ঢাকা, রোববার 8 April 2018, ২৫ চৈত্র ১৪২৪, ২০ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মহাদেবপুরে ট্রাক্টরের বেপরোয়া চলাচলে অতিষ্ঠ জনসাধারণ

 

ইউসুফ আলী সুমন, মহাদেবপুর (নওগাঁ) : নওগাঁর মহাদেবপুরে অনুমোদনহীন শত শত ট্রাক্টরের বেপরোয়া চলাচলে অতিষ্ঠ জনসাধারণ। বিশাল চাকার ট্রাক্টরগুলো নিয়ম বহির্ভূত চলাচলের ফলে যে কোন সময় কেড়ে নিতে পারে জীবন্ত প্রাণ। এদের চাকায় পিষ্ট হয়ে অসংখ্য মানুষ নিহত হয়েছে, ছাত্র সহ আহত হয়েছে প্রচুর মানুষ। অদক্ষ চালকদের বেপরোয়া গতির এসব ট্রাক্টর প্রশাসন কে বৃদ্ধা আঙ্গুল দেখিয়ে আইনের তোয়াক্কা না করে প্রতিনিয়ত অবাধে বিচরণ করছে। তাদের বিরুদ্ধে তেমন কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ মনে করছেন অনেকে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, উপজেলা সদর ও গ্রামীণ সড়ক গুলোতে ট্রাক্টরের বেপরোয়া চলাচলে আতংকে আছে পথচারীসহ স্থানীয় বাসিন্দারা। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রামীণ সড়ক গুলো ক্ষত-বিক্ষত হয়ে খানা-খন্দে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সর্বত্র পরিবেশ দূষণ ঘটছে, রাস্তার পাশের বাড়ী-ঘর ধুলোয় ধুসর ব্যহত হচ্ছে জীবন যাত্রা। আত্রাই নদীর  বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ দিয়ে বছর জুড়েই বালু ও মাটি বহন করে বাঁধের সর্বনাশ করছে স্থানীয় বালু ব্যবসায়ী এবং একশ্রেণীর ইট ভাটা মালিক। বাঁধের আশপাশের বাসিন্দাদের অনেকটাই জিম্মি করে বালু ব্যবসায়ী ও ইট ভাটা মালিকরা অবাধে বহনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এমনি অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এদিকে অনভিজ্ঞ চালক ও লক্কড়-ঝক্কড় যান দিয়ে বালু ও মাটি বহন করতে গিয়ে প্রতিনিয়তই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে ধূলাবালির কারণে সড়কে হেঁটে চলাচলকারী জনসাধারণ এবং স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীদের স্বাস্থ্যঝুঁকিসহ নানা প্রকার সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন অবৈধ এ যানবাহন চলাচলে আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো এসব চলাচল করতে সহযোগিতা করছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

কৃষি জমি চাষাবাদে গরুর লাঙ্গলের বিকল্প হিসেবে প্রায় তিন দশক পূর্বে সারা দেশের ন্যায় মহাদেবপুরে আবির্ভাব ঘটে ট্রাক্টর নামক যান্ত্রিক লাঙ্গলের। কিন্তু সে কৃষি ট্রাক্টর মাঠের জমিতে খুব একটা বেশিদিন টিকেনি। আবাদি জমি ছেড়ে স্থান করে নিয়েছে উপজেলা সদরসহ গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চল ও বাজার কেন্দ্রিক সড়কগুলোতে। চাষাবাদের জন্য আমদানিকৃত ট্রাক্টরগুলো পরিবহণে রূপান্তরের পর থেকেই গ্রামীণ জনপদে সর্বনাশ ঘটাতে শুরু করে। যদিও তা মাত্রায় ছিল সহনশীল। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে চাহিদা মেটাতে ট্রাকের চেয়ে ট্রাক্টরের ভাড়া তুলনামূলক কম হওয়ায় তার সংখ্যাটা বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে, ঠিক তখনি তা জনসাধারণের কাছে এক অজানা ভয়ে রূপান্তর হয়। ইট ভাটাগুলো পুরোদমে উৎপাদনে আসার ফলে ট্রাক্টরগুলোর চাহিদা বছরের যে কোন সময়ের তুলনায় এখন অত্যাধিক। আর সে সুযোগেই তারা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এখানকার প্রায় সমস্ত সড়কগুলোতে।

সম্প্রতি আত্রাই নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, উপজেলা সদরের বকের মোড়, মাছের মোড়, পোষ্ট অফিস মোড় ও বাসস্ট্যান্ড এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, চলাচলকারী মালবোঝাই ট্রাক্টরের লাইসেন্স নেই। কোনো কোনো ট্রাক্টর ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি মালামাল বোঝাই করে বেপরোয়া চলাচল করছে। চালকের নেই কোনো ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং কিছু চালকের বয়সও খুব কম।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ