ঢাকা, শনিবার 7 April 2018, ২৪ চৈত্র ১৪২৪, ১৯ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কুড়িগ্রামে নদী গর্ভে বিলীন হচ্ছে শিক্ষাঙ্গনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা

ধরলা নদীর গর্ভে বিলীন হচ্ছে নন্দ দুলালের ভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

মোস্তাফিজুর রহমান কুড়িগ্রাম থেকে: কুড়িগ্রাম সদর উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায়  দিনের পর দিন নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে শিক্ষাঙ্গনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, ফসলী জমি, ঘরবাড়ী ও রাস্তা-ঘাট। বিলীন হওয়া এইসব শিক্ষাঙ্গনের শিক্ষার্থীদের অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে পড়ালেখা। মানসিকভাবেও ভেঙ্গে পড়ছেন এসব শিক্ষাঙ্গনের পাঠরত শিক্ষার্থীরা। বিশেষজ্ঞদের অভিমত শিক্ষা বিভাগ পরিকল্পনা ছাড়াই এসব বিদ্যালয় নদীর তীরে গড়ে তোলার অমুমোদন দেয়ায় যেমনিভাবে প্রতি বছর শিক্ষার্থীদের বিশাল অংশের ব্যাহত হয় পড়ালেখা তেমনি আবার বিশাল অংকের রাষ্ট্রীয় অর্থ খোয়া যাচ্ছে নদী গর্ভে । 

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, কুড়িগ্রাম জেলায় গত ৫ বছরে ৩০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ১৭টি মাদ্রাসা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গছে। এতে প্রায় ৫০ হাজার শিক্ষার্থীর পড়ালেখা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। 

সম্প্রতি গত বন্যায় ভেঙ্গে গেছে চিলমারী উপজেলার চর কোদাইমারীর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মন্তলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খোদ্দ বাশপাতারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

অপরদিকে, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ২নং চর যাত্রাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নন্দ দুলালের ভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ভাঙ্গনের শিকার এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, পার্শ্ববর্তী অন্য বিদ্যালয় কিংবা খোলা আকাশের নিচে পাঠদান করছে। এমন পরিস্থিতিতে শুধুমাত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৪ হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন হয়ে পড়েছে অনিশ্চিত। 

জেলার অভিজ্ঞ মহলের দাবী, এসব কোমলমতি শিশুরা বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীনের কারণে খোলা আকাশের নিচে গরম উপেক্ষা করে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এতে জ্বর, সর্দি-কাশি লেগেই থাকছে। এভাবে ক্লাস চালিয়ে যাওয়ার কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছে প্রায় ৪ হাজার শিক্ষার্থী।

চর যাত্রাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রশিদ বলেন, ১৯৮৫ইং সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা পায়। সে সময় দুধকুমর নদী অনেক দূরে ছিল। আমরা কখনোই ভাবি নাই নদী এত কাছে আসবে। স্কুল ভবনটি নদী গর্ভে বিলীন হওয়ায় খোলা আকাশের নিচে ক্লাস নিতে হচ্ছে, শিক্ষার্থীরা খোলা আকাশের নিচে ক্লাস করতে চায় না। এতে উপস্থিতি কমে গেছে। 

এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার রায় চৌধুরী জানান, যেসমস্ত বিদ্যালয় নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে আমরা তালিকা তৈরি অনুযায়ী নতুন জায়গায় বিদ্যালয় স্থাপনের প্রস্তাব পাঠিয়েছি। আশা করি খুব শীঘ্রই এসব বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ করা হবে। যতদিন হয় নাই পার্শ্ববর্তী বিদ্যালয় কিংবা কলেজে এসব শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ