ঢাকা, সোমবার 9 April 2018, ২৬ চৈত্র ১৪২৪, ২১ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খুমেক সিসিইউতে সাত মাস  এসি নষ্ট ॥ গরমে ভোগান্তি

 

খুলনা অফিস : খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে করোনারী কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ) তে সাত মাস ধরে পাঁচটি এসি নষ্ট হয়ে আছে। দুইটি ইসিজি মেশিনের মধ্যে একটি নষ্ট, অপরটি জোড়াতালি দিয়ে চালানো হচ্ছে। নেই রেজিস্ট্রার চিকিৎসক। এই সব এর মধ্যে দিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে ওই বিভাগটি। এসি ঠিক করার জন্য হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের অবহিত করলেও নেই কোন উদ্যোগ। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এটিএম মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, এসি নষ্ট থাকার বিষয়টি পিডাব্লিউডির সংশ্লিষ্ট কর্তকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। এখন তারা কখন ঠিক করবে তারাই ভালো বলতে পারবেন। তিনি বলেন, জনবল সঙ্কট রয়েছে দীর্ঘবছর ধরে। খাতাকলমে হাসপাতালের জন্য সিসিইউতে আলাদা বিভাগ চালু নেই। রোগীদের স্বার্থে এটা খোলা হয়েছে। যতদ্রুত সম্ভব ওই সব সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদী। কার্ডিওলোজী বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডাঃ স ম দেলোয়ার হোসেন বলেন, এসি নষ্ট থাকার কারণে রোগীরা কষ্ট পাচ্ছেন। ইসিজি মেশিন দুইটির মধ্যে একটি দীর্ঘদিন নষ্ট আছে, অপরটি জোড়াতালি দিয়ে চালানো হচ্ছে। ওটাও যেকোন মুহূর্তে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একটি সিসিইউ চালাতে যেসব জনবল প্রয়োজন তা নেই। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকেই পাঁচটি এসি অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার অবহিত করলেও এখনো পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। যার কারণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অনেকটা অসহায় হয়ে পড়েন। সিসিইউতে সার্বক্ষণিক ডাক্তারের প্রয়োজন থাকলেও তা নেই। নিয়ম অনুযায়ী ওই বিভাগে দুইজন সহকারী রেজিস্ট্রার ও একজন রেজিস্ট্রার থাকার প্রয়োজন থাকলেও তাও নেই। ইসিজি দুইটির মধ্যে একটি নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। নেই ডিউটি ডাক্তার। কার্ডিওলোজী বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. স ম দেলোয়ার হোসেন দিনে দুইবার এসে রোগী দেখছেন। রাতেও এসে তিনি রাউন্ড দিয়ে যান। রোগীর আত্মীয় সাইফুল ইসলাম জানান, সার্বক্ষণিক কোনো ডাক্তার পাওয়া যায় না। কিছু হলেই নার্সদের কাছে বলা হচ্ছে। তারাই ব্যবস্থা নিচ্ছেন। এসি নষ্ট থাকার কারণে ভ্যাপসা গরমে আরও অসুস্থ হয়ে পড়তে হচ্ছে তার রোগীকে। ইসিজি অনেক সময় বাইরে থেকে করে আনা লাগছে। যেটা আছে তা দিয়ে তিনটির বেশি ইসিজি করা যাচ্ছে না বলে এখানকার দায়িত্বরতরা তাকে জানান। জানা গেছে, সিসিইউতে মোট ১৪টি বেড রয়েছে। সার্বক্ষণিক এই বিভাগে রোগীর চাপ লেগেই আছে। পুরুষ ও মহিলার কোনো আলাদাভাবে বেড নেই। অন্য রোগী চলে গেলে সিরিয়াল অনুযায়ী সেখানে আরেক রোগীকে ভর্তি করানো হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ