন, তাদেরকে দিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হোক এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দরকার তা অবিলম্বে দেয়া উচিৎ বলে আমরা মনে করি।

গতকাল বিকেল ৪টার থেকে পুরনো ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে ঢাকা কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আসেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রায় এক ঘন্টা তার সাথে খালেদা জিয়ার সাক্ষাৎ হয়েছে বলে জানা গেছে।

এর আগে গত ২৯ মার্চ খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে রওনা হয়েও পরে সাক্ষাৎ স্থগিত করা হয় বিএনপি নেত্রীর অসুস্থতার কারণে। সর্বশেষ গত ৭ মার্চ মির্জা ফখরুলসহ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাত নেতা খালেদা জিয়ার সঙ্গে কারাগারে দেখা করার সুযোগ পেয়েছিলেন। ওইদিন স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং খালেদা জিয়ার একান্ত সচিব এম বি এম আবদুস সাত্তারও ছিলেন মির্জা ফখরুলের সঙ্গে। খালেদা জিয়ার বোন সেলিনা ইসলাম, ছোট ভাই শামীম এস্কান্দর, স্ত্রী কানিজ ফাতিমাসহ পরিবারের সদস্যরা একাধিকবার কারাগারে গিয়ে দেখা করে এসেছেন। এছাড়া খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরাও দুই দফা কারাগারে দেখা করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের সাথে।

খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য কেমন দেখলেন প্রশ্ন করা হলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আপনারা যেটা জানতে চাচ্ছেন। বন্দী জীবনে উনি (খালেদা জিয়া) অভ্যস্ত নন। তাকে যখন বন্দী করে রাখা হয় তখন চাপ পড়েই। তবে উনার মনোবল অনেক শক্ত। উনি আমাদের চেয়েও শক্ত মনের মানুষ। উনি (খালেদা জিয়া) বার বার একথা বলেছেন যে, আমার জন্য আপনারা কেনো ভাববেন না। আমি ভালো আছি, আমি শক্ত আছি এবং আমার এসব ছোট-খাটো সমস্যা। এগুলোতে আমার কোনো সমস্যা করবে না। 

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ম্যাডাম মুখে কিছু না বললেও কারাগারে তিনি বেশ অসুস্থ। তিনি ভালো নেই। কারাগারে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাচ্ছেন না খালেদা জিয়া। সরকার তাদের চিকিৎসক দিয়ে তার (খালেদা জিয়া) স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়েছেন। এটি পুরনো খবর।

খালেদা জিয়ার বার্তা কী জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশে যে সংকট বিরাজ করছে, সেই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য তিনি মনে করেন- একমাত্র পথ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেই সেটা করা সম্ভব। সেই জন্য যে চলমান আন্দোলন আছে তাকে তিনি চালিয়ে যেতে বলেছেন। আন্দোলনের মধ্য দিয়েই গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে নিয়ে আসার জন্য তিনি মনে করেন সেটাই একমাত্র পথ। একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, সরকারের উচিৎ হবে এই বিষয়টাকে কগলিলেন্সে নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময়ে বিএনপি চেয়ারপার্সনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান ও মহাসচিব একান্ত সহকারী কৃষিবিদ ইউনুস আলী উপস্থিত ছিলেন।

অনুমতি মিলেনি: জানা গেছে, ব্যক্তিগত চিকিৎসক দিয়ে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার অনুমতি মেলেনি এখনও। আজ শনিবার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করবেন বলে কারা ও বিএনপির দলীয় সূত্র জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ এপ্রিল) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে কারা কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে জেল কোড অনুযায়ী খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, বিএনপির পক্ষ থেকে ব্যক্তিগত চিকিৎসক দিয়ে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিষয়ে একটি আবেদন করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে কারা বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কারা কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে কারা অধিদফতরের একজন কর্মকর্তা জানান, ব্যক্তিগত চিকিৎসক দিয়ে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষ কোনও আবেদন এখনও (বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা) পায়নি। আবেদন করা হলে কারা কর্তৃপক্ষ সেটা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে। সেখান থেকে অনুমতি মিললে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ছাড়া এ বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ নিতে অপারগ কারা কর্তৃপক্ষ। কারা সূত্র আরও জানায়, খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী তারা ব্যবস্থা নিচ্ছেন। তাকে ওষুধসহ বিভিন্ন পথ্য খাওয়ানোর চেষ্টা চলছে। তবে কোনও কোনও ক্ষেত্রে তিনি ওষুধ খেতে গড়িমসি করেন। 

খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে বিএনপি সরব হয়ে উঠলে গত রোববার কারা কর্তৃপক্ষের অনুরোধে চার সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের অর্থোপেডিকস বিভাগের অধ্যাপক মো. শামসুজ্জামান শাহীনের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির অন্য তিন সদস্য হচ্ছেন, একই হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক মনসুর হাবীব, মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক মো. টিটু মিয়া ও ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক সোহেলী রহমান। ওইদিনই তারা দুপুর সোয়া ১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত প্রায় একঘণ্টা খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। এর দুদিন পর মঙ্গলবার মেডিক্যাল বোর্ড খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে কিছু সুপারিশ করে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন কারা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে বলে জানান ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন।

বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে মেডিক্যাল বোর্ডের দেওয়া স্বাস্থ্য প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল সাংবাদিকদের বলেন, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চার সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড খালেদা জিয়ার এক্স-রে ও রক্ত পরীক্ষার সুপারিশ করেছে। প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী খালেদা জিয়ার চিকিৎসা দেবে সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব (কারা) শিরীন রুবী বলেন, মেডিক্যাল বোর্ডের বিষয়ে আমরা অবগত থাকলেও খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকের দেখা করার বিষয়ে কোনও আবেদনের কথা আমার জানা নেই।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের প্রধান ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিকস বিভাগের অধ্যাপক ডাক্তার মো. শামসুজ্জামান শাহীন বলেন, স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে আমরা প্রতিবেদন দিয়েছি। এখন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে কারা কর্তৃপক্ষ।

বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডাক্তার মীর ফাওয়াজ হোসেন বলেন, ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) সঙ্গে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক দেখা করার জন্য কারা কর্তৃপক্ষ থেকে এখনও কোনও অনুমতি দেয়া হয়নি। তার স্বাস্থ্যের বিষয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। অনুমতি দেয়া হলে তখন তার পুত্রবধূ ডা. জোবায়দা রহমান ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান সিদ্ধান্ত নেবেন কোন কোন চিকিৎসক খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করবেন।

খালেদা জিয়ার একান্ত সচিব আবদুস সাত্তার বলেন, ব্যক্তিগত চিকিৎসক দিয়ে বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি আবেদন করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে কারা বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এখন কারা কর্তৃপক্ষের ডাকের অপেক্ষায় আছি আমরা।

নেতাদের প্রতিক্রিয়া: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, খালেদা জিয়াকে কারাগারে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছেনা। তিনি বলেন, তার সাথে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের দেখা করতে পর্যন্ত দেয়া হচ্ছেনা। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের উদ্দেশ্য খারাপ বলেই ম্যাডামের চিকিৎসা করাতে বাধা দিচ্ছে। তাদের উদ্দেশ্য যদি ভালো হতো তাহলে খালেদা জিয়া যে অসুস্থ সেজন্য তার ব্যক্তিগত ডাক্তারকে চিকিৎসার জন্য যেতে দিতো। ১/১১ সময় খালেদা জিয়া জেলে থাকলেও তার চিকিৎসার জন্য ব্যক্তিগত ডাক্তার দেয়া হয়েছিল। তাহলে এখন তাকে দেয়া হবে না কেন?

স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, কারাগারে অসুস্থ খালেদা জিয়ার জন্য সরকারের মেডিকেল বোর্ড গঠন ‘লোক দেখানো’ ছাড়া আর কিছুই নয়। তিনি বলেন, এই সরকার মেডিকেল বোর্ড করেছেন, এই সরকার মানুষকে দেখানোর জন্য নানা রকমের কৌশল অবলম্বন করেছেন। কেনো? এটা দুরভিসন্ধিমূলক। সরকার দ্বারা এই যে মেডিকেল বোর্ড করা- এগুলো লোকদেখানো। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, উনার (খালেদা জিয়া) চিকিৎসকরা যারা তার চিকিৎসা করে এসছে গত এক যুগ যাবত, সেই চিকিৎসকদের নিয়ে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। আপনারা (সরকার) অবিলম্বে আইনে যা আছে তাই করুন।

সাবেক আইনমন্ত্রী বলেন, আমাদের সংশোধনী জেলকোডে আছে যে, আমি যদি জেলখানায় যাই, জেলখানায় যাওয়ার আগে আমি অসুস্থ থাকতাম, তখন যেসব ডাক্তাররা আমার চিকিৎসা করতেন সেই চিকিৎসকদের দিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। আজকে দুই মাসের উপরে হয়ে গেছে বেগম খালেদা জিয়া জেলখানায় আছেন। আমরা যখন তার সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম উনি নিজেই আমাদের বলেছেন, আমি মোটামোটি ভালই আছি তবে আমার ব্যথাটা একটু বেড়েছে। এখন কাকে দরকার? যারা ১০/২০ বছর যাবত তাকে চিকিৎসা দিয়ে সেবা করেছেন, পরামর্শ দিয়েছেন তাদের। সেই চিকিৎসকই জানতে পারবে কিভাবে রোগীর চিকিৎসা করা যায়। হঠাৎ করে নতুন একজন চিকিৎসক আনবেন এটাতে লাভ হবে না। হুশিয়ারি উচ্চারণ করে মওদুদ বলেন, মানসিক নয়, শারীরিকভাবে এখন বেগম খালেদা জিয়াকে আরো দুর্বল করা। আজকে যদি তার স্বাস্থ্যের কোনো রকমের অবণতি ঘটে তাহলে সম্পূর্ণ দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে এবং এদেশের মানুষ এই সরকারকে ক্ষমা করবে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ