ঢাকা, শনিবার 7 April 2018, ২৪ চৈত্র ১৪২৪, ১৯ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সাঁতারের পর হতাশায় শুরু বাংলাদেশের ভারোত্তোলন

কামরুজ্জামান হিরু, গোল্ডকোস্ট, অস্ট্রেলিয়া থেকে : হতাশায় গোল্ড কোস্ট কমনওয়েলথ গেমস ভারোত্তোলন শুরু করলো বাংলাদেশ। গতকাল গোল্ড কোস্টের কারারা স্পোর্টস এন্ড লেইজার সেন্টারে অস্ট্রেলিয়ান সময় বিকাল ৫টায় শুরু হয় পুরুষ ভারোত্তোলনের ৬৯ কেজি ওজনশ্রেণীর খেলা। এতে লাল-সবুজ দলের শিমুল কান্তি সিনহা অংশ নিয়ে চরম ব্যর্থ হন। বলা যায় তিনি রীতিমতো লজ্জা দিয়েছেন জাতিকে। এই ইভেন্টে ১৪ জনের মধ্যে ১৩তমস্থান পান শিমুল। প্রতিযোগিতায় নেমে শিমুল ম্যাচে প্রথমবার ১১৫ কেজি ভার তুললেও পরের দুইবার ১২০ কেজি তুলতে গিয়ে ব্যর্থ হন। তিনি ক্লিন এন্ড জার্কে ১৪০ কেজি তুলতে গিয়ে টানা তিনবারই ব্যর্থ হন। বাংলাদেশের শিমুল কান্তি সিনহা ও নিউজিল্যান্ডের ভিসতার ভিলানো- এ দু’জন প্রতিযোগী মাত্র একবার করে ভার তুলতে সক্ষম হন। এই ওজনশ্রেণীতে ওয়ালসের গ্রেথ ইভান্স মোট ২৯৯ কেজি ভার তুলে স্বর্ণপদক জিতে নেন। গ্রেথ ম্যাচে ১৩০, ১৩৩ ও ১৩৬ কেজি তুলেন। ক্লিন এন্ড জার্কে ১৬০ ও ১৬৩ কেজি তুললেও ব্যর্থ হন ১৬৫ কেজি ভার তুলতে। তারপরও স্বর্ণ ঠিকই তার দখলে যায়। শ্রীলঙ্কার ইন্দ্রিকা সি দিশানায়েক রৌপ্য ও ভারতের দীপক লেদার পান ব্রোঞ্জপদক। এর আগে সকালে একই ভেন্যুতে মহিলাদের ৫৩ কেজি ওজনশ্রেণীতে বাংলাদেশের ফুলপতি চাকমা ব্যর্থতার পরিচয় দেন। তিনি ১৪ জনের মধ্যে ১২তমস্থান পান। ফুলপতি ¯œ্যাচে তুলেন যথাক্রমে ৬২, ৬৬ ও ৬৮ কেজি ভার। ক্লিন এন্ড জার্কে ৮০ ও ৮৫ কেজি তুললেও ৮৬ কেজি তুললে গিয়ে অসহায় আত্মসমর্পণ করেন। এই ইভেন্টের স্বর্ণ যায় ভারতের ঘরে। ভারতীয় ভারোত্তোলক সানজিতা চানু ¯œ্যাচে ৮১, ৮২ ও ৮৩ কেজি ভার তুলে নতুন গেমস রেকর্ড গড়েন। এবং ক্লিন এন্ড জার্কে সানজিতা ১০৪ ও ১০৮ কেজি তুললেও ১১২ কেজি তুলতে গিয়ে ব্যর্থ হন। তবে ঠিকই স্বর্ণপদক জিতে নেন তিনি। সানজিতা মোট ভার তুলেন ১৯২ কেজি। তারচেয়ে ৩৯ কেজি কমে ফুলপতি চাকমা মোট ভার তুলেন ১৫৩। এই ইভেন্টে পাপুয়া নিউগিনির লোরা দিকা তোয়া রৌপ্য ও কানাডার রাসেল লেবলাংক জিতে নেন ব্রোঞ্জপদক। এই ভেন্যুতে সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত নারী ভারোত্তোলনের ৫৮ কেজি ওজনশ্রেণীতে বাংলাদেশের ফাহিমা আক্তার ময়না দারুণ শুরুর আভাস দিলেও যথারীতি ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি ¯œ্যাচে ৬৩ ও ৬৬ কেজি ভার তুললেও অল্পের জন্য ব্যর্থ হন ৬৯ কেজি তুলতে। ক্লিন এন্ড জার্কে ময়না তুলেন ৮০, ৮৫ ও ৮৮ কেজি ভার। ফলে ১৫ জন প্রতিযোগির মধ্যে তার জায়গা হয় ১৩তম স্থানে। এই ইভেন্টে স্বর্ণপদক জিতে নেন স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার টিয়ে ক্লার টমি। তিনি ¯œ্যাচে ৮০, ৮৪ ও ৮৭ কেজি এবং ক্লিন এন্ড জার্কে ১০৭, ১১১ ও ১১৪ কেজিসহ মোট ২০১ কেজি ভার তুলে সেরা হন। কানাডার টালি রৌপ্য এবং সোলোমান আইল্যান্ডের জেনলি উইনি ব্রোঞ্জপদক জিতে নেন। আজ নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে ভার তুলবেন গৌহাটি-শিলং সাউথ এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের পক্ষে প্রথম স্বর্ণজয়ী ভারোত্তোলক মাবিয়া আক্তার সিমান্ত। কারারা স্পোর্টস এন্ড লেইজার সেন্টারে তিনি ৬৩ কেজি ওজনশ্রেণীতে খেলবেন।

ভালো কিছু উপহার দিতে পারেননি সাঁতারুরা : গোল্ড কোস্টের অপটাস একুয়েটিক সেন্টার থেকে ভালো কিছু উপহার দিতে পারেননি বাংলাদেশের সাঁতারুরা। গতকাল সাঁতারের দ্বিতীয় দিনে হিটে নেমে বাংলাদেশের নাজমা খাতুন একজনের আগে নিজের জায়গা করতে পারলেও সর্বশেষ স্থান নিয়েই সন্তুষ্ঠ থাকতে হয়েছে মো.আরিফুল ইসলামকে। নাজমা খাতুন তার দুই নম্বর হিটে ৬ জনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৫ম স্থান লাভ করেছেন। মহিলাদের ৫০ মিটার ফ্রিস্টাল ইভেন্টে তিনি ৩১.১০ সেকেন্ড সময় নিয়ে নির্ধারিত দূরত্ব অতিক্রম করেন। এ সময় নাজমা শুধুমাত্র পিছনে ফেলেছেন এন্টিগুযার প্রতিনিধিত্বকারী আলিয়া ম্যাগিনলেকে। গোলকোস্টের অপটাস অ্যাকুয়েটিক সেন্টারে অনুষ্ঠিত ওই হিটে ২৮.৪৫ সেকেন্ড সময় নিয়ে প্রথম হয়েছেন সিসিলি দ্বীপপুঞ্জের সাঁতারু তেরেজে সওকাপ। ২৮.৬৮ সেকেন্ড সময় নিয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন জিব্রাল্টার ক্রিস্টিয়ানা লিনারেস। আজ মহিলাদের ৫০ মিটার বাটারফ্লাইয়ে ফের পুলে নামবেন নাজমা। একই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত পুরুষদের ১০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকে তিন নম্বর হিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমে ৭ জনের মধ্যে সর্বশেষ অবস্থানেই থেকে গেছেন বাংরাদেশের আরেক সাঁতারু মো. আরিফুল ইসলাম। ১মিনিট ৭.৫১ সেকেন্ড সময় নিয়েছেন কিশোরগঞ্জের এই সাঁতারু। উত্তর আয়ারল্যান্ডের জেমি গ্রহাম ডিসকোয়ালিফাই হওয়ায় ৮ জনের দলটি ৭ জনের দলে পরিণত হয়েছিল। এই হিটে ১মিনিট ০.২৯ সেকেন্ড সময় নিয়ে প্রথম হযেছেন স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার জ্যাক প্যাকার্ড। ০.৬১ সেকেন্ড বেশী সময় নিয়ে দ্বিতীয় হযেছেন স্কটল্যান্ডের রস মার্ডচ। হিট শেষে দুই সাঁতারুই অপ্রতুল সুযোগ সুবিধার কথা উল্লেখ করে বলেন, এখানকার মত সুবিধায় অনুশীলন করার সুযোগ তারা পান না। ফলাফল আরো ভাল হতে পারতো উল্লেখ করে তারা বলেন, দেড় মাস ধরে তারা কোরিয়ান কোচের অনুশীলন থেকে বঞ্চিত ছিলেন। যে কারণে ফলাফল বেশী খারাপ হয়েছে। অন্যথায় আরো একটু ভাল করা যেত।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ