ঢাকা, মঙ্গলবার 10 April 2018, ২৭ চৈত্র ১৪২৪, ২২ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রাণীনগরে যুগ যুগ ধরে নৌকা পারাপারের একমাত্র বাহন

 

আহাদ আলী, নওগাঁ: যুগ যুগ ধরে নৌকাই যেখানে পারাপারের একমাত্র বাহন। নওগাঁর রাণীনগর ও বগুড়া জেলার আদমদীঘি এই দুই উপজেলার সীমানায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী রক্তদহ বিল। আর এই বিলের চারপাশ দিয়ে অবস্থিত রাণীনগর উপজেলার বোদলা, পালশা, তেবারিয়া ও পালশা কৃষ্ণপুর গ্রামসহ প্রায় ১০টি গ্রাম। 

এই গ্রামগুলোতে দীর্ঘদিন যাবত বসবাস করে আসছে হাজার হাজার মানুষ। আর এই হাজারো মানুষদের রক্তদহ বিল পারাপারের একমাত্র ভরসা নৌকা। প্রতিনিয়তই চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় এই জনপদের মানুষদেরকে। তবুও যেন দেখার কেউ নেই। শুধু ব্রিজই সমস্যা নয় পারঘাট থেকে প্রায় ১কিলোমিটার মাটির রাস্তা পায়ে হেটে মূল পাকা রাস্তায় উঠতে হয়। বর্ষা মৌসুমে এই দুর্ভোগ আরও চরমে এসে দাঁড়ায়। তখন হাঁটু কাঁদা ভেঙ্গে আসতে হয়। রাণীনগর ও আদমদীঘি দুই উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা জুড়ে অবস্থিত শত শত বছরের ঐতিহ্যবাহী রক্তদহ বিল। আর এই বিলের কোলেই অবস্থিত বোদলা-সান্দিড়া পাড় ঘাট। এই পাড় ঘাটের অপর প্রান্তে অবস্থিত বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলার সান্দিড়া গ্রাম। একটি ব্রিজের অভাবে শত শত বছর ধরে চরম ভোগান্তিতে পড়ে আছে এই জনপদের মানুষ। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়তে হয় শিক্ষার্থী ও রোগীদের। অনেক সময় পার ঘাটে এসে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকতে হয় নৌকার অপেক্ষায়। বর্তমান সরকারের আমলে সারা দেশে উন্নয়নের জোয়ার বইছে। দেশের গ্রামীণ জনপদের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য সরকার গ্রহণ করছে নানা কর্মসূচি। কিন্তু এখনোও এই উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি এই অবহেলিত জনপদে। রক্তদহ বিলের বোদলা-সান্দিড়া পাড়ঘাটে একটি ব্রিজ তৈরি করা হলে এ এলাকার মানুষরা তাদের শত বছরের দুঃখ আর দূরর্দশা থেকে মুক্তি পাবে। খুলে যাবে ব্যবসা বাণিজ্যের দ্বার। কমে যাবে তাদের ২৫ কিলোমিটার রাস্তার দূরত্ব । স্থানীয়রা মনে করছেন এই পাড় ঘাটে একটি ব্রিজ নির্মিত হলে সহজ হবে সর্ব সাধারণের যাতায়াত ব্যবস্থা। চরম ভোগান্তির হাত থেকে ছুটি পাবে এই জনপদে বসবাসরত অবহেলিত মানুষরা।

জানা গেছে, রাণীনগর উপজেলার পারইল ইউনিয়ন ও আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহারের প্রত্যন্ত এলাকায় মধ্যে অবস্থিত রক্তদহ বিলের বোদলা-সান্দিড়া পাড়ঘাট। রক্তদহ বিলের এই পাড়ঘাট দিয়ে পারাপারের জন্য রাণীনগর উপজেলার পারইল ইউনিয়নের বোদলা, পালশা, তেবারিয়াসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ শত শত বছর ধরে নৌকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হয়ে আসছেন। রাণীনগর হয়ে নওগাঁ শহরে যেতে এই জনপদের মানুষদের অতিরিক্ত প্রায় ৩০ কিমি রাস্তা বেশি যেতে হয়। শুধু রাস্তাই নয় নষ্ট হয় ঘন্টার পর ঘন্টা সময় আর সাথে গুনতে হয় অতিরিক্ত অর্থ। অথচ এই পাড় ঘাটে একটি ব্রিজ হলে এই দূরত্ব কমে আসবে অর্ধেকেরও কম। পাড় ঘাটের একটি ব্রিজই বদলে দিতে পারে এই জনপদের জীবন বৈচিত্র্য। ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, চিকিৎসাসহ দৈনন্দিন জীবনের নানা চাহিদা মেটানোর জন্য নওগাঁ জেলা সদর, বগুড়ার সান্তাহার জংশন শহর, রাজশাহী ও রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য শহরের সাথে একমাত্র যোগাযোগ ব্যবস্থা ওই এলাকার মানুষের এই বোদলা-সান্দিড়া পাড়ঘাট। উপায় না পেয়ে স্থানীয়রা এই পাড় ঘাটে আসার জন্য নিজেদের অর্থ দিয়ে বিলের মাঝ থেকে মাটি কেটে তৈরি করেছেন মাটির রাস্তা। বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই ওই এলাকার ভুক্তভেগি মানুষের মাঝে নেমে আসে দুর্ভোগের ছায়া। পারাপারের নৌকার জন্য অপেক্ষা করতে হয় ঘন্টার পর ঘন্টা। ফলে সময়মত গন্তব্যস্থানে পৌঁছাতে পারে না কেউ। অনেকে সময় বাঁচাতে গিয়ে পারের নৌকার অপেক্ষা না করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাঁতার দিয়ে এই বিলের পাড়ঘাট দিয়ে পার হয়ে থাকে। খরা মৌসুমে থাকে হাঁটুপানি তখন নৌকা চলে না হেঁটেই চলাচল করে জনগণ। এ অবস্থা দূর্ভোগ থেকে রেহাই পেতে ভুক্তভুগিরা স্থানীয় এমপি ও মন্ত্রীদের দ্বারস্থ হয়েও কোন ফল পাচ্ছে না বছরের পর বছর। নির্বাচন এলেই এলাকার চেয়ারম্যান ও এমপি প্রার্থীরা উক্ত পাড়ঘাটে ব্রিজ করার প্রতিশ্রুতি দেন এবং পরক্ষণে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে না। রাস্তাঘাট ব্রিজ, কালভাটসহ সারাদেশে ব্যাপক উন্নয়ন করা হলেও শত বছরের দূর্ভোগের শিকার এই এলাকার মানুষ গুলোর ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি এখনো।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ