ঢাকা, মঙ্গলবার 10 April 2018, ২৭ চৈত্র ১৪২৪, ২২ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সংস্কৃতি ও বিশ্বাস

 

তানিয়া আক্তার : সংস্কৃতি হলো কোন জাতির জ্ঞান-বিজ্ঞান, সাহিত্য-দর্শন,শিল্প কারিগরি, ললিতকলা,   সমাজরীতি, জীবন পদ্বতি ইত্যাদি।কিন্তু প্রকৃত পক্ষে এগুলো সংস্কৃতিরর আসল প্রাণসত্বা নয়,তার ফলাফল বা বহিঃপ্রকাশ মাত্র। সংস্কৃতি বৃক্ষের মূল নয়,তার শাখা-প্রশাখা, পত্র-পল্লব মাত্র। যা বৃক্ষটির সৌন্দর্য প্রকাশ করে।

যেকোন গোষ্ঠীর সংস্কৃতি গঠিত হয়, সেই গোষ্ঠীর বিশ্বাস, দুনিয়ার জীবনের সম্পর্কে ধারনার উপর ভিত্তি করে। যেই গোষ্ঠীর বিশ্বাস যে ধরনের হবে, তাদের সমাজনীতি, সাহিত্য দর্শন,শিল্প কারিগরি ইত্যাদি সেই ধাঁচেই গড়ে ওঠবে।

♦উদাহরণ স্বরূপ-যে অঞ্চলের অধিকাংশ ব্যক্তি নাস্তিক তথা স্রষ্টায়য় বিশ্বাসী নয়,তাদের সংস্কৃতি যেমন হবে অপরদিকে যেই জনপদের অধিকাংশ ব্যক্তি আস্তিক, তাদের সংস্কৃতির রূপটা অবশ্যই পূর্বোক্তদের তুলনায় ভিন্ন হবে।

ঠিক তেমনি যারা এক স্রষ্টায়, যারা তিন স্রষ্টায়  আর যারা বহু স্রষ্টায় বিশ্বাসী তাদের ও সংস্কৃতি ভিন্ন হওয়াটাই যৌক্তিক। যদি সবার সংস্কৃতি কে একত্রিত করতে হয়,তবে কোন এক গোষ্ঠীকে তাদের সংস্কৃতিরর বিসর্জন দিতেই হবে।তখন সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি গড়ে ওঠা অসম্ভব।

সম্প্রতি তখনি গড়ে উঠবে,যখন সবাই নিজ নিজ সংস্কৃতি স্বাধীন ভাবে পালন করতে পারবে।

বর্তমানে বর্ষবরণ উৎসবকে পুঁজি করে একটি মহল আমাদের মুসলিম জাতিসত্ত্বা ধ্বংসের নানামুখী অপচেষ্টা চালাচ্ছে। উৎসবের নামে একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের আচার-অনুষ্ঠানাদি আমাদেরকে তাদের  সাংস্কৃতিক  গোলামে পরিণত করেছে। নববর্ষের বর্তমান ধারা নিম্নরূপ- 

নতুন বছরের আগমনের সাথে কল্যাণের সম্পর্ক স্থাপন এবং পুরোনো বছরের অকল্যাণকে দূরীভূত করার নামে তথাকথিত মঙ্গল শোভাযাত্রা চালুকরণ। 

কথিত মঙ্গলশোভাযাত্রার নামে প্রতিবেশী একটি দেশের বিশেষ গুরুত্বসম্পন্ন মূর্তি / প্রতীকের প্রচারণা চালানো হয়। যেমন- পুরাণের রামের সহচর হনুমান, তথাকথিত শুভাগমনের প্রতীক পেঁচা, শিবের বাহন ক্ষ্যাপা ষাঁড়, দূর্গার বাহন বাঘ/ সিংহ, লক্ষীর বাহন রাজহাঁস, ভারতের জাতীয় প্রতীক ময়ূর, হিন্দুদের পূজ্য গণেশ (হাতির প্রতীকরূপে) ও সূর্যদেবতা সহ রঙিন জীবজন্তুর মুখোশে মুখ ঢেকে, রাধা-কৃষ্ণের  যুগলরূপ ধারণ করে  মিছিল বের করা হয়। 

সম্প্রতি দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কথিত মঙ্গলশোভাযাত্রা বাধ্যতামূলক করা ও  ইউনেস্কো কর্তৃক মঙ্গলশোভাযাত্রাকে (মঙ্গল শোভাযাত্রায় যে ‘যাত্রা’ শব্দটি ব্যবহার করা হচ্ছে, তারও  উৎপত্তি হয়েছে একটি বিশেষ ধর্মীয় অর্থ থেকে। উইকিপিডিয়ায় (ইংরেজী) বলা হয়েছে ‘যাত্রা’ শব্দটি ব্যবহৃত হয় হিন্দুদের কোন ধর্মীয় কার্যে গমন অর্থে) অন্যতম বিশ্ব ঐতিহ্য ঘোষণা করার মাধ্যমে মুসলিমপ্রধান বাংলাদেশের প্রকৃত পরিচয়কে ক্ষুণœ করার পাঁয়তারা চলছে।

এছাড়াও বর্তমানে প্রতিটি গ্রাম পর্যায়ে কথিত মঙ্গলশোভাযাত্রা চালু করার সিদ্ধান্ত  নেয়া হচ্ছে যার ফলে পরিকল্পিতভাবে প্রতিবেশী দেশের বাংলাভাষী হিন্দু জনগোষ্ঠীর কুসংস্কারাচ্ছন্ন সংস্কৃতি বাঙালীয়ানার নামে এদেশের মুসলিম জনসাধারণের বিশ্বাস ও সংস্কৃতিতে অনুপ্রবেশ ঘটানো সহজতর হবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশিষ্টজনেরা। 

পহেলা বৈশাখ উদযাপনের নামে একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের আবশ্যিক পালনীয় ধর্মীয় উৎসবের (চৈত্রসংক্রান্তি ও বৈশাখী উৎসবের) বেশভুষা, সাজসজ্জা গ্রহণ ও সবধরনের আচার অনুষ্ঠান যেমন- “শাঁখা-সিঁদুরের রঙ লাল-সাদা” রঙের পোষাক প্রচলন, মঙ্গল প্রদীপ জ্বালানো,ঢাক-ঢোল, শঙ্খধ্বনি ও কাঁসার ঘন্টা বাজানো, উলুধ্বনি দেওয়া, হিন্দু-ভজন সঙ্গীত গাওয়া, চন্দন তিলক পরা, তরুণ -তরুণীদের রাখী বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া এবং উদ্দাম নৃত্য সম্বলিত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা।

এগুলো অবশ্যই আমাদের সংস্কৃতি নয়। আমাদের জন্য এখন সময়ের দাবি   -

♠ নিজস্ব সংস্কৃতিকে আঁকড়ে ধরে পথচলা।

♠ প্রত্যকেই নিজ নিজ ধর্মীয় বিধি মোতাবেক উৎসব পালন করবে। এতেই প্রকৃত কল্যাণ রয়েছে।

♠ আমরা অবশ্যই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখবো, তবে তা নিজেদের সংস্কৃতির মাধ্যমে। যাতে দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ বয়ে আনে।

♠ বৈশাখ এর আমেজকে উপভোগ করার অধিকার অবশ্যই সবার আছে। কিন্তু তা যেন না হয়, ভিত্তিহীন, কুসংস্কারমুলক।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ