ঢাকা, রোববার 8 April 2018, ২৫ চৈত্র ১৪২৪, ২০ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ভবন নির্মাণের চার বছরেও চালু হয়নি বাহুবল ট্রমা সেন্টার

সিদ্দিকুর রহমান মাসুম, (হবিগঞ্জ): দুর্ঘটনায় হাত-পা ভাঙা রোগীদের দ্রুত চিকিৎসা দিতে হবিগঞ্জের বাহুবলে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় ট্রমা সেন্টার। প্রয়োজনীয় বেড, ফার্নিচারসহ যাবতীয় সরঞ্জামাদি সরবরাহ করার পরও চার বছর ধরে চালু হয়নি বাহুবলের একমাত্র ট্রমা সেন্টারটি। কবে নাগাদ চালু হবে তাও জানেন না কেউ। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালে ফিজিক্যাল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট নামে সরকার দেশের ছয়টি মহাসড়কের পাশে দূর্ঘটনায় আহত রোগীদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য ১০ শয্যার ট্রমা সেন্টার নির্মাণের একটি প্রকল্প গ্রহণ করে। এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভিতরে একটি তিন তলা ভবন নির্মাণ করা হয়। এতে ব্যয় হয় ৩ কোটি ১৮ লাখ টাকা।

২০১৪ সালে এর নির্মাণ কাজ শেষ হলেও গণপূর্ত বিভাগ তা স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে আজও হস্তান্তর করেনি। ফলে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের চিকিৎসার জন্য বাধ্য হয়েই যেতে হচ্ছে ঢাকা অথবা সিলেট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। 

এদিকে ভবন নির্মাণের পরপরই ট্রমা সেন্টারের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও বেড সরবরাহ করে সরকার। আর এই মুল্যবান যন্ত্রপাতি গুলো অব্যবহৃত অবস্থায় অযতেœ অবহেলায় পড়ে থেকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা হাড়ভাঙা রোগী উপজেলার ভাদেশ্বর গ্রামের শামীম আহমেদ আক্ষেপের সহিত জানান, যদি এই ট্রমা সেন্টারটি চালু হতো তাহলে আমাদের ঢাকা কিংবা সিলেট গিয়ে চিকিৎসা নিতে হতো না। হাড়ভাঙা রোগীদের দুর-দুরান্তে গিয়ে চিকিৎসা নেয়া মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যয়বহুল। আমাদের মতো অসহায় গরীব রোগীদের অতিরিক্ত ব্যয় বহন করে চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব হয়না। তাই বাধ্য হয়ে আমাদের গ্রাম্য হাতুড়ে ডাক্তার ও কবিরাজের স্বরণাপন্ন হতে হয়। যার ফলে অনেকেই অকালে পঙ্গুত্ব বরণ করছেন। 

হাসপাতাল এলাকার জামাল উদ্দিন নামের এক ঔষধ ব্যবসায়ী জানান, কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে অব্যবহৃত অবস্থায় মুল্যবান জিনিষপত্র গুলো নষ্ট হচ্ছে। তিনি আরও জানান এই ট্রমা সেন্টারটি চালু হলে অত্র এলাকার অসহায় গরীব মানুষ অল্প খরচে উন্নত চিকিৎসা নিতে পারতো। তাই ট্রমা সেন্টারটি দ্রুত চালু করার দাবি জানাচ্ছি। 

হবিগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সাদ মোহাম্মদ আন্দালিব বলেন, বিভিন্ন কারণে দেরি হওয়ায় ট্রমা সেন্টারটি সিভিল সার্জন বুঝে নিচ্ছেন না। এখন সিভিল সার্জনের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ হচ্ছে। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে ভবনটি হস্তান্তর করতে পারবো।

বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডা. বাবুল কুমার দাশ জানান, ভবনটি আমরা ব্যবহার করতে পারলে অযতেœ অবহেলায় ভবনসহ মূল্যবান জিনিষগুলোর সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ হতো। দাপ্তরিক জটিলতার কারণে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ভবনটি এখনও বুঝিয়ে দেয়া হচ্ছে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ