ঢাকা, মঙ্গলবার 10 April 2018, ২৭ চৈত্র ১৪২৪, ২২ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আগৈলঝরায় ২শ ৬০ একর এক ফসলী জমিকে  বহুমুখি ব্যবহার করে ভাগ্য উন্নয়নে নেমেছে  এলাকার আড়াইশত কৃষক

 

আগৈলঝরা (বরিশাল) সংবাদদাতা: বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের চেঙ্গুটিয়া-কান্দিরপার এলাকায় এক ফসলী জমির বহুমুখি ব্যবহার করে ভাগ্য উন্নয়নে নেমেছে এলাকার ২শ ৪০ জন কৃষক। ২শত ৬০ একর এক ফসলী জমি নিয়ে গ্রহণ করা হয়েছে মেগা প্রকল্প ‘‘চৌদ্দমেধা কৃষি পণ্য উৎপাদনকারী বিল উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিঃ।” উল্লেখিত মেগা প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন উপজেলা কৃষি বিভাগ, সমবায় বিভাগের কর্মকর্তাগণসহ একটি মৎস্য পোনা ও খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা। প্রকল্পের আওতাধীন সুবিধাভোগী কৃষক শ্যামল জয়ধর জানান, বাপ দাদার আমল থেকে তাদের জমিতে সারা বছর শুধু একবার ইরি-বোরো ধানের চাষ করতেন তারা। এলাকার অধিকাংশ জমি নীচু হওয়ায় এবং তিন দিকে বাঁধ থাকায় মে-জুন মাস থেকে বৃষ্টির পানি জমে ও খালের জোয়ার উঠে তাদের উঠতি পাঁকা ধান তলিয়ে গিয়ে সর্বশান্ত হতেন তারা। বছরের বেশীরভাগ সময়ই পানিতে নিমজ্জিত থাকত পুরো ফসলের মাঠ। ফলে অতীত কাল থেকে এলাকাটি চৌদ্দমেধা বিল নামে পরিচিত লাভ করে। বিলের পাশের অধিবাসীরা প্রাকৃতিক দুর্যোগে সারা বছরের খাবার হারিয়ে অর্ধাহারে-অনাহারে থাকতেন। ধান তলানোর পর বর্ষা মৌসুমে ছোট ছোট নৌকায় বড়শি, জাল ও চাঁই পেতে মাছ ধরে তা বিক্রি করে কোন রকম পরিবার নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে চাইলেও আগাছা আর কচুরীপানায় সকল জমি ছেয়ে থাকায় সে সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হতেন তারা। চাষের মৌসুমে শ্রমিক নিয়ে তাদের ওই সকল আগাছা পরিস্কার করে জমিতে বীজ রোপন করতে হতো। যা ছিল তাদের কাছে বাড়তি খরচ।  

নির্বিঘেœ আবাদী জমির ফসল তুলে একই জমির বহুমুখি ব্যবহারের জন্য এলাকার কৃষকেরা উদ্বুদ্ধ হয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ ইলিয়াস তালুকদারের নেতৃত্বে ২৬০ একর জমির ২৪০ জন মালিকরা স্থানীয়ভাবে গঠন করেন ‘‘চৌদ্দমেধা কৃষি পণ্য উৎপাদনকারী বিল উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিঃ” নামে একটি সমবায় সমিতি। স্থানীয় এমপি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ’র পরামর্শে উপজেলা সমবায় অধিদপ্তরের তত্বাবধানে চেয়ারম্যান ইলিয়াস তালুকদারকে সভাপতি ও স্থানীয় সমাজ সেবক রফিক তালুকদারকে সাধারণ সম্পাদক করে গঠন করা হয়েছে ১১ সদস্য বিশিষ্ঠ কার্য নির্বাহী কমিটি। কমিটির সভাপতি ও রাজিহার ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ইলিয়াস তালুকদার জানান, একই জমির বহুমুখি ব্যবহারের মাধ্যমে স্থানীয় দরিদ্র কৃষক ও মৎস্যজীবীদের ভাগ্য উন্নয়নে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে। এতে ৩৫ টি পরিবারের আয়ের জন্য সারা বছর সরাসরি জড়িত থেকে গড়ে ১২শ পরিবার উপকৃত হবে।  প্রকল্প এলাকায় ৩২ টি পুকুর, ডোবাসহ অসংখ্য নীচু এলাকার মালিকেরা সুবিধার আওতায় এসেছে। চাষীরা প্রকল্প থেকে ধান চাষে লভাংশেংর ৩০ভাগ ও নগদ ২০ভাগ সুবিধাপ্রাপ্তিসহ সেচ মৌসুমে জমিতে পানি সরবরাহ ও ইরি-বোরো ধান চাষের সময় আগাছা পরিস্কারসহ বিনা টাকায় জমি চাষের সুযোগ পাবেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ