ঢাকা, সোমবার 9 April 2018, ২৬ চৈত্র ১৪২৪, ২১ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

শাহবাগে শির্ক্ষীদের বিক্ষোভে পুলিশের কাঁদুনে গ্যাস-লাঠিপেটা

স্টাফ রিপোর্টার : সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে একদল শিক্ষার্থী ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ শাহবাগ মোড় সাড়ে চার ঘণ্টা অবরোধের পর লাঠিপেটা করে ও কাঁদুনে গ্যাস ছুঁড়ে তাদের তুলে দিয়েছে পুলিশ। গতকাল রোববার রাত ৮টার দিকে পুলিশ আন্দোলনকারীদের উপর চড়াও হওয়ার সময় কর্তব্যরত কয়েকজন সাংবাদিককেও লাঠিপেটা করে।

এর আগে বেলা আড়াইটায় হাজারো শিক্ষার্থী অবস্থান নেয়ার পর থেকে ওই চৌরাস্তায় গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। বিক্ষোভকারী বলছিল, সংসদে ঘোষণা না আসা পর্যন্ত অবস্থান চালিয়ে যাবেন তারা। পুলিশ জলকামান নিয়ে সেখানে শুরু থেকে অবস্থান নিলেও ছিল সংযত।

ডিএমপির রমনা জোনের উপ-কমিশনার মারুফ হোসেন সরদার বিকালে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “তারা আন্দোলন করছে, করুক। জনদুর্ভোগ যাতে না হয়, সেজন্য অনুরোধ করছি।”

অফিস ছুটির ওই সময় মৎস্য ভবন, টিএসসি ও সায়েন্সল্যাব এলাকা থেকে শাহবাগমুখী যানবাহন ঘুরিয়ে দিচ্ছিল পুলিশ। ফলে ওই সব মোড় ঘিরে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছিল।

সন্ধ্যায় আন্দোলনকারীদের অন্যতম নেতা মো. উজ্জ্বল মিয়া বলছিলেন, “সংসদ অধিবেশন চলছে এখন, আমরা চাই এই অধিবেশন থেকেই ঘোষণা দেয়া হোক কোটা পদ্ধতি সংস্কারের। যদি ঘোষণা না দেয়া হয় তাহলে উঠব না।” এই বিক্ষোভ শুরুর কয়েক ঘণ্টা পর বিকালে দশম সংসদের ২০তম অধিবেশন শুরু হয়। এরপর সন্ধ্যা ৭টায় পুলিশ কাঁদুনে গ্যাস ছোঁড়া শুরু করে। অবরোধকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে শুরু করে লাঠিপেটা। পুলিশের হামলার মুখে কয়েক মিনিটের মধ্যে শাহবাগ মোড় থেকে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় আন্দোলনকারীরা। সড়ক হয়ে যায় ফাঁকা। ওই সময় পাবলিক লাইব্রেরির সামনে চার সংবাদকর্মী ঢাকা ট্রিবিউনের ফাহিম রেজা নূর, প্রথম আলোর আসিফুর রহমান, ইউএনবির ইমরান হোসেন, বাসসের কামরুজ্জামান রেজা এবং বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের তারেক হাসান নির্ঝরের উপর পুলিশ হামলা চালায়।

পুলিশের ধাওয়ায় আন্দোলনকারীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে ঢুকে পড়ে চারুকলার সামনে অবস্থান নিয়ে সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। অন্যদিকে পাবলিক লাইব্রেরির সামনে অবস্থান নিয়ে থেমে থেমে তাদের লক্ষ্য করে কাঁদুনে গ্যাস ছুঁড়ছে পুলিশ।  

কোটা পদ্ধতির সংস্কারের দাবিতে বেশ কিছু দিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছে ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’। গত ১৪ মার্চ তারা ৫ দফা দাবিতে স্মারকলিপি দিতে সচিবালয় অভিমুখে যেতে চাইলে পুলিশি ধরপাকড় ও আটকের শিকার হন। তারপর নানা কর্মসূচি পালনের পর গতকাল রোববার শাহবাগে অবস্থান নেয় তারা। প্রথমে পাবলিক লাইব্রেরির সামনে তারা সমবেত হয়। এরপর মিছিল করে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেয়। তারা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মোজাম্মেল হক খানের কুশপুতুল দাহ করে।

পুর্ববতী খবরে বলা হয়, সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটা ব্যবস্থা ১০ শতাংশে নামিয়ে আনাসহ মোট পাঁচ দফা দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছেন আন্দোলনকারীরা। গতকাল রোববার দুপুর ৩ টার দিকে তারা মিছিল নিয়ে শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন। এতে শাহবাগ থেকে মতিঝিল, ফার্মগেট, নিউমার্কেট এবং দোয়েল চত্বরে যাওয়ার রাস্তাগুলোতে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

 এর আগে দুপুর ২ টায় ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’ এর ব্যানারে পূর্বঘোষিত পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে জড়ো হন আন্দোলনকারীরা। পরে পদযাত্রা করে নীলক্ষেত ও কাঁটাবন ঘুরে শাহবাগ মোড়ে যান তারা। পরে সেখানেই অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। এসময় তারা চারপাশের রাস্তার মোড় আটকে দেন ও রাস্তার উপরে বসে পড়েন। এ সময় কেউ কেউ রাস্তায় শুয়ে অবস্থান নেন।

আন্দোলনকারীরা তাদের দাবির পক্ষে বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিতে থাকেন। তাদের চারপাশে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ধীরে ধীরে পুলিশের সংখ্যা বাড়ানো হয়।

আন্দোলনকারীদের হাতে বিভিন্ন ধরনের প্লাকার্ড দেখা যায়। এতে লেখা-১০ শতাংশের বেশি কোটা নয়, বঙ্গবন্ধুর বাংলায় কোটা বৈষম্যের ঠাঁই নাই, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বৈষম্য থাকবে না, জেগেছে তরুণ জেগেছে দেশ কোটা মুক্ত বাংলাদেশ, কোটা প্রথা নিপাত যাক মেধাবীরা মুক্তি পাক ইত্যাদি।

 কোটা সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন বলেন, অবিলম্বে সরকারি চাকরিসহ সব ধরনের চাকরিতে কোটা প্রথার সংস্কার করতে হবে। কোটা প্রথার সংস্কার ছাড়া আন্দোলনকারীরা রাজপথ ছাড়বে না। আমাদের আন্দোলন মুক্তিযুদ্ধ কোটার বিরুদ্ধে নয় কিংবা কোটা প্রথার বিরুদ্ধে নয়। আমরা কোটার যৌক্তিক সংস্কার চাই।

তিনি আরো বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কোটায় প্রার্থী পাওয়া না গেলে তা মেধায় পূরণ করা হবে। কিন্তু গত এপ্রিল সোমবার মন্ত্রণালয় থেকে কোটা বিষয়ক যে পরিপত্র জারি করা হয়েছে তাতে কোটা দিয়ে কোটা পূরণ করার কথা বলা হয়েছে। এটা প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

ডিএমপি রমনা জোনের উপকমিশনার আজিমুল হক জানান, ‘মিছিল করেই আন্দোলনকারীদের সরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শত শত শিক্ষার্থী পদযাত্রা নিয়ে শাহবাগ অবরোধ করেছে। তারা যান চলাচল  বন্ধ করে দিয়েছে। আমরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলছি এবং উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।’

সূত্র জানায়, কোটা সংস্কারসহ পাঁচ দফা দাবিতে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ও জেলা পর্যায়ে আন্দোলন কর্মসূচি পালন করে আসছেন চাকরি প্রত্যাশীরা।

তাদের দাবিগুলো হচ্ছে- কোটা ব্যবস্থা সংস্কার করে ৫৬ ভাগ থেকে ১০ ভাগে নিয়ে আসা, কোটায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে শূন্যপদে মেধা তালিকা থেকে নিয়োগ দেয়া, কোটায় কোনো ধরনের বিশেষ নিয়োগ পরীক্ষা না নেয়া, সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে সবার জন্য অভিন্ন বয়সসীমা নির্ধারণ করা এবং চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা সুবিধা একাধিকবার ব্যবহার না করা। সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে ঢাকাসহ সারা দেশে গণপদযাত্রা কর্মসূচি পালন করছেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীরা।

 কেন্দ্রীয়ভাবে রোববার বেলা ২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে থেকে এই পদযাত্রাটি শুরু হয়। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনের রাস্তা দিয়ে বের হয়ে রাজু স্মৃতি ভাস্কর্য হয়ে নীলক্ষেত ও কাঁটাবন ঘুরে শাহবাগের মোড়ে এসে অবস্থান নেন তারা।

শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীরা শাহবাগের মূল রাস্তায় অবস্থান নেয়ায় যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। পূর্ব ঘোষিত পদযাত্রা কর্মসূচিতে অংশ নিতে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরুদ্ধ করে রেখেছে আন্দোলনকারী সাধারণ শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীরা। রোববার দুপুর ৩টার দিকে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেয় তারা।

 কোটা পদ্ধতির সংস্কারের দাবিতে বেশ কিছু দিন ধরে আন্দোলন চলছে। ওই আন্দোলনের অংশ হিসেবে ১৪ মার্চ ৫ দফা দাবি নিয়ে স্মারকলিপি দিতে সচিবালয় অভিমুখে যেতে চাইলে পুলিশি ধরপাকড় ও আটকের শিকার হন তিন আন্দোলনকারী। এরপর আরো বেশ কয়েকটি কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনকারীরা।

এ সময় আন্দোলনকারীরা কোটা সংস্কারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। তাঁদের হাতে থাকে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড। তাতে লেখা ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই’, ‘শেখ হাসিনার বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই,’ ‘আমাদের দাবি আমাদের দাবি, মানতে হবে মেনে নাও,’ ‘কোটা দিয়ে কামলা নয়, মেধা দিয়ে আমলা চাই,’ ‘১০%-এর বেশি কোটা নয়’।

 কোটা পদ্ধতির সংস্কারের দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরে আন্দোলন চলছে। ওই আন্দোলনের অংশ হিসেবে তাঁরা এই কর্মসূচি পালন করেন।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে হলে কোটার সংস্কার করতে হবে। আর আমাদের এই দাবি যৌক্তিক। আমরা চাই, সরকার আমাদের যৌক্তিক দাবি মেনে নেবে।’

 কোটা সংস্কারকারীদের অন্য দাবিগুলোর মধ্যে আছে কোটার যোগ্য প্রার্থী না পেলে শূন্যপদে মেধায় নিয়োগ, কোটায় কোনো ধরনের বিশেষ নিয়োগ পরীক্ষা না নেওয়া, সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে অভিন্ন বয়সসীমা, নিয়োগ পরীক্ষায় একাধিকবার কোটার সুবিধা ব্যবহার না করা।

এদিকে  শাহবাগের মতো , জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক, ঢাকা-কুমিল্লা মহাসড়ক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে রাজশাহী-নাটোর মহাসড়ক, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় রংপুর, সিলেট, নরসিংদী, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এর পাশের মহাসড়কে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা।

রাবি রিপোর্টার: কোটা ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি এ বিষয়টি সংস অধিবেশনের মাধ্যমে সমাধান করা হোক। রোববার বিকেল ৪টার দিকে কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশহিসেবে প্রায় দেড়ঘন্টা মহাসড়ক অবরোধ করা হয়। এতে রাস্তার দু’পাশে প্রায় শতাধিক যানবাহন আটকে থাকে। ফলে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আন্দোলনকারীরা বিশ^বিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে একটি মিছিল বের করে। এসময় তারা মিছিলটি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে মহাসড়ক অবরোধ করে। এতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

মহাসড়ক অবরোধের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ^বিদ্যালয় কোটা সংস্কার আন্দোলন কমিটির আহ্বায়ক মাসুদ মোন্নাফ বলেন,‘ বিকেলে সংসদ অধিবেশন বসবে। এতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেন আমাদের কোটা সংস্কার গুরুত্বের সাথে নেয় এবং আমাদের দাবির পক্ষে কথা বলে এজন্য কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে আমরা সড়ক অবরোধ করেছি। কেন্দ্রীয় নির্দেশ না আসা পর্যন্ত অবরোধ চলবে।’

এবিষয়ে বিশ^বিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন,‘ কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক অবরোধ করেছে।’

নগরীর মতিহার থানার (ভারপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে মহাসড়ক অবরোধ করে।’

এর আগে তারা দুপুর ২টায় গণপদযাত্রা করে। পদযাত্রাটি বিশ^বিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের কাজলা ও প্রধান ফটক ঘুরে গ্রন্থাগারের সামনে এসে মিলিত হয়।

চট্টগ্রাম ব্যুরো : নগরী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের(চবি) শিক্ষার্থীরা চাকরিতে কোটা ৫৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন। গতকাল রোববার দুপুরে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী নগরীর ষোলশহর থেকে দুই নম্বর গেট। সেখান থেকে একেবারে আগ্রাবাদ পর্যন্ত দীর্ঘপথ হেঁটে কোটা সংস্কারের দাবি জানান। এ সময় তারা শ্লোগান দেন। বিতরণ করেন দাবিসম্বলিত লিফলেট। তাদের দাবি, বিদ্যমান ৫৬ শতাংশ কোটা পদ্ধতি সংস্কার করতে হবে। চাকরিতে কোটা ১০ শতাংশে নামিয়ে আনতে হবে।

আন্দোলনকারীদের একজন প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাকিব হাসান বলেন, আমাদের পাঁচ দফা দাবি হলো কোটাব্যবস্থা সংস্কার করে ৫৬ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নিয়ে আসা, কোটায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে মেধা থেকে শূন্য পদে নিয়োগ দেওয়া, কোটায় কোনো ধরনের বিশেষ পরীক্ষা না নেওয়া, সরকারি চাকরিতে সবার জন্য অভিন্ন বয়সসীমা এবং চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় কোটাসুবিধা একাধিকবার ব্যবহার না করা।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত আরমান উল হক বলেন, কেন্দ্রীয় যেকোনো কর্মসূচি পালন করতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সবসময় প্রস্তুত আাছে। আমাদের দাবি না মানা পর্যন্ত এ আন্দোলন চলবে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নম্বর গেটেও কোটা সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

সিলেট ব্যুরো : সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতির সংস্কারসহ পাঁচ দফা দাবিতে সারা দেশের ন্যায় বিভাগীয় নগরী সিলেটেও পদযাত্রা, সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন চাকুরি প্রার্থীরা। গতকাল রোববার বেলা ২টায় ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ সিলেট’ এর ব্যানারে পদযাত্রার পর চৌহাট্টায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ও চাকুরি প্রার্থীরা। 

নগরীর গুরুত্বপূর্ণ চৌহাট্টা পয়েন্ট অবরোধ  করে বিক্ষোভ করতে থাকলে যানবাহন চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। সিলেট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার প্রাঙ্গন থেকে বেলা ২টায় পদযাত্রার শুরু হয়ে জিন্দাবাজার, বন্দরবাজার হয়ে আবার চৌহাট্টায় গিয়ে সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। বিভিন্ন ধরনের প্ল্যাকার্ড আর জাতীয় পতাকা হাতে বহন করে পদযাত্রায় অংশ নেন সিলেটের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজের শিক্ষার্থী ও চাকুরি প্রার্থীরা। বিক্ষোভ চলাকালে বিক্ষোভকারী স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত করে তুলে গোটা এলাকা। এ সময় ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায় কোটা বৈষম্যের ঠাঁই নাই, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বৈষম্য থাকবে না, ১০ শতাংশের বেশি কোটা নয়, মেধাবীদের বাংলায় কোটা প্রথা চলবেনা, কোটা প্রথা নিপাত যাক মেধাবীরা মুক্তি পাক, কোটা প্রথা হলে দুর দেশ হবে সিঙ্গাপুর’এমন স্লোগান দিতে দিতে পদযাত্রা করেন আন্দোলকারীরা। 

পদযাত্রা শেষে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের কয়েকজন বক্তব্য রাখেন। বক্তারা বলেন, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে বৈষম্য দূর করার জন্য কিন্তু আজ দেখা যাচ্ছে এ দেশের মেধাবীরা চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে বৈষম্যের স্বীকার হচ্ছে। মেধাবীরা চাকরি থেকে বঞ্চিত হয়ে বেকারত্বকে বরণ করতে হচ্ছে। কিন্তু কিছু লোকের ছেলে মেয়েরা বিশেষ সুবিধা পেয়ে যাচ্ছে। এটা হতে পারেনা। সাধারণ ছাত্র সমাজ রাজপথে নেমেছে দাবী আদায় করেই ঘরে ফিরবে। এসময় বক্তব্য রাখেন আন্দোলনের সিলেট জেলা শাখার আহবায়ক শাবি লোক প্রশাসন বিভাগের বিভাগের শিক্ষার্থী  মো. নাসির উদ্দিন, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সোহেল রানা, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান আল আমিন ভূঁইয়া এবং শাবি শিক্ষার্থী রিপণ মাহমুদ, আশরাফুল আলম প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ