ঢাকা, মঙ্গলবার 10 April 2018, ২৭ চৈত্র ১৪২৪, ২২ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

অধিকাংশ চাতাল বন্ধ

তাড়াশ সংবাদদাতা : ধান-চালের বাজার অস্থিতিশীল। তাই চালের দাম কমছেই না। সে অনুযায়ী ধানের দামও কমছে না। এ অবস্থায় বেশি দামে ধান কিনে লোকসান দিয়ে চাল বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। তাই অব্যাহত লোকসানের মুখে বেশিরভাগ চাতাল বন্ধ রেখেছেন উত্তরাঞ্চলের অন্যতম চালের মোকাম বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ধান-চাল ব্যবসায়ীরা। তবে সীমিতসংখ্যক ব্যবসায়ী মাঝেমধ্যে বন্ধ দিয়ে চাতাল চালু রেখেছেন বাজারে নতুন ধান আসবে এ আশায়। কারণ এ মুহূর্তে চাতাল বন্ধ করে দিলে আসছে বোরো মৌসুমে শ্রমিক পাওয়া কঠিন হবে। কেননা, আর মাত্র এক মাস। এর পর নতুন ধান বাজারে আসবে। তাই লোকসান দিয়ে হলেও এক-চতুর্থাংশ ব্যবসায়ী এখনও চাতাল চালু রেখেছেন। কিন্তু এভাবে আর কতদিন চাতাল চালু রাখা সম্ভব হবে, তা নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে তাদের মধ্যে। এ ছাড়া স্থানীয় হাটবাজারগুলোতে বেপারীরা আসছেন না। ফলে চালের বাজার ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়ায় লোকসান দিয়েও বিক্রি করতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা।

একাধিক ব্যবসায়ী জানান, শেরপুর উপজেলাসহ উত্তরাঞ্চলের বাজারে বর্তমানে প্রতি মণ (সাড়ে ৩৭ কেজি) স্বর্ণা-৫ জাতের ধান ৯৬০- ৯৭৫, গুটি স্বর্ণা ৮৬০-৮৭০ ও বিআর-৪৯ জাতের ধান ১০৫০-১০৭৫ টাকা দরে কেনাবেচা হচ্ছে। গত সোমবার স্বর্ণা-৫ জাতের ধান নওগাঁর ধামুরহাট, পোরশা, নজিপুর, মহাবেদপুর, সাপাহারসহ বিভিন্ন মোকামে ৯৬০-৯৭০ টাকা দরে কেনাবেচা হয়েছে। তারা আরও জানান, প্রতি মণ ধান ওই টাকা দরে কিনে ঘরে আনতে আরও ৩০-৩৫ টাকা খরচ পড়ে। এর মধ্যে রয়েছে পরিবহন ও শ্রমিক ব্যয়। এ ধান সিদ্ধ ও শুকানো বাবদ প্রতি মণে ব্যয় হয় ১৮-২০ টাকা। ভাঙাতে আরও ১০ টাকা খরচ পড়ে। সবমিলে ধান থেকে চাল উৎপাদন পর্যন্ত প্রতি মণ ধানে খরচ পড়ে ১০২০-১০৩০ টাকা পর্যন্ত। কিন্তু চালের বাজারে ক্রেতা নেই। চালের দাম একেবারে পড়ে গেছে। ফলে প্রতি বস্তা চালে ২০০-৩০০ টাকা পর্যন্ত লোকসান গুণতে হচ্ছে। এভাবে নিয়মিত লোকসান দিয়ে আর কতদিন ব্যবসা চালু রাখা সম্ভব- এ নিয়ে শঙ্কিত তারা। ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম চয়ন জানান, অব্যাহত লোকসানের মুখে তার মতো অনেকেই চাতাল বন্ধ রেখেছে। সংশ্নিষ্ট সূত্র জানায়, এ উপজেলায় ২০০-৩০০শ মণ ধান ধরে এরকম ২৪০-২৫০টি, ৪০০-৫০০শ মণ ধান ধরে ৭০-৮০টি এবং ৫০-৬০ মণ দরে ধান শুকানো যায় এরকম ১৫০০-২০০০টি চাতাল রয়েছে। এ ছাড়া এখানে শতাধিক সেমি অটো রাইস মিল রয়েছে। প্রতিটি বড় চাতালের বিপরীতে কমপক্ষে ১৪ জন ও ছোট চাতালে চারজন করে শ্রমিক কাজ করেন। কিন্তু এখানকার সিংহভাগ চাতাল বন্ধ থাকায় শত শত শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শেরপুর থানা চালকল মালিক সমিতির সভাপতি আবদুল কুদ্দুস ভূঁইয়া জানান, ভারত থেকে চাল আমদানি করতে এখন ট্যাক্স দিতে হয় না। এতে করে ভারতীয় চালে বাজার ভরপুর হয়ে গেছে। একই সঙ্গে দেশের ধান-চাল ব্যবসায়ীরা ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। প্রতি বস্তা চালে ৩০০-৪০০ টাকা পর্যন্ত তাদের লোকসান গুণতে হচ্ছে। তাই অব্যাহত লোকসানের মুখে এরই মধ্যে অনেক ব্যবসায়ী চাতাল বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন। পাশাপাশি ব্যাংক থেকে বিনিয়োগ গ্রহণকারী ব্যবসায়ীদের পথে বসার উপক্রম হয়েছে। এ ছাড়া এ অবস্থা চলতে থাকলে আসছে বোরো মৌসুমে প্রভাব পড়বে। কৃষক তার উৎপাদিত ধানের ন্যায্য দাম পাবেন না বলে মনে করেন এ ব্যবসায়ী নেতা।এ প্রসঙ্গে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হারুন-উর রশিদ বলেন, কিছুদিন আগে চালের বাজার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল। তবে সরকারের নানামুখী উদ্যোগে বর্তমানে চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পাশাপাশি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চালু করা এবং খোলাবাজারে চাল বিক্রি অব্যাহত থাকায় চালের দাম কমছে। এতে চাতাল ব্যবসায়ীদের সাময়িকভাবে লোকসান গুণতে হচ্ছে বলে জানান এ কর্মকর্তা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ