ঢাকা, শনিবার 7 April 2018, ২৪ চৈত্র ১৪২৪, ১৯ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আদালতের নির্দেশে সাংবাদিক ফয়সাল ও নাজিয়ার লাশ উত্তোলনের পর ফের দাফন

শরীয়তপুর সংবাদদাতা : নেপালে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত শরীয়তপুরের ডামুড্যার কৃতি সন্তান বৈশাখী টেলিভিশনের সাংবাদিক আহমেদ ফয়সাল ও একই দুর্ঘটনায় নিহত নাজিয়া আফরিন চৌধুরীর লাশ আদালতে নির্দেশে  উত্তোলনের পর ফের দাফন করা হয়েছে। দীর্ঘ ১৫ দিন পর কবর থেকে উভয়ের লাশ উত্তোলন করে রদবদলে পর গতকাল শুক্রবার রাত ৪টায় আহমেদ ফয়সালের লাশ তার নিজ বাড়ির আঙ্গিনায় এবং দুপুর সোয়া ১২টায় নাজিয় আফরিনের লাশ বনানী কবর স্থানে দাফন করা হয়। এ সময় উভয় স্থানে দুই পরিবারের স্বজনরা জানাযায় অংশগ্রহণ করে বলে জানায় নাজিয়া আফরিনের ভাই আলী আহাদ চৌধরী। 

জানা গেছে, নেপালের বিমান দুর্ঘটনায় নিহত শরীয়তপুরের বৈশাখী টেলিভিশনের সাংবাদিক আহমেদ ফয়সাল ও আরেক নিহত নাজিয়া আফরিন চৌধুরীর মরদেহ গত ১৯ মার্চ বনানীর আর্মি স্টেডিয়াম থেকে স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তরের সময় ভুল বসতঃ সাংবাদিক আহমেদ ফয়সালের লাশের পরিবর্তে ঢাকার নাজিয়া আফরিনের লাশ শরীয়তপুরের ডামুড্যায় ফয়সালের বাড়িতে নিয়ে আসে। পরে ফয়সালের লাশ নাজিয়া ভেবে বনানী কবরস্থানে ও নাজিয়ার লাশ ফয়সাল ভেবে নিহত ফয়সালের গ্রামের বাড়ি ডামুড্যা পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের সর্দার গার্ডেন বাড়ির আঙ্গিনায় দাফন করা হয়। লাশ দাফনের সময় তার স্বজনরা পলিথিনে মোড়ানো লাশের গায়ে ইংরেজীতে নাজিয়া আফরিন লেখা দেখেন। ফয়সালের লাশ নয় বিষয়টি নিশ্চিত হয়েও বিরূপ প্রতিক্রিয়া এড়াতে স্বজনরা নাজিয়া আফরিনের লাশই দাফন করেন। একই ভাবে ঢাকার সূত্রা পুরের টিপু সুলতান রোডের মৃত আলী আকবর চৌধূরীর মেয়ে নাজিয়া আফরিন চৌধুরী মনে করে সাংবাদিক ফয়সাল আহমেদের লাশ বনানী কবরস্থানে দাফন করে নাজিয়ার স্বজনরা। বিষয়টি উভয় পরিবার জানার পর ফের লাশ উত্তোলন করে নির্ধারিত স্থানে নতুন করে দাফনের জন্য আদালতের কাছে অনুমতি প্রাার্থনা করে পৃথক আবেদন করেন ফয়সাল ও নাজিয়ার পরিবার। উভয় পরিবারের হলফ নামায় তাদের লাশ ভুলক্রমে হস্তান্তর করা হয়েছিলো মর্মে আদালতে হলফনামায় মরদেহ ফের কবর থেকে উত্তোলনের করে রদবদলের পর দাফনের অনুমোতি প্রার্থনা করেন। লাশ হস্তান্তরের জন্য নিহত ফয়সাল আহমেদের ভাই সাইফুল ইসলামের আবেদনের প্রেক্ষিতে বুধবার (০৪ এপ্রিল) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শেখ হাফিজুর রহমান কবর থেকে লাশ উত্তোলন করে যার যার লাশ তার তার পরিবারের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেন। ঢাকার আদালতে ফয়সালের ভাই সাইফুলের আবেদনের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার বিকালে ঢাকার বনানী কবর স্থান থেকে সাংবাদিক আহমেদ ফয়সালের লাশ তার পরিবারের লোকজন উত্তোলন করে রাত ৩টায় শরীয়তপুরের ডামুড্যার নিজ বাড়িতে নেয়া হয়। এসময় আহমেদ ফয়সালের বাড়িতে ডামুড্যা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রোজী আক্তার ও ডামুড্যা থানা পুলিশের উপস্থিতিতে নাজিয়া আফরিন চৌধুরীর লাশ উত্তোলন করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং একই সাথে নিহত সাংবাদিক আহমেদ ফয়সালের লাশ জানাযা শেষে ওই কবরস্থানে দাফন করা হয়। নাজিয়ার স্বজনরা লাশ নিয়ে ঢাকায় পৌছে দুপুর সোয়া ১২টায় জানাযা শেষে বনানী কবরস্থানে দাফন করেন। 

নাজিয়া আফরিন চৌধুরীর ভাই আলী আহাদ চৌধুরী বলেন, আমরা আদালতের নির্দেশনা পেয়ে জেলা প্রশাসকের সাথে যোগা যোগ করি। একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের উপস্থিতিতে লাশ উঠিয়ে আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছে প্রশাসন। এর পর উভয় পরিবারের উপস্থিতিতে এবং জানাযায় অংশ গ্রহণ করে আমরা লাশ দাফন করি।

শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক কাজী আবু তাহের বলেন, নাজিয়া আফরিন চেীধুরীর লাশ উত্তোলনের জন্য আদালতের একটি নির্দেশনা পেয়ে ডামুড্যা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রোজী আক্তারকে নির্বাহী মেজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। ডামুড্যা থানা পুলিশের সহায়তায় লাশ উত্তোলন করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ