ঢাকা, সোমবার 9 April 2018, ২৬ চৈত্র ১৪২৪, ২১ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আগামী জাতীয় নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের পক্ষে সিইসি

 

স্টাফ রিপোর্টার : আগামী জাতীয় নির্বাচনে সেনা মোতায়েন হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা। তিনি বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে একবারও বলিনি যে সেনা মোতায়েন হবে না। তবে এটা আমার একার সিদ্ধান্তের বিষয় নয়। ইসির আরো পাঁচজন সদস্য আছেন, তারা মিলেই সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের পক্ষে নন তিনি। 

গতকাল রোববার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এক আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি সেনা মোতায়েনের পক্ষে নিজের অবস্থানের কথা জানান। 'বাংলাদেশে প্রবাসী ভোটাধিকার প্রবর্তন: সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ' শীর্ষক এক আলোচনা সভা তিনি এসব কথা বলেন। ‘ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপ’ এই সভার আয়োজন করে। ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপের নির্বাহী সদস্য আব্দুল আওয়ালের সভাপতিত্বে এ আলোচনায় প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক আবদুল আলিম প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিয়ে একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

সভায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা বলেন, বিগত জাতীয় নির্বাচনগুলোতে সেনা মোতোয়েন করা হয়েছিল। আগামী জাতীয় নির্বাচনেও সেনা মোতায়েন হওয়া উচিত। তিনি বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে একবারও বলিনি যে সেনা মোতায়েন হবে না। তবে এটা আমার একার সিদ্ধান্তের বিষয় নয়। ইসির আরো পাঁচজন সদস্য আছেন, তারা মিলেই এটা সিদ্ধান্ত নেবেন। সিইসি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সেনা মোতায়েন করা উচিত বলে আমি একদম মনে করি না। তবে জাতীয় নির্বাচনে তিনি সেনা চাইলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের পক্ষে নন।

আলোচনা সভায় সিইসি বলেন, যারা ভোট গ্রহণের দায়িত্বে থাকেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, যারা জেলে থাকেন অথবা প্রবাসীরা- সব মিলিয়ে এ সংখ্যা ১০ থেকে ১২ লাখ। তারা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন না। তাদের জন্য দুইভাবে ভোট প্রদানে পদ্ধতি প্রচলিত আছে। যেমন পোস্টাল ব্যালট এবং প্রক্সি সিস্টেম। তফসিল ঘোষণার ১৫ দিনের মধ্যে এসব মানুষকে রিটার্নিং অফিসার বরাবর আবেদন করতে হয় যে, আমি ভোট দিতে চাই। সেক্ষেত্রে তার জন্য ব্যালট পাঠানো হয়।

  কে এম নুরুল হুদা বলেন, আগামী নির্বাচনের আগে আমরা এ পদ্ধতির বিষয়ে ব্যাপকভাবে প্রচার চালাবো। এছাড়া বিভিন্ন দেশে যেখানে বাংলাদেশীরা আছেন সেই দেশের নিয়োজিত রাষ্ট্রদূতদের কাছে এ বিষয়ে চিঠিও পাঠানো হবে। প্রবাসীরা ভোটাধিকার প্রয়োগের বিষয়ে আমরা সব ধরনের আলোচনা করবো।

 তিনি বলেন, পোস্টাল ব্যালট ছাড়া আরেক পদ্ধতি আছে সেটা হলো প্রক্সি সিস্টেম। যারা প্রতিবন্ধী, অন্ধ, বয়স্ক, শারীরিকভাবে অক্ষম তাদের প্রতিনিধিদের মাধ্যেমে ভোটধিকার প্রয়োগ করা। কিন্তু বিদেশে যারা থাকেন তাদের জন্য এ পদ্ধতি চালু নেই। এর জন্য আলোচনা মাধ্যমে কোন পথ বের করা যায় কী না সেটা দেখতে হবে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমাদের দেশের সেনাবাহিনী পৃথিবীর অনেক দেশেই নির্বাচন পরিচালনা করে, কিন্তু আমাদের দেশে পারবে না- এটা কেমন কথা? সেনাবাহিনী নির্বাচনের সময় মাঠে থাকলে ক্ষমতাসীনদের অসুবিধা হবে, বিশৃঙ্খলা করতে অসুবিধা হবে। তাই তারা নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের বিপক্ষে। নির্বাচন কমিশন যদি ভোটারদের পক্ষ না নেয়, তাদের পক্ষ নেয় তাহলে আমাদের কিছু বলার নেই।

প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিয়ে বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম খান সংবিধান ও আইন পরিবর্তন করে হলেও প্রবাসীদের ভোটাধিকারের ব্যবস্থা করতে নির্বাচন কমিশন ও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। কিন্তু পাশাপাশি তিনি বলেন, প্রবাসীরা তো দূরে থাক যারা দেশে ছিলেন, গত নির্বাচনে তারাও ভোট দিতে পারেননি। এই যখন বাস্তবতা তখন প্রবাসীদের ভোটাধিকারের আগে দেশে অবস্থানকারী জনগণের ভোটাধিকার নিয়ে ভাবা দরকার।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সম্পাদক ম-লীর সদস্য ফারুক খান বলেন, একটা কথা বার বার বলা হচ্ছে সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে। আমি জানি না এই কনফিউশনটা কেন সৃষ্টি হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন আমাদের আশ্বস্ত করেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন হবে। কীভাবে হবে সেটা কমিশন জানে। কোনো কোনো রাজনৈতিক দল বিভ্রান্তি সৃষ্টির জন্য এ নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। 

তিনি বলেন, নির্বাচনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। আওয়ামী লীগ এ বিষয়ে কোনো আপত্তি জানায়নি। আমাদের সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করেছে। আমরা মনে করি, কমিশন এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

প্রসঙ্গত, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে কোন পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষাবাহিনীর সদস্যদের নিয়োগ করা যাবে ১৮৯৮ সালের প্রণীত ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৯ থেকে ১৩১ ধারায় এবং সেনা বিধিমালায় ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ শিরোনামে তার ব্যাখ্যা রয়েছে।

প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক খান বলেন, প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিয়ে নীতিগত বাধা যেমন রয়েছে, তেমনি এ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতিরও অভাব রয়েছে। বিষয়টি দলীয় ফোরামের আলোচনায় তুলব আমি। নির্বাচন কমিশন যদি এটা আমাদের কাছে নিয়ে আসে আমরা সহযোগিতা করব। তিনি বলেন, নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে অনেক গলৎ থাকতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের মত দেশেও নির্বাচন নিয়ে কথা উঠেছে। তারপরও নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচন পদ্ধতির ওপর বিশ্বাস রাখতে হয়।

সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, প্রবাসীদের ভোটাধিকারের আগে দ্বৈত নাগরিক ও প্রবাসীদের মধ্যে কারা ভোট দিতে পারবেন- তা আইনের মাধ্যমে স্পষ্ট করা প্রয়োজন। নির্বাচন আয়োজনে যুক্ত কর্মকর্তাদের ভোটাধিকারের বিষয়টি সামনে এনে তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের সময় নির্বাচনী কাজে যুক্ত প্রায় ১২ লাখ ভোটার এখনও ভোট দিতে পারেন না। তাদের ভোটাধিকারের বিষয়টি আগে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

ইসির সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমিন টুলী বলেন, বিদেশে অবস্থানকারীদের ভোট গ্রহণ করা সত্যিই জটিল ও কষ্টসাধ্য। যেসব পদ্ধতির কথা আলোচনায় আসছে, তার প্রত্যেকটি সঙ্গে অনেক বাধা জড়িত। প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, সরকার কিংবা জাতীয় সংসদ চাইলে ইসি প্রবাসীদের ভোটাধিকার দিতে প্রস্তুত। শিগগিরই ইসিতে এ বিষয়ে আলোচনা হবে।

আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে সাবেক রাষ্ট্রদূত আব্দুল মোমেন চৌধুরী, সাবেক রাষ্ট্রদূত নাসিম ফেরদৌস, বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক পররাষ্ট্র সচিব সমশের মুবিন চৌধুরীসহ নাগরিক সমাজের কয়েকজন প্রতিনিধি বক্তব্য দেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ