ঢাকা, শনিবার 7 April 2018, ২৪ চৈত্র ১৪২৪, ১৯ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কয়রায় এ বছর বোরো ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

খুলনা অফিস : এবছর কয়রায় ব্যাপক হারে বোরো ধানের চাষ করেছে কৃষকরা। মওসুমের শুরুতে ধানের গতিবিধি দেখে বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকরা। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর দ্বিগুণ জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে কমবেশী বোরো ধানের চাষ হয়েছে। তার মধ্যে আমাদী ১৫৫ হেক্টর, বাগালী ১০৩০ হেক্টর, মহেশ্বরীপুর ৮০ হেক্টর, মহারাজপুর ২৭৪ হেক্টর, কয়রা সদর ৯৭৮ হেক্টর, উত্তর বেদকাশী ১৫৯৮ হেক্টর ও দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নে ৬৩৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে এবছর সর্বমোট ৪৭৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। এসকল জমিতে কৃষকরা উচ্চ হারে ফলন পাওয়ার আশায় হাইব্রিড জাতীয় ধান যেমন, হিরা,এস,এল ৮ এইচ, আফতাপ, এসিআই, তেজ, আলোড়ন, এস ১২০১, এস ১২০৩, শক্তি ২, সুজলা এবং উফশী ধানের মধ্যে বিনা ৮, বিনা ১০, ব্রীধান ২৮, ৫০, ৬৭ চাষ করেছে কৃষকরা। পানি সংকটের কারণে কৃষকগণ ব্যাপকভাবে ধান চাষ করতে পারেনি। উপজেলার আমাদী, মহেশ্বরীপুর, মহারাজপুর ও কয়রায় আংশিক এলাকায় বোরিংয়ের পানি ভাল না হওয়ায় কৃষকরা পুকুর ও খালের পানি দিয়ে সীমিত পরিমাণ জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছে।

৪নং কয়রা গ্রামের কৃষক নূর মোহাম্মদ জানান, গত বছরের তুলনায় এবছর ধান খুবই ভাল তবে কিছু কিছু জমিতে সহনশীল পর্যায় পাতা মোড়ানো ও মাঝরা পোকা দেখা দিয়েছে। সেজন্য উপজেলা কৃষি অফিসের পরার্মশ নিয়ে জমিতে গাছের ডাল পুঁতে পাখি বসার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। আশাকরি এতেই পোকা দমন হবে। ব্যাপক হারে পোকা দেখা দিলে ভির্তাকো, ক্যারাটে ব্যবহার করার পরার্মশ দিয়েছেন কৃষি অফিস। কৃষকরা পোকা দমন করতে সক্ষম হলেও ধান ক্ষেতে দেখা দিয়েছে ব্যাপক ইঁদুরের উপদ্রপ। ধানের ফলন বৃদ্ধির জন্য ইউরিয়া, টিএসপি, এমওপি, জীপসাম, দস্তা সার ব্যবহার করছেন কৃষকগণ।

এ ব্যাপারে কয়রা উপজেলা কৃষি অফিসার এস.এম মিজান মাহমুদ জানান, উপজেলার সাতটি ইউনিয়নকে কৃষি চাষের সুবিধার জন্য ২১টি ব্লকে ভাগ করা হয়েছে। সেখানে ২১ জন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার স্থলে কর্মরত আছেন মাত্র ১১জন। সে কারণে কৃষকদের সেবা দিতে হিমশিম খেয়ে যাচ্ছি। তার পরেও গত বছরের তুলনায় এবছর দিগুণ জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। আমরা কৃষি অফিস সার্বিকভাবে কৃষকদের সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি এবং কৃষি জমি পরির্দশন অব্যাহত রেখেছি। আশা করি এবছর কৃষকগণ বোরো চাষে ব্যাপক লাভবান হবেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ