ঢাকা, মঙ্গলবার 10 April 2018, ২৭ চৈত্র ১৪২৪, ২২ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সাতক্ষীরা বাস্তবে কি ভিক্ষুকমুক্ত হবে না?

রফিকুল ইসলাম, শ্যামনগর (সাতক্ষীরা): সাতক্ষীরাকে ভিক্ষুকমুক্ত জেলা ঘোষণা করা হলেও বর্তমানে প্রতিদিনই জেলা সদরসহ উপজেলাগুলোর বিভিন্ন হাট-বাজার ও গ্রাম্য এলাকায় ভিক্ষুকদের হরহামেশা দেখা যায়। কাগজে- কলমে-মুখে ভিক্ষুকমুক্ত উপজেলা ঘোষণা করা হলেও বাস্তবে আরো যুক্ত হচ্ছে ভিক্ষুক সে কারণে বৃদ্ধি পাচ্ছে তাদের সংখ্যা। তাই প্রবাধে আছে” কাজীর গরু কিতাবে আছে, নেই গোয়ালে” এমন অবস্থ। ভিক্ষুকমুক্ত দুরের কথা সাতক্ষীরায়  ভিক্ষুকের আধিক্যতা যেন আগের চেয়ে আরো বেড়ে গেছে। প্রতিদিনই জেলাসহ ৭ উপজেলার হাট-বাজার সহ গ্রাম্য এলাকায়  ভিক্ষুকদের ভিক্ষা করতে দেখা যায়। আর শুক্রবার এলে তো কথাই নেই। প্রতি সপ্তাহের শুক্রবার অর্থাৎ জুম্মার দিন  বিভিন্ন  মসজিদের পাশে  ভিক্ষুকের হাট বসে। এগুলো দেখলে মনে হয় ভিক্ষুকমুক্ত হয়েছে কি? না ভিক্ষুক যুক্ত হয়েছে। জেলার হাট-বাজারগুলোর বিভিন্ন  দোকান পাটে  গিয়ে, বাসাবাড়িতে গিয়ে টাকা- চালসহ ভিক্ষা চায় বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ ভিক্ষুকরা। ভিক্ষুকরা সাহায্য জন্য অনুনয়-বিনয় করে হাত বাড়িয়ে বলে, টাকা দেন, আবার গ্রামের বাড়িতে বাড়িতে  গিয়ে সাহায্য চায় বিনিময়ে পায় মুষ্টি   চাউল।

জানা  যায়, সরকার ভিক্ষুক মুক্ত করতে বিভিন্ন কর্মসংস্থান ও এককালীন সহযোগিতা দিচ্ছেন। নগদ টাকার  পাশাপাশি কর্মসংস্থানের জন্য বিভিন্ন উপকরণ দেয়া হচ্ছে অনেক ভিক্ষুকদের। এরপরও পরিবর্তন হচ্ছে না তাদের ভাগ্য। অনেকে যা উপকরণ পাচ্ছে তাতে তাদের অভাব পরিবর্তন হচ্ছে না আবার অনেকে স্বভাব   বদলাতে না পেরে  ভিক্ষার জন্য হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন। অল্প বয়সী শিশু থেকে মধ্য বয়সী এবং ৬০-৮০ বছর বয়সের অধিক নারী-পুরুষ ভিক্ষুক ভিক্ষাবৃত্তিতে থেকেই যাচ্ছেন। দূঃখজনক ঘটনা হলো শিশুদের সাথে নিয়ে ভিক্ষা করার কারণে অল্প বয়স থেকেই  ভিক্ষাবৃত্তিতে আগ্রহী হয়ে পড়ছে শিশু-কিশোররা। গত ৩০ মার্চ শুক্রবার কলারোয়া উপজেলা পরিষদ জামে মসজিদ, কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, বাসষ্ট্যান্ড জামে মসজিদ, তুলশীডাঙ্গা জামে মসজিদের সামনে রীতিমত ভিক্ষুকের লাইন পড়ে যেতে দেখা যায়। উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তারের উর্দ্ধতন ব্যক্তি, রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ সব শ্রেনীর মানুষের সামনেই এমন  চিত্র ফুটে উঠেছে। সেই আগের কথা কাজীর গরু কাগজ-কলমে গোয়ালে নেই। আছে তবে বলার চেয়ে কম। অনেকে বলছেন, সাতক্ষীরা সদর সহ বিভিন্ন উপজেলাকে ভিক্ষুকমুক্ত ঘোষণা হওয়ার পর   ভিক্ষুকের চাপ আরো বেড়ে গেছে। তাই সাধারণ মানুষেরা বলছেন- ”সত্যিকার কি আমরা ভিক্ষুকমুক্ত হতে পেরেছি”? বেশ কয়েকজন দোকান ব্যবসায়ীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, তাঁরা প্রায় প্রতিদিন ১৩০-১৭০ জন ভিক্ষুককে ভিক্ষা দিতে হচ্ছে। উন্নয়নশীল মধ্যম আয়ের রাষ্ট্রের সাতক্ষীরা জেলাকে বাস্তবিক অর্থে ভিক্ষুকমুক্ত করতে উর্দ্ধতন প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ