ঢাকা, রোববার 8 April 2018, ২৫ চৈত্র ১৪২৪, ২০ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

চলনবিলে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটি জম বিদ্যালয়

 

সিংড়া (নাটোর) সংবাদদাতা : চলনবিলে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে প্রতিবন্ধী ও অটিজম বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই এলাকার প্রতিবন্ধী ছেলেমেয়েদের জীবনযাত্রার মান পাল্টে গেছে। তারা প্রমাণ করেছে সক্ষম হয়েছে প্রতিবন্ধী কোন রোগ নয়, এটা এক ধরনের অক্ষমতা, যা চিকিৎসা দ্বারা ভাল করা যায় না। তবে শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও খেলাধুলার মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ভূমিকা রাখা যায় কথাগুলো বলছিলেন, চলনবিলের দুর্গম পল্লী এলাকার অভিভাবকরা। প্রতিবন্ধীদের সমাজের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষে ২০১৫ সালে নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার ডাহিয়া ইউনিয়নে প্রতিষ্ঠা লাভ করে পিপুলশন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিজম বিদ্যালয়। এ প্রতিষ্ঠান বর্তমানে চলনবিলে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করতে যিনি মূল ভুমিকা রাখেন তিনি হলেন এলাকার সমাজসেবক আবু বক্কর সিদ্দীক। সমাজসেবক সিরাজুল ইসলাম মামুন ও আলহাজ¦ জালাল উদ্দিন । স্কুলের জন্য ১৬ শতক জমি দান করেন প্রতিষ্ঠাতা আবু বক্কর সিদ্দীক ও আলহাজ¦ জালাল উদ্দিন। স্কুলের প্রধান শিক্ষক মাসুম বিল্লাহ জানান, বিদ্যালয় পরিচালনার জন্য কমিটি রয়েছে। বুুদ্ধি প্রতিবন্ধীদের সপ্তাহে ৫দিন ক্লাশ নেওয়া হয়। এজন্য স্কুলের ভ্যান ও অটো রিক্সা রয়েছে। বয়স অনুুযায়ী মা ও শিশু শ্রেণী, শিশু শ্রেণী, বিশেষ শিশু শ্রেণী ও বৃত্তি মূলক পৃথক পৃথক ক্লাশ রয়েছে। শিক্ষকরা প্রতিবন্ধীদের শিক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের খেলাধূলা, গান বাজনারও প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন’শ জন প্রতিবন্ধি শিক্ষার্থী এই বিদ্যালয়ে পাঠ নিচ্ছে। শারিরিক প্রতিবন্ধি, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, বাক, শ্রবন,বুদ্ধি এবং অসুস্থতা জনিত প্রতিবন্ধীরা দূর-দূরান্ত থেকে এসে এই বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে শুধু শিশুরা নয় বয়স্ক প্রতিবন্ধীরাও শিক্ষার আলো গ্রহণ করছে। সরজমিন এই বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় চার কক্ষ বিশিষ্ট একটি টিনের চাল ও বাঁশের বেড়া দিয়ে একটি ঘর। তিন কক্ষে চলছে ক্লাস। একটি কক্ষ শিক্ষকদের। শিক্ষার্থীরা জানায়, এই বিদ্যালয়ে পড়তে পেরে আর তাদের খারাপ লাগেনা। আগে সব সময় মন খারাপ থাকতো। সমাজের দশজনের মত তারা ও বাঁচতে চায়। এই বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা আবু বক্কর সিদ্দীক জানান, আশেপাশের কোথাও প্রতিবন্ধি বিদ্যালয় ছিলনা। এ এলাকার প্রতিবন্ধীরা দিনের পর দিন শিক্ষা থেকে বঞ্চিত ছিল। ২০১৫ সালে আমরা স্বেচ্ছা শ্রমের ভিত্তিতে এই বিদ্যালয়টি স্থাপন করি। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে রয়েছে নানা সমস্যা। সরকার একটু দৃষ্টি দিলে বিদ্যালয়টি দ্রুত এগিয়ে যাবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ