ঢাকা, মঙ্গলবার 10 April 2018, ২৭ চৈত্র ১৪২৪, ২২ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সরকার আর দুদকের টার্গেট বিএনপি?

জিবলু রহমান : [চার] এদিকে নৌমন্ত্রী ও খাদ্যমন্ত্রীকে বোঝাতে সক্ষম হওয়ায় জুলাইয়ের পরে উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ হয়। নৌমন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, বাড়ির মালিকেরা এবং খাদ্যমন্ত্রী মাপজোখ করতে বলায় তখন উচ্ছেদ বন্ধ রাখা হয়।

আর খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, ‘বাড়ির মালিকেরা অভিযোগ করেছিলেন, ঠিকভাবে মাপজোখ না করেই নদীর সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতেই নৌমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছিলাম। এখন যদি ভাঙতে চায়, ভেঙে দিক।’

জুলাইয়ে উচ্ছেদ অভিযান চালানোর পর বেশির ভাগ বাড়ির লোকজন সরে গিয়েছিলেন। মাসখানেক আগে আবার সবাই ফিরে এসেছেন। ভেঙে দেয়া স্থাপনা মেরামত করা হয়। আগের স্থাপনার সঙ্গে নতুন অংশও যুক্ত হয়। নদীর অস্থায়ী সীমানা খুঁটির ভেতরের জায়গায় স্থাপনা রয়েছে ঢাকা-৭ আসনের সাংসদ হাজি মো. সেলিমের মালিকানাধীন মদীনা ট্রেডিংয়ের রড-সিমেন্ট বিক্রির একতলা পাকা স্থাপনা ও স মিল। পাশের দোতলা ভবনের মালিক মো. সিরাজ নতুন অংশ যুক্ত করেছেন। 

গুদারাঘাট সড়কের পাশেই একটি ছয়তলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। উচ্ছেদ অভিযানের পর ভবনটি তালাবন্ধ ছিল। তবে মাসখানেক আগে ভবনটি সংস্কার করে রং লাগানো হয়। নিচতলায় কুসুম কনফেকশনারি নামে একটি দোকান। দোকানি দুই লাখ টাকা আগাম দিয়ে ভাড়া নিয়েছেন। পাশেই নদীতীরে কেরামত আলী নামের এক ব্যক্তির আংশিক ভেঙে দেয়া দোতলা ভবন ও সীমানাদেয়াল মেরামত হচ্ছে।

অপর একটি দোতলা ও একতলা ভবনে নকিয়া ফ্রুট ইন্ডাস্ট্রিজ ও বেল্ট সু-প্লাস্টিক অ্যান্ড রাবার ফ্যাক্টরি। দক্ষিণ মুন্সিহাটি নদীর পাড়ে আরেকটি দোতলা ভবনে দোকানপাট। পাশেই পারফেক্ট ডেলটা ফ্যাক্টরি নামে একটি প্লাস্টিক ও ইনসাফ ফ্রুটস এগ্রো বেজ ইন্ডাস্ট্রিজের কারখানা। এ ছাড়া নদীতীরে রয়েছে ১৪টি স মিল, মিষ্টির দোকান, ডেইরি ফার্ম, গুদামসহ অবৈধ স্থাপনা।

নবাবচরে নদীতীরের অন্তত আধা কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নির্মিত স্থাপনাগুলোর নকশার অনুমোদন পর্যন্ত নেওয়া হয়নি। কামরাঙ্গীরচরের রসুলপুর থেকে বসিলা পর্যন্ত প্রায় ছয় কিলোমিটার এলাকায় নদীতীরে শত শত অবৈধ স্থাপনা রয়েছে। একইভাবে তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যার জায়গা বেদখলে রয়েছে। (সূত্র : দৈনিক প্রথম আলো ২ এপ্রিল ২০১৮)

নারকোটিক্সের ডিজির দুনীতির বিরুদ্ধে দুদককে আমরা কার্যকর ভূমিকা পালন করতে দেখিনী। অতিরিক্ত সচিব সালাউদ্দিন মাহমুদ বলেছিলেন, ‘আমি শিগগির খাদ্য মন্ত্রণালয় বা অন্য কোথাও ভালো পোস্টিং পাব। তখন তোমাদের সব টাকা ফেরত দিয়ে দেব’ ঘুষ নেয়া তার কাছে একেবারে মামুলি বিষয়। কোনো রাখঢাক নেই। অবলীলায় তিনি ঘুষ নিয়ে দরকষাকষি করেন। তার ব্যাচের অনেকে এখন সচিব। তিন মাসের জন্য প্রশাসন ক্যাডারের ৮৪ ব্যাচের এই কর্মকর্তা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের ডিজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এতে তিনি ঘুষের রেকর্ড গড়েন। অভিযোগ আছে, এ পদে নিয়োগ পেতেও তিনি বড় অঙ্কের অর্থ খরচ করেন। টাকার জোগান দেন মাদকের এক কর্মচারী। যে কারণে ডিজির চেয়ারে বসেই রীতিমতো ঘুষের দরবারে বসে যান। গণহারে টাকা নেয়া শুরু করেন। বদলিও করতে থাকেন ইচ্ছেমতো। 

সালাউদ্দিন মাহমুদ শুধু বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে ঘুষ নিয়েছেন তা নয়; অধিদফতরের আওতাধীন মদের বারের মালিক লাইসেন্সপ্রাপ্ত ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকেও নানা ছুঁতোয় ঘুষ নেন। এমকি অবৈধ মদের আস্তানা হিসেবে পরিচিত ধানম-ি ক্লাবের কর্মকর্তাদের কাছ থেকেও ২০ লাখ টাকা ঘুষ নেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে ২০১৭ সালের মার্চে প্রভাবশালী ধানম-ি ক্লাবে অভিযান চালায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। ক্লাবের বিভিন্ন কক্ষ থেকে প্রায় ২ ট্রাক অবৈধ বিদেশি মদ জব্দ করা হয়। অভিযানের সময় ক্লাবের কর্মকর্তারা পালিয়ে যান। পরে এ সংক্রান্ত মামলার আসামিসহ সংশ্লিষ্ট ক্লাব কর্মকর্তারা নিজেদের বাঁচাতে গোপনে তৎকালীন ডিজির সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। একপর্যায়ে ধানম-ি ক্লাবের কর্মকর্তা জীবন বাবুর সঙ্গে তিনি গুলশানের একটি রেস্টুরেন্টে বৈঠকে বসেন। আসামিদের বাদ দিয়ে মামলার ফাইনাল রিপোর্ট দেয়ার ব্যবস্থা করবেন-এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি ঘুষের টাকাভর্তি ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে যান। কিন্তু তিনি জানতেন না রেস্টুরেন্টের বাইরে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা তার ওপর নজর রাখছেন। ফলে তার রেস্টুরেন্টে ঢোকা থেকে শুরু করে বৈঠক-পরবর্তী ‘ভারি ব্যাগ’ নিয়ে বেরিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গোয়েন্দা প্রতিবেদন দেয়া হয়।

২৯ মার্চ ২০১৭ সালাউদ্দিন মাহমুদ ডিজি হিসেবে যোগ দেয়ার আগে নারকোটিক্সে রীতিমতো বদলি বাণিজ্যের মহোৎসব চলে। তার পূর্ববর্তী মহাপরিচালক খন্দকার রাকিবুর রহমান মাত্র এক বছরে প্রায় সাড়ে ৭শ’ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বদলি করলে মন্ত্রণালয়ের টনক নড়ে। নতুন ডিজি পোস্টিং দেয়ার পর পরই লিখিত আকারে বেশ কয়েকটি গাইডলাইন দেয়া হয়। বিশেষ করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি ও বার লাইসেন্স ইস্যুর ক্ষেত্রে এই গাইডলাইন কঠোরভাবে মেনে চলার কথা বলা হয়। কিন্তু ডিজি হিসেবে যোগ দিয়েই সালাউদ্দিন মাহমুদ ফের বদলি বাণিজ্য শুরু করেন। মাত্র এক মাসের মধ্যে তিনি অন্তত ২০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বদলি করেন। বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ পেয়ে মন্ত্রণালয় থেকে শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়। কিন্তু নোটিশকে পাত্তা না দিয়ে আরও কয়েকটি বদলির অর্ডার জারি করলে ক্ষুব্ধ হয় মন্ত্রণালয়। ২৯ জুন ২০১৭ তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত) করা হয়। ফলে ডিজির চেয়ারে বসার পর ৩ মাস না পেরোতেই তার মেয়াদ ফুরিয়ে যায়। জুনেই সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার জামাল উদ্দীন আহমেদকে নতুন ডিজি নিয়োগ দেয় সরকার। কিন্তু জামাল উদ্দীন আহমেদ বিদেশে থাকায় দায়িত্ব হস্তান্তর বিলম্বিত হয়। এ সুযোগে প্রশাসনিক কাজের সব নজির ভেঙে দায়িত্ব হস্তান্তরের আগে তিনি আরও কয়েকটি বদলি অর্ডার জারি করেন। এমনকি ভেতরে ভেতরে তিনি গুলশান-২ এলাকায় নবনির্মিত একটি ৪ তারকা হোটেলে মদের বার লাইসেন্স ইস্যুর প্রক্রিয়াও চালান। কিন্তু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপে তার সেই উদ্দেশ্য শেষ পর্যন্ত ভেস্তে যায়। ওএসডি হওয়ার পর তার সব অফিসিয়াল কার্যক্রম বাতিল ঘোষণা করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। (সূত্র : দৈনিক যুগান্তর ১৬ আগস্ট ২০১৭)

শুধু মাগুরা জেলাতেই ১ হাজার ৭৭৬টি ওয়াজ মাহফিল ও নামযজ্ঞ অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য ২৪ কোটি টাকার খয়রাতি সাহায্য (জিআর) বরাদ্দ দিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। এতবড় দুনীতির বিরুদ্ধে দুককের কার্যকর কোন ভূমিকা দেশবাসীর চোখে পড়েনি। বরাদ্দের ৯৫ শতাংশই ওয়াজ মাহফিলের জন্য। খয়রাতি সহায়তা হিসেবে দেয়া এই ১ হাজার ৭৭৬টি প্রকল্পের বেশির ভাগই ভুয়া। বরাদ্দ দেয়া হলেও অনেক জায়গায় দেখা গেছে, ওয়াজ মাহফিলই হয় না। নামযজ্ঞ হয় মন্দিরে বা মন্দিরের বাইরে খোলা জায়গায়। এ ক্ষেত্রেও ভুয়া প্রকল্প দেখানো হয়েছে। প্রকল্পে যাঁদের নাম-পরিচয় দেয়া আছে, তাঁদের কেউই এ ব্যাপারে কিছু জানেন না। কে বা কারা প্রকল্পগুলো পাঠিয়েছেন, তাও তাঁদের অজানা।

মাগুরা জেলায় মোট ৬ হাজার ৩৬৩ টন চাল খয়রাতি সাহায্য হিসেবে দেয়া হয়েছে। টাকার হিসাবে বরাদ্দের পরিমাণ ২৪ কোটি টাকা। ২০১৭ সালে টনপ্রতি খাদ্য বিভাগ মূল্য নির্ধারণ করেছে ৩৭ হাজার ৮৩৬ টাকা।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী বলেছেন, ‘সাংসদসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা মন্ত্রণালয়ে ধর্মীয় অনুষ্ঠান, মসজিদ, বিদ্যালয় সংস্কারসহ বিভিন্ন খাতে সহায়তার জন্য আবেদন করেন। কিছু আবেদন বিবেচনা করে অনুমোদন দিয়ে জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়। জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে কর্ণধার কমিটি এসব আবেদন যাচাই-বাছাই করে নিশ্চিত হয়ে বরাদ্দ ছাড় করেন।’ মন্ত্রী বলেছেন, মন্ত্রণালয়ের পক্ষে দেশের কোথায় কোন প্রতিষ্ঠানের নামে জিআর বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে, তা জানা সম্ভব নয়। প্রকল্পগুলো খতিয়ে দেখার দায়িত্ব জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের।

মূলত মাগুরা জেলার দুই সাংসদ যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার ও মেজর জেনারেল (অব.) আবদুল ওয়াহাবের আধা সরকারি পত্র (ডিও) অনুযায়ী মন্ত্রণালয় থেকে ওই বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। 

প্রকল্পের নামসহ মন্ত্রণালয়ের ওই বরাদ্দের চিঠি ২০১৭ সালের জুন মাসের শেষ সপ্তাহে উপবরাদ্দ হিসেবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর মাগুরা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠায়। জুনের আগেই বরাদ্দ শেষ করার তাগিদ থাকে। তার আগে ওই মন্ত্রণালয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সরকারি দলের নেতা-কর্মীদের ভিড় লেগে থাকে। জনপ্রতিনিধিদের প্রায় সবাই সরকারি দলের হওয়ায় সবাই যাঁর যাঁর মতো চাপাচাপি করেন। এর সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশ থাকতে পারে।

সদর উপজেলায় ১ হাজার ১১৬টি প্রকল্পের জন্য ৪ হাজার ৮৭ টন, শ্রীপুরে ১২১ প্রকল্পে ৩৯৮, শালিখায় ২২৭ প্রকল্পে ৬৯৭ এবং মহম্মদপুরের ৩১২টি প্রকল্পের জন্য ১ হাজার ১৮১ টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। হাতে গোনা কয়েকটি ছাড়া সব প্রকল্পেই ৩ টন করে চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। মহম্মদপুর উপজেলার বড়রিয়া গ্রামে ৯টি ওয়াজ মাহফিলের জন্য ২৭ টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সেখানে মসজিদ থাকলেও প্রতিষ্ঠার পর থেকে কখনো ওয়াজ মাহফিল হয়নি। প্রকল্পগুলোর একটি বড়রিয়া ফকিরবাড়ি এতিমখানা প্রাঙ্গণে বার্ষিক ওয়াজ মাহফিলের জন্য। 

শালিখা উপজেলার ৫০টি প্রকল্পের জন্য দুবার করে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সদর উপজেলার ডেফুলিয়া গ্রামে ৬টি প্রকল্প রয়েছে। এসব প্রকল্পেরও অস্তিত্বই খুঁজে পাননি সাংবাদিকরা । সদরের লস্করপুর পালপাড়া সর্বজনীন মন্দির ও আন্দোলবাড়িয়া সর্বজনীন কালীমন্দির নামে কোনো প্রতিষ্ঠান নেই। অথচ এ দুটি মন্দিরের নামে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। (সূত্র : দৈনিক প্রথম আলো ২২ জুলাই ২০১৭)

মুক্তিযুদ্ধে আওয়ামী লীগের ভূমিকা কেমন ছিল তা পরিস্কার করলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব:) হাফিজ উদ্দিন। ২৫ মে জাতীয় ২০১৪ প্রেস ক্লাবে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিনাশী আওয়ামী সরকারের ক্রেস্ট কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এক আলোচনা

‘আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ফেরি করে চলে’-এমন মন্তব্য করে হাফিজ বলেছেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য সন্মাননা দেয়া ক্রেস্টের মধ্যে যেমন সোনা ছিল না তেমনি আওয়ামী লীগের মধ্যেও মুক্তিযোদ্ধা নেই। এরা জাতির কপালে কলঙ্ক লেপন করেছে। এদের বিচার অবশ্যই হবে।’ তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সম্মাননা ক্রেস্টে স্বর্ণ চুরির ঘটনা না ঘটলে আওয়ামী লীগকে কখনোই চেনা যেতো না। ওরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ফেরি করে চলে। সোনার নামে বিদেশি ভদ্রলোকদের যা দিয়েছেন তা নিশ্চয়ই কাল হয়ে গেছে। কারণ ক্রেস্টে সোনা ছিল না’। (সূত্র : দৈনিক আমার দেশ ২৬ মে ২০১৪)

মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখার জন্য বিদেশি বন্ধু ও সংগঠনকে দেয়া ক্রেস্টে সোনা জালিয়াতির ঘটনায় চার বছরেও বিচারের প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেনি সরকার। বরং ক্রেস্টে সোনা কম দেয়ার ঘটনায় করা মামলায় মাত্র ১০ হাজার টাকা মুচলেকা দিয়ে ক্রেস্ট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের দুজন জামিন নিয়েছেন। তদন্তের পর তদন্ত চললেও সবগুলোর প্রতিবেদনই এক প্রকার হিমঘরে পড়ে আছে। কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশিত হওয়ার পর সব মহল থেকে এ ঘটনার তদন্ত ও বিচারের দাবি ওঠে। ঘটনাটি তদন্ত করে মন্ত্রণালয়ের দুটি কমিটি এবং সংসদীয় কমিটি। অনুসন্ধানের দায়িত্ব নেয় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলা করা হয় মন্ত্রণালয় থেকে। কিন্তু সবই থমকে আছে।

২০১৪ সালের ৬ এপ্রিল দৈনিক প্রথম আলোয় ‘ক্রেস্টের স্বর্ণের ১২ আনাই মিছে!’ শিরোনামে খবর প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখার জন্য বিদেশি বন্ধু ও সংগঠনকে দেয়া স্বর্ণের ক্রেস্ট পরীক্ষা করে দেখা গেছে, তাতে এক ভরি বা ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম সোনা থাকার কথা থাকলেও সোনা পাওয়া গেছে মাত্র ২ দশমিক ৩৬৩ গ্রাম (সোয়া তিন আনা)। আর রুপার জায়গায় ৩০ ভরি বা ৩৫১ গ্রাম পিতল, তামা ও দস্তামিশ্রিত সংকর ধাতু দেয়া হয়েছে ক্রেস্টে।

এই কেলেঙ্কারি ফাঁস হলে প্রথমে বিভাগীয় কমিশনার পর্যায়ের কর্মকর্তাকে দিয়ে তদন্ত করানো হয়। তদন্ত কমিটি সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এ বি তাজুল ইসলাম, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব কে এইচ মাসুদ সিদ্দিকীসহ ১৩ জন কর্মকর্তা এবং দুটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করে প্রতিবেদন দেয়। তবে বিভাগীয় কমিশনার পর্যায়ের কর্মকর্তাকে দিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অভিযোগের তদন্ত করানো নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অভিযুক্ত প্রতিমন্ত্রী ও সচিবেরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ