ঢাকা, সোমবার 9 April 2018, ২৬ চৈত্র ১৪২৪, ২১ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সিটি নির্বাচনে ইভিএম বাতিল এবং  সেনা মোতায়েনের দাবি বিএনপির

 

স্টাফ রিপোর্টার: গাজীপুর ও খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সেনা মোতায়েন দাবি করেছে বিএনপি। একইসাথে ইভিএমে ভোট বাতিল চেয়েছে দলটি। গতকাল রোববার সকালে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই দাবি জানান।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সরকারের দলীয় বাহিনীর মতো কাজ করছে। ভোটাররা তাদের ওপর আস্থা পাচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে সেনা বাহিনী মোতায়েন অত্যাবশ্যক। শুধু তাই নয়, ইভিএম ব্যবহারে জনগণের আগ্রহ না থাকলেও নির্বাচন কমিশন অনেক সেন্টারের ইভিএম ব্যবহারের ঘোষণা দিয়েছে। এগুলো সবই সরকারের ইচ্ছারই প্রতিফলন বলে আমরা মনে করি। আমি বিএনপির পক্ষ থেকে অবিলম্বে দুই সিটি নির্বাচনী এলাকায় ইভিএম বাতিল  ও সেনা সেনাবাহিনী মোতায়েনের জোর দাবি জানাচ্ছি। 

উল্লেখ্য, আগামী ১৫ মে গাজীপুর ও খুলনা সিটি কর্পোরেশনে ভোট হবে। তফসিল অনুযায়ী, মেয়র, সাধারণ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ১২ এপ্রিল, যাচাই-বাছাই ১৫-১৬ এপ্রিল ও প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৩ এপ্রিল।

রিজভী বলেন, দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে লেভেল প্ল্যায়িং ফিল্ড বলে কিছু নেই। আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা সশস্ত্র মহড়া দিচ্ছে। ক্ষমতাসীন দল ও সন্ত্রাসীদের হাতে বৈধ ও অবৈধ অস্ত্রের ছড়াছড়ি। সরকার দলীয় নেতা-কর্মীরা মিছিল করছে, মিটিং করছে, সমাবেশ করছে বীরদর্পে।

 অন্যদিকে বিএনপিকে সভা-সমাবেশ দূরের কথা নেতা-কর্মীরা কেউই বাড়িতে রাতে ঘুমাতে পারছে না। তাদের জীবন কাটছে হয় জেলখানায় না হয় আদালতের বারান্দায়। আমি অবিলম্বে দুই সিটিতে লেভেল প্ল্যায়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা এবং নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার বন্ধ করে নির্বাচনের পরিবেশ তৈরির জোর দাবি জানাচ্ছি।

নারায়ণগঞ্জ কারাগারে বন্দী দলের চেয়ারপার্সনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রতি অমানিবক আচরণ করা হচ্ছে অভিযোগ করে রিজভী বলেন, তাকে একটি ছোট অন্ধকার কক্ষে রাখা হয়েছে। বন্দী মানুষ হিসেবে যতটুকু অধিকার পাওয়া দরকার সেটিও দেয়া হচ্ছে না কারাগারে। তার জামিন প্রক্রিয়া প্রলম্বিত  করছে সরকার। আমরা শিমুল বিশ্বাসের প্রতি সরকারের এহেন আচরণের নিন্দা জানাচ্ছি।

খালদা জিয়ার হাসপাতালে আসা প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, পুলিশী হিংসাত্মক আচরন ও নির্বিচারে গ্রেফতারের আতঙ্কজণক পরিবেশেও আপোষহীন নেত্রী কেমন আছেন সেটুকু দেখার জন্য উদগ্রীব ছিল দেশের আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা। অসুস্থতা সত্ত্বেও গণমাধ্যমের কল্যাণে জাতি দেখল দৃঢ়তর এক উন্নত মম শির। মুহূর্তে তার অন্তর্বার্তা পৌঁছে গেছে কোটি কোটি জনগণের হৃদয়ে। দেশবাসী আপনারা প্র¯ুÍত হোন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের তীব্র আন্দোলনে। দুর্নীতিপরায়ণ কলুষ থেকে মুক্ত করুন দেশমাতৃকাকে। হিংসার কারণে কারাদন্ড দিয়ে শাসকগোষ্ঠী ভেবেছিল আমি অসহ্য যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে টলে পড়বো বা রোগে শোকে কাতর হয়ে যাবো। কিন্ত সরকারের সে আশা কখনই সফল হবে না।  পিজি হাসপাতালে গাড়ি থেকে নামার পর জনতা দেখল সাহসী দৃঢ়চেতা আর আস্থায় অবিচল দেশনেত্রীকে। মানুষ উপলব্ধি করলো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে আপোষহীন নেত্রীর অকুতভয় দুর্জয় সাহস। কারাগারের উদ্দেশ্যে গাড়িতে তোলার সময় কেবিন ব্লকের বারান্দাগুলোতে রোগী, নার্স ও চিকিৎসকসহ উৎসুক হাজারো জনতা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সংগ্রামী এই নেত্রীকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। কারাগারের স্যাঁতস্যাঁতে অন্ধকার প্রকোষ্ঠে নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার পরও এতটুকু দমে যাননি বেগম খালেদা জিয়া। শনিবারের হাস্যোজ্জল অভিব্যক্তির সে বার্তাই জানান দিল।

সাংবাদিক সম্মেলনে দলের চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য তৈমুর আলম খন্দকার, আতাউর রহমান ঢালী, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম আজাদ, তাইফুল ইসলাম টিপু, আবদুল খালেক, সাইফুল ইসলাম পটু, কাজী রফিক প্রমুখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ