ঢাকা, রোববার 8 April 2018, ২৫ চৈত্র ১৪২৪, ২০ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

গত ৩৪ বছরেও পাইকগাছায় সাব-জেলখানা নির্মাণ হয়নি

 

খুলনা অফিস: খুলনার পাইকগাছায় ৩৪ বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি আদালতের পাশে বিশাল আয়তনের সাব-জেলখানা। বিভিন্ন আয়ের খাত থাকলেও রাজস্ব খাতে জমা পড়েনি কোন অর্থ। অপরদিকে যথেচ্ছা ব্যবহারের ফলে বিল্ডিং ও প্রাচীর ধসে ধসে পড়ছে। দেখার কেউ নেই।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, খুলনা জেলা সদর থেকে পাইকগাছার দূরত্ব ৬৫ কিলোমিটার এবং জেলখানার গুরুত্ব ভেবে সরকার পাইকগাছায় জেলখানা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়। ১৯৮৪ সালের ২৯ মে পাইকগাছা সদরে বাতিখালী মৌজায় এর জন্য দুই দুশমিক ২৫ একর জমি অধিগ্রহণ করে। 

অধিগ্রহণের ১৩ বছর ধরে জেলখানার জন্য চারিদিকে প্রাচীর নির্মাণ করলেও তা যথেচ্ছা ব্যবহারের ফলে জেলখানার প্রাচীর ও বিল্ডিংয়ে বিভিন্ন জায়গা ধসে পড়ছে। ২০০৩ সালের ১০ মে সরকার শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র কিশোর অপরাধীর জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২১১ স্মারকে মহাপরিচালক, সমাজসেবা অধিদপ্তরের কাছে জায়গাটি হস্তন্তর করে। 

যা উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর ২০০৫ সালের ৫ জানুয়ারি ২৩৬/৫৬/০৫ স্মারকে দায়িত্ব গ্রহণ করে। তাও বাস্তবে রূপ নেয়নি। পরবর্তীতে সরকার ২০১৩ সালের ৬ মে শেখ রাসেল ট্রেনিং এন্ড রিহেবিলিটেশন সেন্টার ফর দ্য ডেস্টিটিউট চিল্ড্রেন প্রকল্প প্রণয়নের জন্য পরিচালক প্রশাসন ও অর্থ প্রস্তাব চেয়ে পাঠান। 

সরকারের কোন পদক্ষেপ বাস্তবে রূপ না নেয়ায় ২০১২ সালের ২২ জুলাই ৮২৮ স্মারকে সিনিয়র সহকারী কমিশনার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে পত্র পাঠায়। যার জবাবে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ২০১২ সালের ১২ ডিসেম্বর ৮৩৪ স্মারকে সাব-জেল চালু করার জন্য পত্র প্রেরণ করেন। সেটাও আলোর মুখ দেখেনি। বার বার সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা নিলেও কোন পদক্ষেপ অদ্যাবধি কার্যকর হয়নি। বরং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন স্মারকে চিঠি চালাচালি হয়েছে বার বার। এদিকে উক্ত সম্পত্তি ও ভবনসহ সবকিছুই ২০০৪ সাল থেকে দেখভাল করে চলেছে সরল গ্রামের নৈমুদ্দীন গাজীর ছেলে আবুল শেখ। 

সেখান থেকে উৎপাদিত ফসলসহ সব কিছু তিনি ভোগজাত করছেন। জেলখানার জন্য নির্মিত তিনটি কোয়ার্টার, চারটি বড় কক্ষ বিনা ভাড়ায় স্থানীয় জজ কোর্টের কর্মচারী ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের ১০/১২ জন কর্মচারী বসবাস করছে। যেখান থেকে সরকারের বছরে লাখ লাখ টাকা আয়ের সম্ভাবনা থাকলেও রাজস্ব খাতে জমা হয়নি একটি টাকাও।

এ ব্যাপারে পাইকগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান এডভোকেট স.ম. বাবর আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাস্তবতায় ওটা দেখার কেউ নেই। সরকার কেন এবং কি জন্য এটা দেখাশুনা করছেন না সেটা আমার বোধগম্য নয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ