ঢাকা, সোমবার 9 April 2018, ২৬ চৈত্র ১৪২৪, ২১ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

শাহজাদপুরে ফসলি জমির মাটি বিক্রি করা হচ্ছে ইটভাটায় ॥ আবাদ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা

এম,এ, জাফর লিটন, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ): সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার নরিনা ও গাড়াদহ ইউনিয়নের নাবিলা, নরিনা, বাঁচামারা মৌজার ধানি ফসলি জমি থেকে ভেকো মেশিন বসিয়ে মাটি কেটে নেওয়ায় এসব জমির বিভিন্নস্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। যার ফলে মাটি কেটে নেয়া ওইসব জমিতে এবার ফসল করতে পারেনি জমির মালিকগণ।  ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকের অভিযোগ,  পাশ্ববর্তী মশিপুর সরিষাকোল গ্রামের জনৈক ইউপি চেয়ারম্যান ও প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তিসহ একদল ভূমিদস্যু ভেকো মেশিন দিয়ে তাদের জমি থেকে মাটি উত্তোলন করে বিক্রী করছে স্থানীয় ইটভাটাগুলোতে।  গত কয়েকদিন ধরে জমির মালিক মাটি উত্তোলন বন্ধ করতে বললে ভূমিদস্যুরা তাদের হুমকি প্রদান করেন করেন। সরে জমিনে ঘুরে জানাযায়, গাড়াদহ  ইউনিয়নের নাববিলা ব্রিজ সংলগ্ন কয়েক শতক ভূমি থেকে জোরপুর্বক মাটি কেটে বিক্রি করে লুটে নিচ্ছে অর্থ। এলাকার এক শ্রেনীর স্বার্থান্বেষী ব্যক্তিদের হাত করে লুটে নিচ্ছে অসহায় কৃষকদের সম্পত্তির মাটির টাকা। কাউকে কিছু টাকা দেওয়া হলেও কেউ পাচ্ছেননা কোন টাকা। ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় এক নেতার নাম ভাঙ্গিয়ে এসব ধানি জমির মাটি গ্রাস করেছে এক শ্রেনীর  লোক। এতে প্রায় ১০ লক্ষ টাকার মাটি লুটেপুটে খাচ্ছে চক্রটি। কয়েক দিন থেকে   ট্রাক দিয়ে মাটি বিক্রি করছেন। খরিদকৃত সম্পত্তি রক্ষা করার জন্য সমাজের মুরুব্বীয়ানদের ধারে ঘুরেও কোন সুরাহা পাচ্ছেন না। এদিকে  মাটি কেটে নেয়ায় আশে পাশের কৃষি জমির ব্যাপক ক্ষতিসাধন হচ্ছে।  ওই এলাকা থেকে ভূমিদস্যুরা স্ক্যাভেটর (ভেকো) দিয়ে ট্রাকের মাধ্যমে স্থানীয় কয়েকটি ইটভাটায় মাটি বিক্রি করছে। ফলে এলাকা সাইটের জমি ও রাস্তা-ঘাট ভেঙ্গে যাওয়ার পরিণত হয়েছে। কিন্তু ভূমিদস্যুরা মাসখানেকদিন ধরে ফসলি, কৃষি ও জমির মাটি কেটে পুরো এলাকায় পুকুরে পরিণত হতে যাচ্ছে। তাই জরুরী ভিত্তিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য সংশিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।  জমির মালিক নাম প্রকাশ না করে জানান, আমার বাড়ি নাববিলা গ্রামে। সেখানে ভেকো মেশিন দিয়ে জোরপূর্বক মাটি কেটে নেওয়ায় আমার ২০ শতাংশ জমিতে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ওই জমিতে আগামী ১০ বছর কোনো আবাদ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এ সময় তিনি অভিযোগ করে বলেন, মাটি কাটা বন্ধের কথা বলায় আমাকে প্রাণনাশের হুমকী দিয়েছে ভূমিদস্যুরা। উত্তোলনকৃত এসব মাটি বিক্রি করে প্রভাবশালী ভূমিদস্যুরা লাভবান হলেও আমার জমির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তাই। মাটি কাটার কারনে এসব জমিতে কোনো আবাদ করতে পারিনি। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন কৃষকরা। জানতে চাইলে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেহেলী লায়লা বলেন, এ বিষয়ে আমি অবগত নই । লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ