ঢাকা, সোমবার 9 April 2018, ২৬ চৈত্র ১৪২৪, ২১ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সরকার আর দুদকের টার্গেট বিএনপি?

জিবলু রহমান : [তিন] দুই পক্ষই সমঝোতায় না যাওয়ার মানসিকতা পোষণ করছে। এতে দেশে অদূর ভবিষ্যতে জন-অসন্তোষ বৃদ্ধির খুব বেশি দৃশ্যপট তৈরি হচ্ছে। আওয়ামী লীগ বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে গ্রেফতারের পথে এগোচ্ছে। যদি তা করা হয় তাহলে সংকট আরও ঘণীভূত হবে। গ্রেফতারের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে সরিয়ে দিয়ে সরকার বিএনপির রাজনৈতিক প্রভাবকে খর্ব করার চেষ্টা করতে পারে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে একদলীয় স্বৈরতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থার পথ তৈরি হবে। তবে খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করা হলে বিরোধী দলে গ্যালভানাইজ বা পুনর্গঠন হতে পারে এবং তাতে অস্থিরতা তীব্র হয়ে উঠতে পারে। (সূত্র : দৈনিক মানব জমিন ২৭ মার্চ ২০১৫)

প্রতিনিয়ত চাপের মুখে থাকে বলেই আমাদের কোনো কোনো সংস্থা কার্যত সরকারি দলের লেজুড় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। দুদকও ব্যাতিক্রম নয়। আইন দিয়ে দুদককে যতই শক্তিশালী বা স্বাধীন করা হোক, দায়িত্ব পালনে কার্যত তা কখন কতটা ছিল, তা নিয়ে বিতর্ক আছে যথেষ্ট। দুদককে অনেকেই এখন আর দুর্নীতি দমন কমিশন হিসেবে দেখেন না। কোনো কোনো সমালোচক এর নতুন নাম দিয়েছেন ‘দায়মুক্তি কমিশন’। কারণ, সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের যে লোকজনের বিরুদ্ধেই দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে, তদন্ত করে দুদক খুবই দ্রুততার সঙ্গে দুর্নীতির অভিযোগের দায় থেকে তাঁদের মুক্তি দিচ্ছে। তবে দুদক শুধুই দায়মুক্তির কাজ করছে, এমনটি কি বলা যায়? বিরোধী দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত লোকজন, যাঁরা আগে কোনো না কোনো সময়ে ক্ষমতায় ছিলেন এবং দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিলেন, তাঁরা তো ঠিক আটকে যাচ্ছেন। সমালোচকেরা যা-ই বলুক, দুদক বা ‘দায়মুক্তি কমিশন’ তাদের কাজ করে যাচ্ছে। (সূত্র : দৈনিক প্রথম আলো ৩০ অক্টোবর ২০১৪)

কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও উদাসীনতার কারণে দুদকের এক শ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তা দুর্নীতি দমন কাজ করতে গিয়ে নিজেরাই অনিয়ম-দুর্নীতির সাথে জড়িয়ে পড়ছেন। কেউ কেউ অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে অভিযুক্ত তালিকা থেকে তাদের নাম বাদ দিচ্ছেন। অন্য দিকে সৎ-নিষ্ঠাবান কর্মকর্তারা আপসহীনভাবে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনছেন। অনেক সময় ওই সব সৎ কর্মকর্তার অনুসন্ধানে প্রভাবশালীদের দুর্নীতি ধরা পড়লে ওপরের নির্দেশে তাদের নাম বাদ দিতে হয়। এ ছাড়া সৎ কর্মকর্তাদের প্রায়ই বদলির শিকার হতে হচ্ছে। (সূত্র : দৈনিক নয়াদিগন্ত ১১ নভেম্বর ২০১৪)

সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির নানা অভিযোগের ভেতরেই স্থায়ী কমিটির চার সদস্য-খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও মির্জা আব্বাস; দুই ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু ও এম মোর্শেদ খান; যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল, আবদুল আউয়াল মিন্টুর ছেলে ও দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়ালের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক। তাঁদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং, সন্দেহজনক ব্যাংক লেনদেনসহ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ছাড়া এম মোর্শেদ খানের ছেলে ফয়সাল মোর্শেদ খানের বিরুদ্ধেও অনুসন্ধান হচ্ছে। যেসব ব্যাংকে চিঠি দেয়া হয়েছে, সেগুলো হলো এইচএসবিসি, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড, ডাচ্-বাংলা, ন্যাশনাল, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, আরব বাংলাদেশ ও ঢাকা ব্যাংক।

যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, সেই বিএনপি নেতারা বলছেন, তাঁদের চাপে রাখতেই সরকারের কৌশলের অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নিয়েছে দুদক। দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সংগঠন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, ‘আমরা আশা করি, দুদক আইনি পরিম-লে থেকেই তাদের দায়িত্ব পালন করবে। তারা যদি ব্যক্তি বা রাজনৈতিক পরিচয় দেখে কোনো অনুসন্ধান করে, তাহলে তাদের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।’ (সূত্র : দৈনিক প্রথম আলো ৩ এপ্রিল ২০১৮)

ব্যাংক থেকে ‘অল্প সময়ে কোটি কোটি টাকা উত্তোলন’ করা নিয়ে সন্দেহের কারণে বিএনপির যেসব নেতার বিষয়ে দুদক অনুসন্ধান শুরু করছে তাঁরা বলেছেন, বিএনপিকে ভাঙতে না পেরে সরকার নতুন ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। বিএনপিকে চাপে রাখার জন্য দুদকের মাধ্যমে বিএনপিকে হয়রানি করা হচ্ছে। কিন্তু এতে শেষ রক্ষা হবে না।

স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ‘সরকার চাপে রাখার কৌশল হিসেবে আমাদের বিরুদ্ধে তার সমর্থক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে মিথ্যা প্রপাগান্ডা করাচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘কিন্তু আমার ক্ষেত্রেও এ ধরনের মিথ্যা কথা বলা হবে, সেটি ধারণারও বাইরে ছিল। যে ব্যাংক থেকে টাকা তোলার কথা বলা হয়েছে সেই ব্যাংকে আমি বা আমার পরিবারের কোনো সদস্যের অ্যাকাউন্টই নেই। তাহলে টাকা তুলব কিভাবে?’ 

স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, ‘টাকা কি গাছের পাতা যে চাইলেই পাওয়া যায়! টান দিলেই চলে আসে? ষড়যন্ত্র এবং হাস্যকর বিষয়েরও একটি সীমা থাকে।’ আব্বাস বলেন, ‘আমার কোনো অবৈধ সম্পদ অতীতেও ছিল না বর্তমানেও নেই; ভবিষ্যতেও থাকবে না।’ তাঁর মতে, বিএনপিকে ভাঙার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত এসব হাস্যকর বিষয় নিয়ে সরকার মাঠে নেমেছে। অথচ এ দেশে যাদের কোনো সম্পদ কখনোই ছিল না, তাদের এখন বিদেশে টাকা, বাড়ি-গাড়ি সবই আছে। কিন্তু তাদের দুদক দেখে না। দুদকের চোখ বিএনপির দিকে। সুতরাং এ ধরনের উদ্যোগের অর্থ এ দেশের জনগণের বুঝতে অসুবিধা হয় না। 

স্থায়ী কমিটির সদস্য অমির খসরু চৌধুরী বলেছেন, ‘গুম, খুন এবং শত শত মামলা হামলা দিয়েও বিএনপিকে দুর্বল করতে না পেরে সরকার এখন দুদককে দিয়ে জল ঘোলা করতে চাইছে। কিন্তু দেশের জনগণ দলকানা নয়। তারা জানে, এসব কারা করছে বা কেন করছে।’ বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, ‘সরকার দেশে অদ্ভুত সব নিয়ম চালু করেছে। যারা চুরি করে দেশ ফোকলা করে ফেলছে তাদের দুদক চোখে দেখে না। আমরা ১০-১২ বছর ধরে বিরোধী দলে আছি; আমরা চুরি করব কোত্থেকে?’ তিনি বলেন, সরকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস ও অপব্যবহার করে যতই বিরোধী দল দমনের কাজে ব্যবহার করা হবে, পতনও তত তাড়াতাড়ি অনিবার্য হয়ে উঠবে।

আবদুল আউয়াল মিন্টুর ছেলে, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল বলেছেন, ‘দুদকের অনুসন্ধানের বিষয়ে আমরা এখনো কিছু জানি না। তাদের কোনো চিঠি পাইনি। দেখা যাক তারা কী অনুসন্ধান করে। তবে বিএনপি বা আমরা কী করছি সেটি দৃশ্যমান; গোপন কিছু নয়। জনগণের সামনে সেটি স্পষ্ট। এখন ক্ষমতায় বসে সরকার অসৎ বা অনৈতিক উদ্দেশ্যে কিছু করলে সেটিও জনগণ দেখবে।’ তাঁর মতে, এসব করে দীর্ঘ সময়ের জন্য কারো লাভ হয় না। ইতিহাসে এমন নজির নেই।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল বলেছেন, ‘বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার ষড়যন্ত্র হিসেবে সরকার নানা এজেন্ডা নিয়ে মাঠে নেমেছে। দুদককে দিয়ে করানো কার্যক্রম তারই অংশ বলে আমি মনে করি।’ কোনো স্বৈরাচারী সরকারই এসব করে পার পায়নি। এ সরকারেরও এসব করে শেষ রক্ষা হবে না। (সূত্র : দৈনিক কালের কন্ঠ ৩ এপ্রিল ২০১৮)

অনুসন্ধানের দায়িত্ব পেয়েছেন উপপরিচালক সামছুল আলম। চলতি সপ্তাহেই এঁদের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে চিঠি পাঠাবে সংস্থাটি। পাশাপাশি তাঁদের সম্পদের হিসাবও জমা দিতে বলবে প্রতিষ্ঠানটি। 

একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে খবর প্রকাশ হয়, ৩০ দিনে এসব ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব থেকে ১২৫ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে। সেই সূত্র ধরে অনুসন্ধানে নেমেছে দুদক। যাদের বিরুদ্ধে অস্বাভাবিক অর্থ উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে, তাঁদের কয়েকজনই প্রথিতযশা ব্যবসায়ী। ওই পরিমাণ অর্থ লেনদেন অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু বড় অঙ্কের ওই সব লেনদেন নগদে হওয়ায় তাঁদের বিষয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। এই নগদ অর্থ উত্তোলন ব্যবসায়িক লেনদেনের বাইরে কি না, সেটা খতিয়ে দেখা হবে।

যে অভিযোগ আমলে নিয়ে দুদক অনুসন্ধানে নেমেছে, তাতে বলা হয়, তিনটি বেসরকারি ব্যাংকে আবদুল আউয়াল মিন্টুর হিসাব থেকে ১১, ১৫ ও ২২ ফেব্রুয়ারি মোট ৩২ কোটি টাকা তোলা হয়। একই মাসে তাঁর ছেলে তাবিথ আউয়ালের হিসাব থেকে তোলা হয় ২০ কোটি টাকা। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোর্শেদ খানের ব্যাংক হিসাব থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি তোলা হয় ১৮ কোটি টাকা। তাঁর ছেলে ফয়সাল মোর্শেদ খানের হিসাব থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি তোলা হয় ৯ কোটি টাকা।

খন্দকার মোশাররফ হোসেন ৩ থেকে ১২ মার্চের মধ্যে একটি বেসরকারি ব্যাংক থেকে ১২টি চেকের মাধ্যমে ২১ কোটি টাকা তুলেছেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি চেকে টাকা তোলা হয়েছে ঢাকার বাইরে থেকে।

২৮ ফেব্রুয়ারি ও ৪ মার্চ ঢাকা ব্যাংকে মির্জা আব্বাসের হিসাব থেকে ১৬ কোটি টাকা তোলা হয়। এ ছাড়া নজরুল ইসলাম খান এবং হাবিব উন নবী খান সোহেলের ব্যাংক হিসাব থেকে বিভিন্ন সময়ে ৭ কোটি টাকা ‘সন্দেহজনক লেনদেন’ হয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

দুদকের মামলায় সাজা পেয়ে এখন কারাগারে রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এ ছাড়া বিএনপির ২৫ জনের বেশি জ্যেষ্ঠ নেতার বিরুদ্ধেও দুদকের করা দুর্নীতির মামলা চলছে। দলটি দীর্ঘদিন ধরেই দুদকের সমালোচনায় মুখর। ২১ মার্চ ২০১৮ দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘দুদক রাতকানা বাদুড়ের মতো। একে দায়িত্বই দেয়া হয়েছে বিএনপির নেত্রী ও নেতাদের বিরুদ্ধে খড়গ চালিয়ে যাওয়ার জন্য।’

দুদকের মামলার আলোচিত আসামীরা জামিন পান তা নিয়ে তাদের চিন্তা নেই। আছে বিএনপিকে কীভাবে দমিয়ে রাখা যায় সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নের চিন্তা। ২০১২ সালের ৯ এপ্রিল রাতে তৎকালীন রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের (প্রয়াত) বাসায় যাওয়ার পথে পিলখানায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদর দপ্তরে টাকার বস্তাসহ একটি মাইক্রোবাস ঢুকে পড়ে। গাড়িতে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের তৎকালীন মহাব্যবস্থাপক (পরে বরখাস্ত) ইউসুফ আলী মৃধা ছাড়া আরও ছিলেন রেলওয়ের কমান্ড্যান্ট এনামুল হক এবং তৎকালীন রেলমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব ওমর ফারুক তালুকদার ও চালক আজম খান। মৃধা পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক থাকার সময় রেলের ১৩টি শ্রেণিতে (ক্যাটাগরি) ১ হাজার ৬৯ জন কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। মামলার আসামি হওয়ার পর ২০১২ সাল থেকে দুই বছর পলাতক ছিলেন তিনি। ২০১৪ সালের ৩ মার্চ চট্টগ্রাম আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন তিনি। আদালত তাঁর জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করায় সে দিন থেকে কারাগারে ছিলেন মৃধা।

রেলে নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে মৃধাসহ তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মোট ১৩টি মামলা করেছে। এর মধ্যে প্রথমবারের মতো দুটি মামলায় ২০১৭ সালের ২৭ এপ্রিল রায় দেন আদালত। রেলের সহকারী কেমিস্ট ও ফুয়েল চেকার পদে নিয়োগে দুর্নীতির দুই মামলায় মৃধাসহ তার দুই সহযোগীর চার বছর করে (প্রতিটিতে দুই বছর) কারাদ- দেন আদালত।

নিয়োগে দুর্নীতির বাকি ১১টি মামলার মধ্যে চারটি মামলার বিচার চলছে চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতে। পাঁচটি মামলায় দুদক অভিযোগপত্র দিয়েছে আদালতে। বাকি দুটি মামলার তদন্ত শেষ হয়নি। এর আগে ২০১৬ সালের ৩ আগস্ট অবৈধ সম্পদ অর্জনের অন্য একটি মামলায় ঢাকার একটি আদালতে তিন বছরের সাজা হয় মৃধার। 

৮ অক্টোবর ২০১৭ মৃধা জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান। সাজা হওয়া মামলা এবং বিচারাধীন ১৪ টি মামলায় মৃধার জামিননামা কারাগারে আসে বিভিন্ন সময়ে। হাইকোর্ট এবং চট্টগ্রাম আদালত থেকে তিনি জামিন পান। সবগুলো জামিননামা যাচাই-বাছাই করে তাঁকে মুক্তি দেয়া হয়। (সূত্র : দৈনিক প্রথম আলো ৯ অক্টোবর ২০১৭)

ঘুষ খেয়ে নদী দখলের সুযোগ প্রদানকারীর বিরুদ্ধে দুদকের কোন এ্যাকশন নেই। রাজধানীর উপকণ্ঠে কামরাঙ্গীরচর এলাকায় নদীর তীর দখল করে নির্মিত কিছু স্থাপনা ভেঙে দেয়া হয়েছিল, সেগুলোর পাশে নতুন করে আবারও স্থাপনা তৈরি হচ্ছে। নদীর সীমানা নির্ধারণ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের একটি প্রতিবেদনের কারণে এই অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। এর সঙ্গে রয়েছে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের চাপ এবং অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) উদ্যোগের অভাব।

নবাবচর এলাকাটি বুড়িগঙ্গা নদীর ঢাকা প্রান্তে। এখানকার গুদারাঘাট-আশ্রাফাবাদ এলাকার রয়েছে নদীতীরে অনেকগুলো পাকা ভবন। আরও ভবন তৈরির জন্য প্রচুর ইট, বালু, রড, সিমেন্ট জড়ো করা হয়েছে। আগে তৈরি বাড়িগুলোর কোনোটায় সদ্য রং লাগানো হয়েছে। ‘ভাড়া হবে’ সাইনবোর্ডও ঝুলছে। এগুলোর কিছু নদীর সম্পূর্ণ ও কিছু আংশিক জায়গায় অবস্থিত।

নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান ২০১৭ সালের এপ্রিলে বুড়িগঙ্গার কামরাঙ্গীরচর এলাকা পরিদর্শন করেছিলেন। এ সময় তিনি নদীর যে ১৩টি জায়গায় অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে, সেগুলো ভাঙার ঘোষণা দেন। এরপর ১০ জুলাই বিআইডব্লিউটিএ অভিযান চালিয়ে তিনটি স্থাপনার বাইরের দেয়ালের সামান্য অংশ ভেঙে দেয়। সাংসদ হাজি সেলিমের মালিকানাধীন একটি স্থাপনার সীমানাদেয়াল ভাঙা হয়।

এরপরই নবাবচরে নদীতীরের ভবনমালিকেরা জেলা প্রশাসনের কাছে সীমানা নির্ধারণের আবেদন জানালে একটি কমিটি করা হয়। কমিটি সিএস (ক্যাডেস্টাইল সার্ভে) ও আরএস (রিভাইস সার্ভে) রেকর্ড অনুযায়ী নদীর সীমানা নির্ধারণের প্র্রস্তাবসহ একটি প্রতিবেদন দাখিল করে। এরপরই অভিযান বন্ধ হয়ে যায়।

বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন বলেছেন, জেলা প্রশাসন বর্তমানে শুধু সিএস ও আরএস অনুসারে জরিপ করে সীমানা খুঁটি বসাতে চাইছে। তারা চায় নদীর ওপরে নয়, নিচে খুঁটি স্থাপন করতে। এতে নদীর স্বার্থ রক্ষা পাবে না।

চারটি নদীর বিষয়ে ২০০৯ সালে দেয়া হাইকোর্টের আদেশে সিএস ও আরএসের কথা বলা হয়েছে মূলত নদীর অবস্থান নির্ণয়ের জন্য। সীমানা চিহ্নিত হবে নদীর আকার অনুযায়ী। আদেশে নদীর সীমানা নির্ধারণে সবকিছু বিবেচনায় নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। অথচ জেলা প্রশাসন প্রতিবেদনে শুধু সিএস ও আরএস মানচিত্র অনুসরণে জরিপ করতে চাইছে। এভাবে করা হলে বর্তমানে স্থাপিত খুঁটিগুলো ১০০ থেকে ২০০ ফুট নদীর দিকে নামিয়ে নিতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ