ঢাকা, শনিবার 7 April 2018, ২৪ চৈত্র ১৪২৪, ১৯ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বাঁশখালীতে তীত করলার বাম্পার ফলন

বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা: চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার কৃষকরা এখন আর বসে নেই। তাদের পুজির কথা চিন্তা করে তাঁরা উপজেলার কৃষি বিষয়ক কর্মকর্তার মাধ্যমে কোন সময়ে কোন শাক-সবজি রোপন করবে। কম পুঁজিতে অল্প সময়ে নিজের আত্মবিনিয়োগ করা অর্থ ও ফসলের ক্ষেত থেকে শাক-সবজি বিক্রীর মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যে কিভাবে অর্থ উপার্জন করা যায় সেই স্বপ্নে দিন গুনছেন কৃষকরা। বাঁশখালী পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের ছৈয়দ আহমদ একজন সফল চাষি, মৌসুম অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি চাষ করে সংসার চালান তিনি। এবার তিনি অনন্য সবজি যেমন ঢেরস, পেপে, বরবটি, সিম চাষ করে তেমন সফলতা না পেলেও তিতা করলা চাষ করে পেয়েছেন সফলতা। তিনি পৌরসভাস্থ পাহাড়সংলগ্ন প্রায় ২০ শতক জমিতে তিতা করলা চাষ করে তিনি একদিকে হয়েছেন সফল অন্যদিকে হয়েছেন লাভবান। তিনি জমিতে মাচং তৈরি করে তিতা করলার ক্ষেত করেছেন। এই উপজেলা কৃষকরা বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি চাষ করে অনেক সবজি চাষি স্বাবলম্বী ও আর্থিকভাবে সচল হয়েছেন । অল্প পুঁজিতে তিতা করলা চাষ ও কম শ্রমে এ সবজি চাষ হওয়ায় সবজি চাষিদের মধ্যে তিতা করলা চাষ করতে কৃষকরা আগ্রহী হচ্ছেন। যারা আর্থিক দুরাবস্থায় দিন যাপন করে আসছেন তাঁরা বর্তমানের সবজি চাষ করে অনেকটা সাফল্য অর্জন করেছেন। পাহাড়ী জমিতে আগে মাত্র একবার ফসল বা সবজি চাষ করা হতো বর্তমানে সে জমিতে বার মাস চলছে বিভিন্ন জাতে শাক-সবজি চাষ। তিতা করলা চাষি ছৈয়দ আহমদ জানান, তিনি তার ২০শতক জমিতে তিতা করলা চাষ করতে সর্বমোট খরচ হয়েছে ১৫ হাজার টাকা। বর্তমানে তার ক্ষেতের তিতা করলার ফলনও হয়েছে ভাল। তিনি এই পর্যন্ত তিতা করলা বিক্রি করেছেন ৩০ হাজার টাকার। আবহাওয়া ভাল থাকলে ও ক্ষেতের সব তিতা করলা বিক্রি করতে পারলে তার আনুমানিক ১৫-২০ হাজার টাকা লাভ হবে বলে তিনি জানান। পুষ্টিগুনে সমৃদ্ধ তিতা করলা সবজি। বাঁশখালীর যে সমস্থ এলাকা তিতা করলা চাষ করা হয় তার মধ্যে জলদী পৌরসভা, শীলকূপ, চাম্বল, নাপোড়া, প্রেমবাজার, বৈলছড়ি, কালিপুর, গুনাগরি, সাহেবের হাট, বানীগ্রাম, সাধনপুর ও পুকুরিয়া এলাকায়ও এই তিতা কড়লা উৎপাদিত হয়। এই উপজেলায় নানা রকমে শাক-সবজি যেমন বেগুন, তিতা করলা, কাঁকরোল, বরবটি, সিম, ঢেরঁস, পাইন্যা কচু, ঝিঙা ইত্যাদি শাক সবজি চাষ করা হয়। সরকারি ভাবে উপজেলা পর্যায়ে বেকার যুবক-যুবতীতের প্রশিক্ষণ ও স্বল্প পুঁজির ব্যবস্থা করা গেলে হাজার হাজার বেকারের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে মনে করেন কৃষকরা। এর পাশাপাশি প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রাও অর্জন করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন কৃষক সমাজ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ