ঢাকা, সোমবার 9 April 2018, ২৬ চৈত্র ১৪২৪, ২১ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

পাট আসলেই সোনালী আঁশ

‘পাটের নতুন দিগন্ত’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন মুদ্রিত হয়েছে পত্রিকান্তরে। ৭ এপ্রিল মুদ্রিত প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, দেখতে হুবহু পলিথিনের মতো, কিন্তু এগুলো পলিথিনতো নয়ই, কোন রকম প্লাস্টিক উপকরণও এতে নেই। ব্যাগগুলো বানানো হয়েছে কেবলই পাটের আঁশ ব্যবহার করে। এই আঁশ থেকে পচনশীল পলিমার ব্যাগ তৈরির পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন বাংলাদেশের বিজ্ঞানী মোবারক আহমদ খান। আমদানি করা যেসব পচনশীল পলিমার ব্যাগ বাজারে পাওয়া যায় তার ৫ ভাগের ১ ভাগ দামেই এটি পাওয়া যাবে। রাজধানীর ডেমরার লতিফ বাওয়ানী জুট মিলে পরীক্ষামূলকভাবে স্বল্প পরিমাণে তৈরি হচ্ছে এ পলিমার ব্যাগ। আয়োজন চলছে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার। এরই মধ্যে দেশের ভেতরে, বিশেষ করে রফতানিমুখী শিল্প মালিকরা এ ব্যাগ কেনার জন্য বায়না দিতে শুরু করেছেন। দেশের বাইরে ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকেও এই ব্যাগের চাহিদা আসছে।

পাটের তৈরি এই পলিব্যাগ সম্পর্কে বলা হয়েছে, এটি দেখতে বাজারের সাধারণ পলিথিন ব্যাগের মতো মনে হলেও আসলে তা অনেক বেশি টেকসই ও মজবুত। পাটের সূক্ষ্ম সেলুলোজকে প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি করা এ ব্যাগ কয়েক মাসের মধ্যে পচে মাটির সঙ্গে মিশে যাবে। এটি এই ব্যাগের বিশেষ বৈশিষ্ট্য। যা এটি পরিবেশ দূষণের কারণ হবে না। এটিকে তাই পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পলিথিনের একটি নির্ভরযোগ্য বিকল্প হিসেবে ভাবা হচ্ছে। পাটের আঁশ থেকে পলিমার তৈরির এই পদ্ধতির উদ্ভাবক বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) প্রধান বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা অধ্যাপক মোবারক আহমদ খান গত ২০ বছর ধরে পাটের বাণিজ্যিক ব্যবহার নিয়ে গবেষণা করছেন। এই পদ্ধতি উদ্ভাবনের জন্য বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমি তাকে ২০১৫ সালে স্বর্ণপদক দেয়। উল্লেখ্য যে, ২০০৯ সালে এই বিজ্ঞানী পাটের সঙ্গে পলিমারের মিশ্রণ ঘটিয়ে মজবুত, তাপবিকিরণরোধী ও সাশ্রয়ী ঢেউটিন ‘জুটিন’ তৈরি করেছেন।

চারদিকে নানা ব্যর্থতা ও হতাশার মধ্যে এমন উদ্ভাবন আমাদের আশাবাদী হতে অনুপ্রাণিত করে। এ জন্য আমরা কর্মবীর ও বিজ্ঞানী মোবারক আহমদ খানকে জানাই অভিনন্দন। তিনি জানিয়েছেন, দুবাইয়ে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান মাসে ২৫ হাজার পলিব্যাগ কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন সিটি কাউন্সিল কর্তৃপক্ষও এই পলিব্যাগ কিনতে চান। স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও বিপুল পরিমাণে এই ব্যাগ কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এই রকম ইতিবাচক উদ্ভাবনের প্রতিভাবানরা এগিয়ে এলে দেশ শুধু অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাবে না, জাতি হিসেবেও আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়বে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ