ঢাকা, রোববার 8 April 2018, ২৫ চৈত্র ১৪২৪, ২০ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কৃষিতে হর্টিকালচার ফলজ বৃক্ষের ছায়াভূমি

খুলনা অফিস : আসছে বর্ষাকাল। আবহমান বাংলায় তরু লতা পাতা আবার জেগে উঠবে নব যৌবনে। এ সময় গ্রীষ্ম ও অবগ্রীষ্ম মন্ডলীয় ফল ফসল উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। দেশে ফলের ব্যাপক বৈচিত্র্য রয়েছে এবং এখানে প্রায় ৭০ রকমের ফলের প্রজাতি জন্মে যার ক্ষুদ্র একটা অংশ বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ হয়।

বাংলাদেশের জমির পরিমাণ ও উৎপাদন বিবেচনায় যে সব ফল বেশি জন্মে সেগুলো হচ্ছে কাঁঠাল, আম, লিচু, লেবু, আনারস, কলা, পেয়ারা এবং নারিকেল। বর্তমানে একজন পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তির  দৈনিক ফলের ২০০ গ্রাম চাহিদার বিপরীতে প্রাপ্যতা হলো মাত্র ৭৪ দশমিক ৪২ গ্রাম। 

এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বাংলাদেশের ফলের বার্ষিক চাহিদা ১১৬ দশমিক ৮০ লাখ মেট্রিক টন। সেখানে দেশের এক দশমিক ৩৭ লাখ হেক্টর জমি থেকে প্রায় ৪৩ দশমিক ৪৭ লাখ মেট্রিক টন ফল উৎপাদিত হয় (বিবিএস ২০১২) সে হিসেবে উৎপাদিত ফলে আমাদের চাহিদার মাত্র ৩৭ দশমিক ২২% পূরণ করা সম্ভব হয়।

এ সেক্টরে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদপ্তর (হর্টিকালচার উইং) প্রাকৃতিক ভারসাম্য এবং সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বনাঞ্চল। পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি দেশের মোট ভূমির ২৫ শতাংশ বনাঞ্চল না থাকলে সে দেশের পরিবেশে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তাই বনায়নের পাশাপাশি দেশের মানুষের সুস্থতার জন্য পুষ্টি অতীব প্রয়োজন। আর এজন্য প্রয়োজন ফলজ বৃক্ষের।

মূলত এসব কথা চিন্তা করে এ অঞ্চলে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান সরকার ১৯৬২ সালে খুলনা দৌলতপুর কৃষি কলেজ সন্নিকটে হর্টিকালচার ডেভলপমেন্ট বোর্ড এর উদ্যান বেজ প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে দেশ স্বাধীনের পর যার নামকরণ করা হয় হর্টিকালচার কেন্দ্র বা সেন্টার। হর্টিকালচার এর আভিধানিক অর্থ ঘেরা বেড়া দিয়ে যে চাষ করা হয়। ১৯.২৩ একর জায়গার ওপর প্রতিষ্ঠিত হর্টিকালচার কেন্দ্রে চারা কলম মিলে এক লাখ ২০ হাজারের মত মজুদ আছে। বর্তমান মওসুমে চারা কলমের পরিচর্যা চলছে। বিক্রয় কমবেশি সব সময় হয়ে থাকে কিন্তু বর্ষা মওসুমে চারাগুলোর বিক্রি অনেকগুণ বেড়ে যায়। কিন্তু তার পরেও সরকারের ভর্তুকি নিয়ে কেন্দ্রটি চলে আসছে।

হর্টিকালচার সেন্টার দৌলতপুর এর উপ-পরিচালক খোন্দকার মোয়াজ্জাম হোসেন জানান, গত অর্থবছরে কেন্দ্রে রক্ষিত ফলজ গাছ বিক্রয় হয়েছে প্রায় ২২ লাখ টাকার মত। এখানে সরকার নির্ধারিত মূল্যে চারা কলম বিশেষ করে ফলজ বৃক্ষের চারা বিক্রয় করা হয়। যেমন ভিয়েতনামী নারকেল চারা ক্রয় করা হয় ২০১৫ সালে ৮৫০ টাকা মূল্যে কিন্তু এখন তা বিক্রি করা হচ্ছে ৫০০ টাকা দরে। এক্ষেত্রে সরকারের ভর্তুকি যাচ্ছে ৩৫০ টাকা। 

একটি আম গাছের দাম যদি হয় ৪০ টাকা, বাইরে এর দাম গড়ে দুই থেকে তিনশ’ টাকা। এখানেও ভর্তুকি। তারপরও সরকারের প্রাণবন্ত চেষ্টা যে মানুষ গাছ কিনে ওই গাছের ফল খেয়ে মানসিক প্রশান্তি ও পুষ্টি পেয়ে শারীরিকভাবে ধাতস্থ হতে পারে। সর্বোপরি পর্যাপ্ত অক্সিজেন, মুক্ত বাতাস ও দূষণমুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হবে। আর এ লক্ষ্যে সরকার জাতীয়ভাবে প্রতি বছর ৬ জুন বৃক্ষরোপণ সপ্তাহ পালন করে থাকে।

কৃষিপ্রেমী গিলাতলার বাসিন্দা ব্যাংকার আশরাফ-উল আলম বলেন, ছাত্র জীবনে (ঢা,বি) পড়ালেখার পাশাপাশি গাছ গাছালির প্রতি প্রচন্ড আকর্ষণ ছিল। 

ছাত্রাবস্থায় যখনই সুযোগ পেতাম তখনই বাড়ির ছাদে টবে গাছ লাগাতাম সেই থেকে আমার এখন গাছের সংখ্যা প্রায় ৫০০। বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ গাছও এখানে রয়েছে। আগের চেয়ে গাছের সরবরাহ বেশি কিন্তু সেভাবে এখনও গাছের দাম কমেনি। যদি গাছের দাম আর একটু কমানো যায় তাহলে কৃষিতে ফলজবৃক্ষের বিপ্লব ঘটবে।

কৃষি কলেজ সংলগ্ন খামারি আনোয়ার হোসেন বলেন, এখানে দেশীয় নারকেল গাছের মূল্য কম। ফল দেয় বছরে সর্বোচ্চ ৫০-৬০টা এবং ফলন পেতে ৭-৮ বছর সময় লাগে। অন্যদিকে ভিয়েতনামী সিয়াম গ্রীন কোকোনাট ও সিয়াম ব্লু কোকোনাট জাতের গাছ রয়েছে। তিন বছরের মধ্যে এসব নারকেল গাছের ফল ধরে ১৫০ থেকে ৩০০টি পর্যন্ত। দৌলতপুর হর্টিকালচারসহ বাংলাদেশের যে কোন সেন্টারে বা কেন্দ্রে সহজলভ্যে এসব গাছ পাওয়া যায়। বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টির চাহিদা মেটানো এবং প্রাকৃতিক ও সামাজিক পরিবেশ রক্ষায় দেশ ও জাতির স্বার্থে হর্টিকালচার সেন্টারটি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ