ঢাকা, রোববার 8 April 2018, ২৫ চৈত্র ১৪২৪, ২০ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খুলনা জুড়ে পানির জন্য হাহাকার গভীর নলকূপেও পানি নেই

খুলনা অফিস : একপাশে প্রমত্তা রূপসা, অন্যপাশে ভৈরব। খুলনা শহরের দুই পাশে থৈ থৈ করছে পানি। অথচ পানির জন্য নতুন এক সংগ্রাম শুরু করেছে এই নগরের মানুষ।

সংশ্লিষ্টরা জানান, মার্চ মাসের শুরু থেকে অনেক এলাকার নলকূপে পানি উঠছিলো না। চৈত্র মাসের মাঝামাঝি এসে পানির পাম্পগুলোও অকার্যকর হয়ে পড়েছে। পর্যাপ্ত পানি উঠছে না উৎপাদক নলকূপ থেকেও। নগরীর পুকুর, দিঘীগুলো ভরাট হয়ে গেছে আরও আগে। এখন কোথাও পানি পাওয়া যাচ্ছে না। ধনাঢ্যরা ওয়াসার কাছ থেকে পানি কিনে ব্যবহার করছেন। মধ্যবিত্ত ও দরিদ্ররা ছুটছেন এক বাড়ি থেকে অন্য বাড়ি। সম্পূর্ণ নতুন এই দুর্যোগে দিশেহারা হয়ে পড়েছে নগরীর মানুষ।

গত কয়েকদিন সামাজিক যোগাযোগসহ বিভিন্ন মাধ্যমে পানির জন্য মানুষের অবর্ণনীয় দুর্ভোগের কথা জানাচ্ছেন। নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এই দুর্ভোগের সত্যতাও পাওয়া গেছে। কিন্তু সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৃষ্টি ছাড়া এই সমস্যার সমাধান তাদের হাতে নেই।

সম্প্রতি নগরীর শেখপাড়া পুরাতন মসজিদ এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, এলাকার অধিকাংশ বাড়ির নলকূপ থেকে পানি উঠছে না। যারা এতোদিন নলকূপে পাম্প বসিয়ে পানি তুলতেন, তাদের পাম্পেও পানি পাওয়া যাচ্ছে না।

ওই এলাকার বাসিন্দা ইব্রাহিম হোসেন জানান, বাড়ির নলকূপে পানি নেই। রাস্তায় বসানো কেসিসির নলকূপ থেকেও পানি উঠছে না। বাইরে দোকান থেকে খাবার পানি কিনে আনতে হচ্ছে। আর গোসল ও ব্যবহার্য পানির জন্য ছুটতে হচ্ছে নিকটাত্মীয়দের বাড়িতে।

নগরীর গোবরচাকা এলাকার বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে পানি দেন হোসেনায়ারা বেগম। জোসনার মা হিসেবে পরিচিত এই বৃদ্ধা জানান, প্রতিবছর এপ্রিল মাসের পরে কল দিয়ে (হস্তচালিত নলকূপে) পানি উঠতো না। এ বছর মার্চ মাসের শুরু থেকেই পানির সমস্যা দেখা দিয়েছে। চাপতে চাপতে হাত ব্যথা হওয়ার পরও কল দিয়ে পানি ওঠে না। এজন্য গত সপ্তাহ থেকে এলাকার লোকজন সরকারি কল থেকে পানি নেয়া বন্ধ করে দিয়েছে।

শুধু ইব্রাহিম হোসেনই নয়; গ্রীষ্ম আসার আগেই পানি নিয়ে মহাসংকটে পড়েছেন খুলনা মহানগরীর ১৫ লাখ মানুষ। মার্চের শুরুতেই গভীর নলকূপ থেকে পর্যাপ্ত পানি পাচ্ছে না তাদের মতো অধিকাংশ এলাকার মানুষ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ