ঢাকা, রোববার 8 April 2018, ২৫ চৈত্র ১৪২৪, ২০ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বর্তমান অবৈধ সরকার জাতির ঘাড়ে চেপে বসা জগদ্দল পাথর -মির্জা ফখরুল

শাহে আলম, বরিশাল অফিস : বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এখন শুধু আলোচনার বিষয় একটাই আর সেটা দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি। তার মুক্তির দাবির কাছে কোনো আপস নয়। আগে তাকে মুক্তি দিতে হবে, তারপর অন্য আলোচনা। এই অবৈধ সরকার জাতির ঘাড়ে চেপে বসা একটি জগদ্বল পাথর এর অপসারণ ছাড়া মুক্তি নেই।

গতকাল শনিবার বিকেলে বরিশালের হেমায়েত উদ্দিন কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে আয়োজিত জনসভায় তিনি এ কথা বলেন। বরিশাল মহানগর বিএনপির উদ্যোগে এ বিভাগীয় সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। সমাবেশ ঘিরে বরিশাল কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে আশে-পাশের সড়কে অবস্থান নিয়েছে বিএনপির ও তার অঙ্গ সংগঠনের প্রায় ৫০ হাজার  নেতা ও কর্মী-সমর্থকরা। সেই সাথে সব ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নিযুক্ত রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, যিনি (খালেদা জিয়া) গণতন্ত্রের মাতা, এই দেশের মানুষের মুক্তির জন্য যিনি আজীবন লড়াই করেছেন সেই নেত্রীর মুক্তির জন্য আপনারা আজ এখানে এসেছেন। আমি শুক্রবার দেশনেত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম, তাকে যখন বললাম-কালকে বরিশালে জনসভা করতে যাচ্ছি। তখন তিনি বললেন, বরিশালের জনগণকে আমার সালাম জানাবেন। বরিশালের মানুষ সংগ্রামী লড়াকু। তারা গণতন্ত্রের লড়াইয়ে আছে।’

তিনি বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনে এই দেশের জনগণ তাদের ভোট দেয়নি। বর্তমান অবৈধ সরকার গায়ের জোরে বন্দুকের জোরে ক্ষমতায় বসে আছে। তারা আজ জনগণের নেত্রীকে সুচিকিৎসা পর্যন্ত দিচ্ছে না। তিনি আরো বলেন, ‘আজকে আপনাদের পরীক্ষা দেয়ার সময় এসেছে। রাজনীতর এ পরীক্ষায় আপনাদের জয়ী হতে হবে। অন্যথায় চির জীবনের মতো আবদ্ধ হয়ে থাকতে হবে। সরকার নামের জগদ্বল পাথর এখন জাতির ঘারে চেপে বসেসে।

নেতাকর্মীদের ধৈর্য্য ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দয়া করে ধৈর্য ধরুন, শান্তি-শৃঙ্খলার মধ্যে থাকেন। নেত্রী যে নির্দেশ দেবেন তা পালন করতে হবে। তবে এর আগে তাকে জেল থেকে বের করে আনতে আন্দোলন শান্তিপূর্ণভাবে করতে হবে।

দেশের মানুষের অধিকার রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, গণতন্ত্রকে ও মানুষকে রক্ষার জন্য আসুন আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হই। বুকের ওপর চেপে বসা স্বৈরাচার সরকারকে পরাজিত করে একটি জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করি।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরো বলেছেন, এখন শুধু আলোচনার বিষয় একটাই। সেটা দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি। তার মুক্তির দাবির কাছে কোনো আপস নয়। আগে তাকে মুক্তি দিতে হবে, তারপর অন্য আলোচনা। 

দেশের মানুষের অধিকার রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, গণতন্ত্রকে রক্ষার জন্য, মানুষকে রক্ষার জন্য আসুন আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হই। 

কেন্দ্রীয় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও বরিশাল মহানগর শাখার সভাপতি মজিবর রহমান সরোয়ারের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সেলিমা রহমান, ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, আবদুল আউয়াল মিন্টু, বরকত উল্লাহ বুলু, সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরীন, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান প্রমুখ বক্তব্য দেন।

বিভাগীয় এ সমাবেশে বরিশাল মহানগর, জেলা, ঝালকাঠী, পটুয়াখালী, ভোলা, পিরোজপুর, বরগুনাসহ এ অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত হন। দুপুর ২টার আগেই ঈদগাহ মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ যায়। শমাবেশস্থলের আশপাশের সড়কে অবস্থান নেন আগত হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ।

সমাবেশস্থলে উপস্থিতদের ‘খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই, মুক্তি চাই’ সহ বিভিন্ন স্লোগান স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

এদিকে অনেক নাটকীয়তা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিয়ে প্রশাসর গতকাল রাত ১০ টার পরে মহানগরীর মধ্যে সমাবেশ করার অনুমতি দেন। বিনপির পক্ষ থেকে এই বিভাগীয় সমাবেশের জন্য প্রথমে বরিশোল সিটি কর্পোরেশন চত্বর বা বরিশাল অশ্বিনী কুমার টাউনহল চত্বরে সমাবেশের অনুমতি চাইলেও প্রশাসন নানা অজুহাতে তা দেয়নি। সমাবেশকে গিরে বরিশাল নগরীতে টানটাপন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পুলিশ বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেন। এদিকে  এ সমাবেশকে সামনে রেখে প্রশাসন কড়া নজরদারীতে ছিল। সমাবেশে আসার পথে পথে পুলিশ নেতাকর্মীদের বাধার সৃষ্টি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অবশেষে সমাবেশকে ঘিরে বরিশাল নগরীতে আগত জনতার ঢলে কার্যত অচল হয়ে পড়ে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ