ঢাকা, সোমবার 9 April 2018, ২৬ চৈত্র ১৪২৪, ২১ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খালেদা জিয়াকে ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে দেয়ার দাবি বিএনপির

স্টাফ রিপোর্টার : কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার এক্সরে রিপোর্ট কারা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) কর্তৃপক্ষ। গতকাল রোববার দুপুর ১টার দিকে সিলগালা অবস্থায় এক্সরে রিপোর্টটি কারা মহাপরিদর্শকের কাছে পাঠানো হয়। বিএসএমএমইউ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আবদুল্লাহ-আল-হারুন এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী আছেন। স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য শনিবার তাকে বিএসএমএমইউতে আনা হয়। খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত একজন চিকিৎসক ও তিন সদস্যের মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ অনুসারে তার পাঁচ ধরনের (সার্ভিক্যাল স্পাইন, লাম্বার স্পাইন, হিপ জয়েন্ট (দুটি) ও পেলভিস) এক্সরে করে বিএসএমএমইউ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

বিএসএমএমইউ’র ভিসি অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া গণমাধ্যমকে বলেন, আমাকে রেডিওলজি ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. এনায়েত করিম জানিয়েছেন, তারা খালেদা জিয়ার রিপোর্ট সিলগালা করে কারা কর্তৃপক্ষ বরাবর পাঠিয়ে দিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. শামসুজ্জামান শাহীন বলেন, খালেদা জিয়ার এক্স-রে ও রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট কারা কর্তৃপক্ষের হাতে পৌঁছেছে বলে শুনেছি। আমাদের সঙ্গে সোমবার কারা কর্তৃপক্ষ যোগাযোগ করতে পারে। তারা যোগাযোগ করলে আমরা রিপোর্ট দেখবো। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার বর্তমানে এমন কোনও রোগ নেই, যা এদেশে চিকিৎসা করা সম্ভব নয়। তার রিউমেটাল আর্থ্রাইটিস ও অস্টোআর্থ্রাইটিস রয়েছে। যদিও তার হাঁটু প্রতিস্থাপন করা আছে। এ নিয়ে তার কোনও অভিযোগ নেই বলে তিনি আমাদের জানিয়েছেন। আমরা চারজন যে চিকিৎসা দিয়ে এসেছি তাতে তার উন্নতি হবে। এখন তার যে অবস্থা তাতে বিদেশে তার চিকিৎসার দরকার নেই।

এদিকে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের অধীনেই দলীয় চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিশ্চিত করতে দাবি জানিয়েছে বিএনপি। দলটির দায়িত্বশীল একাধিক নেতা বলছেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন বহুদিন ধরেই সুনির্দিষ্ট চিকিৎসক দিয়ে তার চিকিৎসা করান। আর এ কারণেই শনিবার (৭ এপ্রিল) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএসএমইউ) খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিষয়টিকে লোক-দেখানো বলে মনে করেন তারা। 

বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা সরকারের লোক-দেখানো বলে দাবি করেছেন চিকিৎসকদের সংগঠন ড্যাব-এর মহাসচিব ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার শুধু কয়েকটি এক্স-রে করানো হয়েছে। এর বাইরে আর কিছু করা হয়নি। সেখানে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের কোনও পরামর্শ নেয়া হয়নি। খালেদা জিয়াকে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের সঙ্গে দেখা করতে এবং কোনও পরীক্ষা করতে দেয়া হয়নি।

বিএনপির তরফে একাধিকবার বলা হয়েছে, খালেদা জিয়া তার শারীরিক বিষয়ে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের উপরই নির্ভর করেন। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও এরই মধ্যে জানিয়েছেন, তার দলের চেয়ারপার্সনের চিকিৎসার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের ভূমিকাই প্রয়োজন। এমনকি খালেদা জিয়াও কারা কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলেন, তিনি তার চিকিৎসকদের বাইরে কারও ব্যবস্থাপত্র গ্রহণ করবেন না। শনিবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদও বিষয়টির পুনরুল্লেখ করেন।

বিএনপির চেয়ারপার্সনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, আমি চেয়ারপার্সনকে কাছ থেকে যতটা দেখেছি, বিগত ২০১৫ সালের ৯২ দিনের আন্দোলন সময় বা এর পরবর্তী সময়ে ডা. মামুন নিয়মিত ম্যাডামের স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নিয়েছেন, ব্যবস্থাপত্র দিয়েছেন। তিনিই ম্যাডামের স্বাস্থ্যগত বিষয়গুলো দেখভাল করেন। ফলে, কারারুদ্ধ অবস্থায় সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে ব্যক্তিগত চিকিসকের বাইরে ওষুধপত্র গ্রহণে ম্যাডামের আপত্তি আছে।

ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন প্রশ্ন করেন, খালেদা জিয়াকে শনিবার কেন আনা হলো, যদি তার চিকিৎসকদের দেখতে ও পরীক্ষা করতে দেওয়া না হয়? তার ভাষ্য, এটা আসলে দেশবাসীকে দেখানো যে আমরা তাদের সুযোগ দিয়েছি। জাহিদ হোসেন বলেন, এক্স-রেতে কি তার রোগ ধরা পড়বে? তার দরকার হচ্ছে এমআরআইসহ তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকের যা পরামর্শ থাকবে সেই পরীক্ষাগুলো করানো। তিনি বলেন, বিএনপি ও খালেদা জিয়ার পরিবার প্রথম থেকে দাবি জানিয়ে আসছে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসা করার জন্য। এখনও আমাদের দাবি এটাই। আমরা এখনও বলছি, খালেদা জিয়াকে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের অধীনে চিকিৎসা নিতে দিতে হবে। তাদের পরামর্শ অনুযায়ী যা পরীক্ষা করানো দরকার তা করতে সুযোগ দিতে হবে। এ জন্য খালেদা জিয়ার পরিবার থেকে অনুমতি চেয়ে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেয়া হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ