ঢাকা, রোববার 8 April 2018, ২৫ চৈত্র ১৪২৪, ২০ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

জামিন পেলেন সালমান খান

২০ বছর আগে অবৈধভাবে কৃষ্ণসার হরিণ হত্যা মামলায় পাঁচ বছরের কারাদ- পাওয়া বলিউড সুপারস্টার সালমান খান জামিন পেয়েছেন। দুই রাত যোধপুরের কারাগারে কাটানোর পর শনিবার তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন আদালত। ভারতের সম্প্রচার মাধ্যম এনডিটিভি তার জামিনের খবর নিশ্চিত করেছে। ৫০ হাজার রুপির বন্ডে পাওয়া এই জামিনে কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পেতে পারেন বলে জানিয়েছে দ্য ইকোনোমিক টাইমস।

১৯৯৮ সালে যোধপুরের কাছে কানকানি গ্রামে ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’ ছবির শুটিংয়ের জন্য গিয়ে দুটি বিরল প্রজাতির হরিণ শিকারের অভিযোগ উঠেছিল সালমান খানের বিরুদ্ধে। স্থানীয় বিশনোই সম্প্রদায় ওই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। কৃষ্ণসার হরিণকে অত্যন্ত পবিত্র বলে বিবেচনা করে ওই সম্প্রদায়। গত বৃহস্পতিবার তাদের দায়ের করা মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হলে যোধপুরের আদালত সালমান খানকে ৫ বছরের কারাদ- ও দশ হাজার রুপির জরিমানার রায় দেয়। রায়ের পর যোধপুরের কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয় ৫২ বছর বয়সী এই সুপারস্টারকে। সেখানে দুই রাত কাটাতে হয় তাকে।

এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, গতকাল শনিবার সকালে যোধপুর আদালতের বিচারক রবিন্দ্র কুমার যোশীর আদালতে সালমানের জামিন আবেদনের শুনানি দ্বিতীয় দিনের মতো শুরু হয়। পরে দুপুরের খাবারের বিরতির পর তিনি জামিনের আদেশ দেন।

শনিবারের শুনানিতে আইনজীবীরা ওই মামলার প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য ও হরিণ দুটির পোস্ট মর্টেম রিপোর্টের বিশ্বস্ততা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ওই রিপোর্টে বলা হয়েছিল মারা যাওয়া হরিণ দুটির দেহে বন্দুকের গুলীর চিহ্ন ছিল। সালমানের আইনজীবীরা বলেন, পরীক্ষার জন্য শুধু হরিণগুলোর হাড় পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তার চামড়া এবং মাংসও পরীক্ষার ভালো ফলাফলের জন্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

দ্য ইকোনোমিক টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, আনুষ্ঠানিক কাগজপত্র কারাগারে পৌঁছানোর পর কারাগার থেকে মুক্তি পেতে পারেন বলিউড সুপারস্টার। মোট এক লাখ রুপির বন্ডে জামিন পেয়েছেন তিনি।

এছাড়া দেশের বাইরে যাবার জন্যও আদালতের কাছে আবেদন করেছেন সালমান খান। এই বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী ৭ মে দিন ধার্য করেছে আদালত।

আদালত এলাকায় সকাল থেকে সালমান ভক্তদের আনাগোনা বাড়তে থাকায় সেখানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয় বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো।

এদিকে রায় হওয়ার পর সাংবাদিকদের কাছে সালমান খানের আইনজীবী এইচ এম সারস্বত দাবি করেন, সরকারি কৌঁসুলি অভিযোগের সপক্ষে প্রমাণ সংগ্রহ করতে পারেননি। মামলা সাজাতে ভুয়া সাক্ষী দাঁড় করিয়েছেন। এমনকি বন্দুকের গুলীতেই যে কৃষ্ণসার দুটির মৃত্যু হয়েছিল, তা-ও সরকারি কৌঁসুলি প্রমাণ করতে পারেননি। গত ২৮ মার্চ নিম্ন আদালতে কৃষ্ণসার মামলার চূড়ান্ত পর্যায়ের শুনানি শেষ হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিদের দাবি, ১৯৯৮ সালের ১ ও ২ অক্টোবর যোধপুরে ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’ ছবির শুটিংয়ের মাঝে আলাদা আলাদা জায়গায় দুটি কৃষ্ণসার হরিণ হত্যা করেন সালমান খান। ওই সময় তার সঙ্গে ছিলেন সাইফ আলী খান, নীলম, টাবু ও সোনালী বেন্দ্রে।

রাজস্থানের যোধপুরের কঙ্কানি এলাকায় গ্রামের ক্ষুদ্র জাতিসত্তা বিষ্ণোইর অধিবাসীদের অভিযোগ, গুলীর শব্দ শুনে তারা সালমানের জিপসি গাড়িটি ধাওয়া করেন। কিন্তু তাদের ধরা যায়নি। ওই সময় চালকের আসনে ছিলেন সালমান খান। গ্রামবাসীর দাবি, প্রবল গতিতে গাড়ি ছুটিয়ে সালমান খান আর তার সঙ্গীরা পালিয়ে যান।

বেআইনিভাবে জঙ্গলে ঢোকার অভিযোগে সালমান খান আর অন্য তিন তারকার বিরুদ্ধে ভারতীয় দ-বিধির ১৪৯ নম্বর ধারায় মামলা এখনো চলছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ