ঢাকা, শনিবার 7 April 2018, ২৪ চৈত্র ১৪২৪, ১৯ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

পদ্মা নদীর ডান তীর রক্ষা প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের দাবীতে মানব বন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশ

শরীয়তপুর সংবাদদাতা: শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া ও জাজিরা উপজেলার পদ্মা নদীর ডান তীর রক্ষা প্রকল্প আসন্ন বর্ষা মৌসুমের পূর্বে বাস্তবায়নের দাবীতে সড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করেছে নদী ভাঙ্গন কবলিত হাজার হাজার এলাকাবাসী। বুধবার সাকল ৭টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত নড়িয়া পৌরসভা, নড়িয়া বাজার, মুলফৎগঞ্জ বাজার, সুরেশ্বর বাজার, শরীয়তপুর-নড়িয়া সড়কের উপজেলার সামনে নড়িয়া- মঙ্গল মাঝিরঘাট সড়কের গোলাম মাওলা সেতুর সামনে, পাঠান বাড়ী সড়কে গাছেরগুড়ি ফেলে এবং টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তায় বেরিকেট দিয়ে বিক্ষোভ করে। এ সময় স্কুল-কলেজ-মাদরাসা এবং নড়িয়া বাজারের সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে সর্বস্তরের হাজার হাজার নারী-পুরুষ এ সড়ক অবরোধ, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করেন। বিক্ষোভ চলাকালে নড়িয়া-শরীয়তপুর, নড়িয়া-ভেদরগঞ্জ, নড়িয়া-মঙ্গলমাঝির ঘাট সড়কে সকল সড়কে সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। 

বিক্ষোভ কর্মসূচীতে ভাঙ্গন কবলিত এলাকাবাসী জানান, ৭০ দশক নড়িয়া ও জাজিরা এলাকায় পদ্মার ভাঙ্গন শুরু হলে ২০১৬ সালের ২৫ জুলাই গভীর রাত থেকে জেলার জাজিরা উপজেলার কুন্ডেরচর ইউনিয়নে শুরু হয় রাক্ষুসী পদ্মার সর্বগ্রাসী ভাঙ্গন। বিরামহীন এ ভাঙ্গন চলতে থাকে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত। যা শত বছরের ইতিহাসে পদ্মার ভয়াবহ এ রকম রুপ কেউ দেখেনি। ভয়াবহ ভাঙ্গনে গত ২ বছরে নড়িয়া ও জাজিরা উপজেলার কুন্ডেরচর, মোক্তারের চর, কেদারপুর ইউনিয়ন ও নড়িয়া পৌরসভা পদ্মা নদীর ভাঙনে কবলিত হয়ে বিরাট একটি অংশ বিলিন হয়ে গেছে। একই সাথে একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ হাট-বাজার, মসজিদ-মাদ্রাসা নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। এ ভয়াবহ ভাঙ্গন রোধে সকরার পদ্মা নদীর দক্ষিন (ডান) তীর রক্ষা বাধ প্রকল্প গ্রহন করে। এরপর গত ২ জানুয়ারী তীর রক্ষা বাধ নির্মানের জন্য ১ হাজার ৯৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে তা একনেকের বৈঠকে পাস করে। বর্তমানে এ তীর রক্ষা বাধ আমলাতন্ত্রের জটিলতায় পরে বাস্তবায়নে বিলম্ব হচ্ছে দাবী করেছে বিক্ষোভকারীরা। 

এ বর্ষা মৌসুমের পূর্বে তীর রক্ষা বাধের কার্যক্রম শুরু না করা হলে আগামী বর্ষায় নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, নড়িয়া বাজার, মুলফৎগঞ্জ বাজার, খাদ্য গুদাম, উপজেলা কমপ্লেক্স, নড়িয়া সরকারী কলেজ সহ সরকারী-বেসরকারী সকল স্থাপনা নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যাবে। এ ছাড়াও জাজিরা উপজেলার কুন্ডেরচর ইউনিয়নের অবশিষ্ট অংশ, বিলাশপুর ও পালেরচর ইউনিয়নের স্কুল, কলেজ, মাদরাসা সহএকটি বৃহৎ অংশ ভাঙ্গন ঝুঁকিতে রয়েছে। আগামী বর্ষা মৌসুমের আগে পদ্মা নদীর তীর রক্ষাবাঁধ বাস্তবায়ন না হলে এবং নদীর ¯্রােত পরিবর্তন না হলে বর্ষা মৌসুমেই সরকারী-বে-সরকারী প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকারও বেশী ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে আগামী বর্ষা মৌসুমের পূর্বে পদ্মা নদীর তীর রক্ষা বাধের দ্রুত বাস্তবায়নের দাবীতে ভাঙ্গন কবলীত এলাকার লোকজন এ কর্মসূচির আয়োজন করে।

মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ শেষে নড়িয়া বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এক বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, শরীয়তপুর জেলা আইনজীবি সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট আবুল কালাম আজাদের (গেরিলা আজাদ), কেদারপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল বাশার দেওয়ান, ইমাম হোসেন দেওয়ান, নড়িয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওবায়দুল হক, নড়িয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান জাকির হোসেন বেপারী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাছিন, মোজাম্মেল বেপারী, আওয়ামীলীগ নেতা আনোয়ার হোসেন বাদশা শেখ, কাউন্সিলর সহিদুল ইসলাম সরদার, মহসীন আলী ঢালী, সাইদুল হক মুন্না প্রমুখ। 

এ সময় এডভোকেট আবুল কালাম আজাদ, সাঈদুল হক মুন্নাসহ বক্তারা বলেন, সরকার যে উদ্দেশ্য নিয়ে একনেকের বৈঠকে প্রায় ১১শ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে, সেই এলাকার জনগনই যদি তাদের বাপ-দাদার ভিটে মাটিতে থাকতে না পাড়ে তাহলে এলাকার জনগনের কোন উপকারে আসবে না এ বরাদ্দ দেয়া টাকা। এ বছর ভাঙ্গন রোধে বেড়িবাঁধ করা না হলে অচিরেই এ এলাকাটি একটি বিচ্ছন্ন দিপে পরিনত হবে। তাই আমরা মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর নিকট জোর দাবী জানাচ্ছি সকল আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করে বর্ষার পূর্বেই প্রকল্পের কাজটি বাস্তবায়নের জন। এটা নড়িয়া ও জারিা উপজেলার সর্বস্থরের জনগণের প্রাণের দাবী। চলতি মাসের মধ্যে কাজ শুরু করা না হলে আমরা স্বেচ্ছায় কারাবরন এবং আমরন কর্মসূচীর ঘোষনা করবো।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ