ঢাকা, রোববার 8 April 2018, ২৫ চৈত্র ১৪২৪, ২০ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

চোখের ছানি অপারেশনে ২০ রোগী চোখ তুলে ফেলার ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা

চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা: চুয়াডাঙ্গায় ইম্প্রাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল হেলথ কেয়ার সেন্টারে ২০ রোগীর চোখের ছানি অপারেশনের পর চোখ তুলে ফেলার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি মঙ্গলবার সন্ধা পৌনে ৬টায় প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এর আগে বেলা ১১টায় সিভিল সার্জন কার্যালয়ে চোখের ক্ষতিগ্রস্থ ৩ রোগীর সাথে কথা বলে তদন্তদলের সদস্যরা। ক্ষতিগ্রস্থরা হলেন, আলমডাঙ্গার খাসকররা গ্রামের লাল মোহাম্মদ (৭০), আলমডাঙ্গা সোনাপট্রির আবনি দত্ত (৭০) এবং আলমডাঙ্গার রংপুর গ্রামের এখলাস উদ্দিন (৪০)। এছাড়াও গতকাল বুধবার সকালে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) থেকে দুই সদস্যের একটি তদন্ত দল ইম্প্রাক্ট হাসপাতাল সরেজমিন পরিদর্শন করেছে। প্রতিনিধি দলের প্রধান ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএমডিসির সহ-সভাপতি ডা. বাহারুল আলম। স্থানীয়ভাবে গঠিত তিন সদস্যের তদন্তদলের প্রধান সদর হাসপাতালে চক্ষু কনসালটেন্ট ডা. শফিউজ্জামান সুমন জানান, নির্ধারিত সময় ২ এপ্রিলের ১দিন পর ৩ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন এবং জব্দকৃত নমুনা জমা দেয়া হয়েছে। কমিটির অন্য দুজন সদস্য হলেন ডা. আবুল হোসেন এবং ডা. তারিক হাসান শাহিন। সিভিল সার্জন ডা. খায়রুল আলম জানান, তিন সদস্য তদন্ত টিমের সদস্যরা প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। প্রতিবেদন দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।এছাড়া, ঢাকা থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মিজানুর রহমানকে প্রধান করে গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি আজ বৃহস্পতিবার  দুপুর দুইটায় চুয়াডাঙ্গায় আসার কথা রয়েছে। তারা ই¤প্যাক্ট ফাউন্ডেশন সরেজমিন পরিদর্শন করবেন। উচ্চ পর্যায়ের এই তদন্ত কমিটি ক্ষতিগ্রস্থ সকল রোগীকে হেলথ সেন্টারে উপস্থিত করার জন্য সিভিল সার্জন নির্দেশ দিয়েছে। একই সাথে রোগীদের যাতায়াত, খাওয়া দাওয়াসহ সমস্ত ব্যয় বহন করার জন্যও বলা হয়েছে ওই হেলথ সেন্টারকে। ১২ এপ্রিলের মধ্যে কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে। উল্লেখ্য, চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের কেদারগঞ্জপাড়ায় ই¤প্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে গত ৫ মার্চ ২৪ রোগীর চোখে ছানির অপারেশন করা হয়। পরবর্তীতে ২০ থেকে ২৪ মার্চের মধ্যে ২০ নারী-পুরুষের ইনফেকশনের কারনে চোখগুলো অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তুলে ফেলা হয়। ২৯ মার্চ চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।

 এ ঘটনায় ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে আরেকটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও অডিট) মো. মিজানুর রহমানকে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ