ঢাকা, শনিবার 7 April 2018, ২৪ চৈত্র ১৪২৪, ১৯ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে ইলিশের বাজারে অস্থিরতা

 

স্টাফ রিপোর্টার : পহেলা বৈশাখের বাকি মাত্র এক সপ্তাহ। এখন থেকেই শুরু হয়েছে ইলিশ মাছের দাম বাড়ানোর প্রতিযোগিতা। ইলিশের বাজারে শুরু হয়েছে অস্থিরতা। অস্বাভাবিক হারে বাড়ানো হচ্ছে দাম। বাংলা নতুন বছর এলেই ইলিশের দাম বেড়ে যাওয়া যেন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসময় ইলিশের যোগানও ভালো পাওয়া যায়। অনেকে বেশি দামে ইলিশ বিক্রি করার জন্য আগে থেকেই মজুত করেছে। আর ইতোমধ্যে উচ্চ মূল্যে বিক্রি হচ্ছে রাজধানীর বাজারে। দেড় হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে দেশের জাতীয় এ মাছটি।

রাজধানীর কারওয়ানবাজারে দেখা যায়, বড় ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৫০০ টাকা, দেড় কেজি ইলিশ ৩ হাজার টাকা থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা কেজি, হিমায়িত ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১৪শ’ থেকে ১৬শ’ টাকা কেজি। 

মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, চাহিদা বেশ ভাল থাকায় তারা খুব খুশি। গুলশান থেকে মাছ কিনতে আসা মিজান জানান, পরে দাম বেড়ে যেতে পারে তাই আগেই কিনতে এলাম। দাম এখনি অনেক বেশি, তাও বৈশাখ বলে কথা। তাই ১১০০ টাকা দরে ৩ কেজি কিনলাম।

ইলিশের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেলেও অন্যান্য মাছের দাম নতুন করে বাড়েনি। ৬ কেজির অধিক ওজনের প্রতি কেজি রুই মাছ ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, একই ওজনের কাতল ৫০০ টাকা, পাঙ্গাশ ১৫০ থেকে ২০০, গলদা চিংড়ি ৬০০ থকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। 

এদিকে বৃদ্ধি পাওয়া গোশতের দামও কমেনি। বরং ব্রয়লার মুরগীর দাম আরো বেড়েছে। গরুর গোশত বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকা, খাসি ৮০০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৪০-১৪৫ টাকা এবং পাকিস্তানি লাল মুরগি ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

রাজধানীর কাঁচা বাজারে দেখা গেছে, পাকা টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি। মুলা বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা দরে। করলা বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা কেজি। এছাড়া বেগুন (কালো) ৪০ টাকা ও বেগুন (সাদা) ৬০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা, ও ঢেড়শ ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মসলা বাজারে কাঁচমরিচ বিক্রি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, দেশী পেঁয়াজ ৪৫-৫০ টাকা, আমদানি করা পেঁয়াজ ৪০-৪৫, আদা ৮০-১৩০ টাকা এবং রসুন মানভেদে ৮০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়।

বৃদ্ধি পাওয়া চালের দাম এখনো কমেনি। বাজারে স্বর্না চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৭ টাকা কেজি দরে। পায়জাম বিক্রি হচ্ছে ৪৮ টাকা, বিআর২৮ কেজি প্রতি ৫০ থেকে ৫২ টাকা কেজি। এছাড়া ভাল মানের নাজিরশাইল ৬৫ টাকা, ইন্ডিয়ান নাজিরশাইল ৬২ টাকা এবং সাধারণ মানের নাজিরশাইল ৫২ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে। এদিকে পোলাও চাল ৮৫ টাকা ও বিরুই (লাল) চাল ৬৫ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে জানানো হয়, আসন্ন রমজানে বাজার মূল্য স্থিতিশীল রাখতে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) খোলা বাজারে সাশ্রয়ী দরে ১৮৭টি পয়েন্টে পণ্য সামগ্রী বিক্রি করবে। টিসিবির পরিকল্পনা অনুয়ায়ী, চিনি ২ হাজার মেট্রিকটন, মশুর ডাল ১ হাজার ৫শ’ মেট্রিকটন, তেল ১ হাজার মেট্রিকটন বা ১০ লাখ ৮৬ হাজার ৯৫৭ লিটার, ছোলা ১ হাজার ৯৫৫ মেট্রিকটন এবং খেজুর ১শ’ মেট্রিকটন ক্রয়ের পরিকল্পনা নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

বৈঠকে বলা হয়, অস্ট্রেলিয়া হতে আমদানিকৃত ছোলা ও মশুর ডাল অতি দ্রুত চট্টগাম বন্দরে এসে পৌঁছবে এবং তা খালাস করে টিসিবির সব আঞ্চলিক কার্যালয়গুলোতে গুদামজাত করা হবে এবং রমজান উপলক্ষে বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে ১৮৭টি ট্রাকের মাধ্যমে টিসিবির পণ্য ভোক্তা সাধারণের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ