ঢাকা, রোববার 8 April 2018, ২৫ চৈত্র ১৪২৪, ২০ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ব্যাংক কর্মকর্তাসহ গ্রেফতার ১০ জন তিন দিনের রিমান্ডে

স্টাফ রিপোর্টার : ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে বিভিন্ন পরীক্ষা চলার সময়ে প্রশ্নপত্র সমাধান করে  দেওয়া একটি চক্রের ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।গ্রেপ্তার ১০ জনের মধ্যে তিনজন ব্যাংকার রয়েছেন। তারা হলেন- সোনালী ব্যাংকের আইটি অফিসার অসীম কুমার দাস, পুবালী ব্যাংকের প্রবেশনারি অফিসার মো. মনিরুল ইসলাম ওরফে সুমন এবং বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রবেশনারি অফিসার মো. সোহেল আকন্দ। গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন মো. জহিরুল ইসলাম, সাদ্দাতুর রহমান ওরফে সোহান, নাদিমুল ইসলাম, মো. এনামুল হক ওরফে শিশির, শেখ তারিকুজ্জামান, অর্ণব চক্রবর্তী ও আরিফুর রহমান ওরফে শাহিন।তাদের কাছ থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের কাজে ব্যবহৃত বেশ কিছু ইলেকট্রনিক ডিভাইস পাওয়া যায়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ক্ষুদে ব্যাটারি, ইয়ার ফোন, মোবাইল ফোনের ন্যায় কথা বলার সিমযুক্ত মাস্টারকার্ড জব্দ করা হয়।

এই চক্র বিভিন্ন ব্যাংকের চাকরি পরীক্ষা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি পরীক্ষার সময় প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করে তাৎক্ষণিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের কাছে ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে উত্তর পৌঁছে দিত বলে পুলিশ জানিয়েছে। 

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার আবদুল বাতেন সাংবাদিকদের জানান, শুক্রবার রাতে মিরপুর, নিউ মার্কেট ও ফার্মগেইট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়ে। তিনি বলেন, “প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক ও রূপালী ব্যাংকে লোক নিয়োগে তারা ভূমিকা রেখেছে। প্রতি প্রার্থীর থেকে তারা ৮/১০ লাখ টাকা চুক্তিতে কাজ করে।” 

পুলিশ কর্মকর্তা বাতেন বলেন, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস ‘অ্যাসেম্বল’ করে এই চক্রটি আরেকটি ডিভাইস  তৈরি করে। সেটি তারা পরীক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেয় ও তা গোপনে বহন করতে বলে। এরপর পরীক্ষার প্রশ্ন সংগ্রহ করে তার উত্তর পরীক্ষার্থীর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের মাধ্যমে পৌঁছে দেয়। 

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ কমিশনার মশিউর রহমান বলেন, “এই চক্রে বিভিন্ন সরকারি ব্যাংকে জালিয়াতি করে চাকরি পেয়েছেন, এমন লোকজন রয়েছে। তারা নিজেরা জালিয়াতি করে চাকরি পেয়ে এখন একইভাবে লোকজনকে চাকরি দেবে বলে টাকা আদায় করছে।“এবার তাদের টার্গেট ছিল এইচএসসি পরীক্ষার সময়ে প্রশ্নপত্র সমাধান করে দিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়া।”

তিনি বলেন, “এই চক্রটি ৭/৮ বছর ধরে এমন অপরাধ করে আসছে। তাদের মূল হোতা পুলকেশ দাস ওরফে বাচ্চু নামের এক ব্যক্তি। তিনি নিজেকে একেক সময়ে একেক সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা পরিচয় দেন। “এছাড়া এই চক্রের আরেক সদস্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক আবু জাফর মজুমদার রুবেলও পলাতক রয়েছেন। চক্রের অন্য সদস্যদেরও পুলিশ খুঁজছে।”

 গ্রেফতার ১০ জন রিমান্ডে

বিশেষ ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে সরকারি ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা এবং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষাসহ বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় গ্রেফতার ১০ জনের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।গতকাল শনিবার ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন ও পলাতকদের গ্রেফতারের জন্য শাহবাগ থানার মামলায় ৭ দিনের রিমান্ডে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াসির আহসান চৌধুরী তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আসামিরা হলেন- সোনালী ব্যাংকের আইটি অফিসার অসিম কুমার দাস, পূবালী ব্যাংকের প্রবেশনারি অফিসার মো. মনিরুল ইসলাম ওরফে সুমন এবং বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রবেশনারি অফিসার মো. সোহেল আকন্দ, মো. জহিরুল ইসলাম, সাদ্দাতুর রহমান ওরফে সোহান, নাদিমুল ইসলাম, মো. এনামুল হক ওরফে শিশির, শেখ তারিকুজ্জামান, অর্ণব চক্রবর্তী ও আরিফুর রহমান ওরফে শাহিন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ