ঢাকা, শনিবার 7 April 2018, ২৪ চৈত্র ১৪২৪, ১৯ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খুলনায় বিএনপি নেতা নজরুল ইসলামের উদ্ধার নিয়ে নানা প্রশ্ন

 

খুলনা অফিস : খুলনা জেলা বিএনপির সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মোড়লকে কেউ অপহরণ বা গুম করেনি। ১৫ লাখ টাকা দেনার দায়ে তিনি কক্সবাজারের রামুতে আত্মগোপন করেছিলেন। শুক্রবার বিকেলে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সামনে নজরুল এ স্বীকারোক্তি প্রদান করেন। এর আগে শুক্রবার দুপুরে খুলনার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৃতীয় আদালতের বিচারক রওশন আরা রহমানের কাছে নজরুল একইভাবে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেন। তবে যেখান থেকে তিনি অপহৃত হয়েছেন তার আশেপাশের বাসিন্দারা হতবাক হয়েছেন, পুলিশের হাতে আটক অবস্থায় নজরুলের স্বীকারোক্তির কথা শুনে। মাদরাসা শিক্ষকের দাড়ি ছাটা অবস্থায় ছবি দেখে স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারছেন না কেউই। 

গত ১৭ মার্চ বিকেল থেকে নিখোঁজ ছিলেন বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম। স্বামী নজরুল ইসলামের নিখোঁজের ঘটনায় ওই দিন রাতে স্ত্রী তানজিলা বেগম ডুমুরিয়া থানায় একটি জিডি করেন। পরের দিন জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে খুলনা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলনে নজরুল ইসলামকে গুম করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে খুলনা জেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনা ও সাধারণ সম্পাদক আমীর এজাজ খান বলেছিলেন-দেশে বিরোধী রাজনৈতিক দমন পীড়ন বেড়েছে। এ অবস্থায় নজরুল ইসলাম নিখোঁজ থাকায় তারা শঙ্কা প্রকাশ করেন। তখনই বলেছিলেন-বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাউদ্দিনের মতো আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে তুলে নিয়ে গেছেন। ওই সাংবাদিক সম্মেলনে নজরুলের স্ত্রী তানজিলা বেগম তার স্বামী নজরুল ইসলাম মোড়লকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে ফেরত দেয়ার দাবি জানান।

শুক্রবার সাংবাদিক সম্মেলনে খুলনা জেলা পুলিশ সুপার নিজামুল হক মোল্যা বলেন, ১৭ মার্চ নজরুল যশোরের কেশবপুর হয়ে ঢাকায় যায়। পরের দিন ঢাকা থেকে কক্সবাজারের রামুতে যায়। রামুতে সাইফুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে থাকতো নজরুল ইসলাম। 

পুলিশ সুপার বলেন, সেখানে গিয়ে সে তার দাড়ি কামিয়ে ফেলে। পলাতক থাকা অবস্থায় একদিন কক্সবাজার পুলিশের সন্দেহ হলে নজরুল কোথা থেকে এখানে এসেছে এবং কি করে জানতে চায়। নজরুলের কথাবার্তা এলোমেলো মনে হয় পুলিশের। একপর্যায়ে খুলনার ডুমুরিয়ায় যে মাদরাসায় শিক্ষকতা করতো নজরুল সেই মাদরাসার অপর এক শিক্ষককে ফোন করে নিশ্চিত হয় তার বাড়ি খুলনায়। খুলনার ডুমুরিয়ার ওই শিক্ষকের কাছে করা ফোন নম্বরের সূত্র ধরে মোবাইল ট্রাকিংয়ের মাধ্যমে পুলিশ নিশ্চিত হয় নজরুল রামুতে আছে। পরবর্তীতে কক্সবাজার পুলিশের সহায়তায় খুলনা জেলা পুলিশ ও ডিবি অভিযান চালিয়ে বুধবার রাতে রামু থেকে বিএনপি নেতা নজরুলকে উদ্ধার করে। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন খুলনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) এস এম শফিউল্লাহ ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) সজীব খান, ডিবির ওসি শিকদার আক্কাস আলী ও ডুমুরিয়া থানার ওসি হাবিল হোসেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ