ঢাকা, রোববার 8 April 2018, ২৫ চৈত্র ১৪২৪, ২০ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খুলনায় বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে শিশুসহ তিনজন নিহত

খুলনা অফিস : খুলনায় যাত্রীবাহী বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে শিশুসহ তিনজন নিহত ও বাসের ধাক্কায় মাহেন্দ্র চালকসহ আরো ১০ জন আহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে ডুমুরিয়া উপজেলার খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের মাঝেরবেড়ি নামক স্থানে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহতরা হলেন, ভ্যান চালক আসাদুল মোড়ল (৩৫), ভ্যানের যাত্রী নারায়ণ ম-ল (৬৫) ও শাকিবুল ইসলাম (৭)। 

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, পাইকগাছা থেকে ছেড়ে আসা একটি যাত্রীবাহী বাস (ঢাকা মেট্রো চ-৮০৭৫) খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের মাঝেরবেড়ি নামক স্থানে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে একটি মাহেন্দ্রকে ধাক্কা দেয়। এতে মাহেন্দ্রটি রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে। পরে বাসটি একটি ভ্যানকে চাপা দেয়। এতে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই ভ্যান চালক আসাদুল মোড়ল ও ভ্যানের যাত্রী নারায়ণ ম-ল মারা যান। এছাড়া গুরুতর আহত ভ্যানযাত্রী শাকিবুল ইসলামকে ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

নিহত আসাদুল মোড়ল ডুমুরিয়া উপজেলার গুটুদিয়া গ্রামের মৃত কাদের মোড়লের ছেলে এবং নিহত নারায়ণ ম-লের বাড়িও একই গ্রামে। এছাড়া নিহত শাকিবুল ডুমুরিয়া উপজেলার উলা গ্রামের হুমায়ুন কবিরের ছেলে। নিহতরা উপজেলা সদর থেকে গুটুদিয়া গ্রামে যাচ্ছিলেন। এছাড়া বাসের ধাক্কায় ভ্যান ও মাহেন্দ্রর নারী-শিশুসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে মাহেন্দ্র চালক আমিরুল ইসলামের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

এ ব্যাপারে ডুমুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিল হোসেন জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ তিনজন নিহত হয়েছে। তিনি বলেন, ঘাতক বাসটি আটক করা হয়েছে। তবে চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছে। এ ব্যাপরে মামলা হয়েছে।

পরীক্ষার্থীদের হাতে শিক্ষক প্রহৃত

নকলে বাধা দেয়ায় খুলনার কয়রায় এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা সংঘবদ্ধ হয়ে এক কক্ষ পরিদর্শককে মারধর করেছে। মারধরের শিকার শিক্ষক হলেন-কয়রা সরকারি মহিলা কলেজের অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক অরুন মল্লিক। গতকাল শনিবার ইংরেজী দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর উপজেলার তকিম উদ্দীন মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে তাকে মারধর করা হয়। ঘটনার পর কেন্দ্র সচীবের কক্ষে সকল শিক্ষকরা আলোচনায় বসেন। 

লাঞ্ছিত শিক্ষক অরুন মল্লিক বলেন, যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করায় ছাত্ররা ক্ষিপ্ত হয়ে আমার ওপর হামলা চালিয়েছে। ঘটনাটি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। 

হল সুপার মো. হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, শিক্ষক অরুন মল্লিক ওই কেন্দ্রের ৬ নম্বর কক্ষে পরিদর্শকের দায়িত্ব পালন করছিলেন। পরীক্ষা চলাকালিন কয়েকজন ছাত্র অসদুপায় অবলম্বন করায় তাদেরকে বাধা দেন তিনি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা পরীক্ষা শেষে দলবদ্ধ হয়ে ওই শিক্ষকের ওপর হামলা চালায়। পরে অন্যন্য শিক্ষকরা এগিয়ে এসে তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করেন। 

এ ব্যাপারে কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিমুল কুমার সাহা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শিক্ষক লাঞ্ছিত হওয়ায় ঘটনা দুঃখজনক। এ বিষয়ে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ