ঢাকা, রোববার 8 April 2018, ২৫ চৈত্র ১৪২৪, ২০ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সিলেটে যুবলীগ নেতা রুহেল ও তার পিতার বিরুদ্ধে সাংবাদিকের জিডি

 

সিলেট ব্যুরো : দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় ‘‘যুবলীগ নেতার আস্তানায় দেহ ব্যবসা, পতিতা আটক’’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদ ফেসবুকে শেয়ার করায় দৈনিক যুগান্তরের সিলেটের বিশ^নাথ প্রতিনিধি আশিক আলীসহ ৩ জনের নাম উল্লেখ করে বৃহস্পতিবার রাতে থানায় একটি জিডি এন্ট্রি করেন বিশ^নাথ যুবলীগ নেতা রুহেল খান। 

জিডি করার পর দিন গত শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে ওই ৩ জনের একজন সিএনএন বাংলা টিভির বিশ্বনাথ প্রতিনিধি ও বাঁচাও বাসিয়া ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক ফজল খানকে রাস্তায় পেয়ে যুবলীগ নেতা রুহেলের বাবা ওয়ারিছ খান অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ ও সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে হামলা করার চেষ্টা করেন।

ঐদিন সন্ধ্যায় সেই পিতা-পুত্রের (ওয়ারিছ খান ও রুহেল খান) বিরুদ্ধে ভাড়াটিয়া লোক কিংবা তারা নিজেরা তাকে (ফজল) হত্যা করতে পারে ও মিথ্যা মামলায় জড়াতে পারে মর্মে অভিযোগ এনে থানায় সাধারণ ডায়েরি (নং ৬.০৪.১৮) দায়ের করেছেন। ডায়েরিতে উল্লেখ রয়েছে ২০১৭ সালের ১২ ও ১৫ জুলাই তারিখে ০১৭৯৭-৩২৩২৮২ নাম্বার থেকে সাংবাদিক ফজল খানকে হত্যার হুমকি দিয়ে ছিলেন ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে ছিলেন ওই ওয়ারিছ খান। নিজের নিরাপত্তার স্বার্থে সাংবাদিক ফজল খান ১৮.০৭.২০১৮ইং তারিখে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবরে অভিযোগ দিয়ে ছিলেন। যার অনুলিপি জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)’ কে প্রদান করা হয়। সাধারণ ডায়েরিতে ফজল খান উল্লেখ করেছেন, ৫ এপ্রিল পতিতা’সহ ১০ জনকে গ্রেফতার করে বিশ্বনাথ থানা পুলিশ। ওই ঘটনায় দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় ‘‘যুবলীগ নেতার আস্তানায় দেহ ব্যবসা, পতিতা আটক’’ শিরোনামে সংবাদটি অনলাইনে প্রচার হইলে ফজল খান রাত ৯.৪৮ মিনিটে তার ফেসবুক আইডিতে শেয়ার করেন। ৬ এপ্রিল দুপুর ১২টার দিকে সাংবাদিক ফজল খান জানতে পারেন যুবলীগ নেতা রুহেল খান ও তার পিতা ওয়ারিছ খান থানায় ফজল খান’সহ পত্রিকার প্রতিবেদক আশিক আলী ও পাঠক আবদুল হকের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি করেন। এর সত্যতা জানার জন্য থানায় আসলে ফজল খান দেখতে পান থানার সকল অফিসাররা নামাজে রয়েছেন। ফলে সাংবাদিক ফজল খান নিজের এক সহকর্মীকে সাথে নিয়ে থানার পার্শ্ববর্তী ভোজন ঘর রেস্টুরেন্টে অপেক্ষা করতে থাকেন।

এমতাবস্থায় হঠাৎ ওয়ারিছ খান তার সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে সাংবাদিক ফজল খানের ওপর হামলা চালান, তবে স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পান ফজল। পরবর্তীতে ফজল খান আবার রেস্টুরেন্টের সামনে আসলে তাকে (ফজল) উপস্থিত লোকজনের সামনে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে এগিয়ে আসলে (ফজলের দিকে) উপস্থিত লোকজন বিবাদী ওয়ারিছ খানকে আটকে রাখে। এরপর স্থানীয়দের সহযোগিতায় ও সাধারণ ডায়েরি দায়ের করতে ফজল খান থানা গিয়ে অবস্থান নেন। থানায় সাধারণ ডায়েরি দায়ের করার জন্য ফজল খান অপেক্ষা করা অবস্থায় ওয়ারিছ খান থানায় গিয়েও সাংবাদিক ফজল খানকে খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন। তাই নিজের ও পরিবারের লোকজনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি দায়ের করার পাশাপাশি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও প্রধানমন্ত্রীর সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন সাংবাদিক ফজল খান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ