ঢাকা, মঙ্গলবার 10 April 2018, ২৭ চৈত্র ১৪২৪, ২২ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

দেশে সুষ্ঠু ভোট হলে বিএনপি ২৫০টির বেশি আসন পাবে ----------ফারুক

গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে তারেক একাডেমির উদ্যোগে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ সকল রাজবন্দীর মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয় -সংগ্রাম

 

স্টাফ রিপোর্টার : কারাবন্দী বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে একাদশ সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠান করার আহ্বান জানিয়েছেন দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া ছাড়া একাদশ নির্বাচন হতে দেয়া হবে না। বাংলাদেশে কোনো নির্বাচনও হবে না। তাই বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে একাদশ সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠান করতে হবে। দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিএনপি ২৫০টির বেশি আসন পাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। 

গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন। বেগম খালেদা জিয়াসহ সকল রাজবন্দীর মুক্তির দাবিতে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে তারেক একাডেমি নামের একটি সংগঠন। 

জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, ফেব্রুয়ারির ৮ তারিখ থেকে আজ পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়া জেলে। তার এই কাল্পনিক মামলায় অবিলম্বে তার মুক্তির দাবিতে দেশবাসী খুবই উদ্বিগ্ন; কবে, কখন খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন। 

তিনি বলেন, পাহাড় যত উঁচুই হোক না কেন তার স্থান আকাশের নীচে, মাছ যত বড়ই হোক না কেন পানির নিচেই তাকে থাকতে হয়। আমি, আপনি যত বড়ই হই সৃষ্টিকর্তার নিয়ন্ত্রণেই আমাদের থাকতে হবে। তাই আমি মনে করি, অহংকার, প্রতিহিংসা বড় খারাপ। যার ফল সবাইকে একদিন ভোগ করতেই হবে।

 বিএনপির এই নেতা বলেন, সরকার গত ১০ বছরে হামলা, মামলা, গুম, খুন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে শেষ করার চেষ্টা চালাচ্ছে। উদ্দেশ্য একটাই বিএনপি ও বেগম খালেদা জিয়া যেন আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে।

 সরকারের মন্ত্রী, ঊর্ধ্বতন লোকজন আজকে বলা শুরু করেছে বেগম খালেদা জিয়াকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে হবে। তারা বেগম খালেদা জিয়াকে বাইরে রেখে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মত আরেকটা নির্বাচন করে ক্ষমতায় যাওয়ার পাঁয়তারা করছে। আজকে জনগণের মনে কতগুলো প্রশ্ন উঠেছে, বেগম খালেদা জিয়া কি বন্দী থাকবে? দেশেকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে? দেশে কি সকলের অংশগ্রহণে একটি নির্বাচন হবে?

তিনি বলেন, জনগণ জানতে চায় ১৩ বছরের সাজা পেয়ে মন্ত্রী পতাকা নিয়ে ঘুরে বেড়ায়, সাজা মাথায় নিয়ে মন্ত্রীত্ব থাকতে পারে। ফেনীর একজন সংসদ সদস্য সাজা কমিয়ে যদি এমপি থাকতে পারেন, তাহলে মিথ্যা মামলায় বেগম খালেদা জিয়ার জামিন হওয়ার পরও তিনি কেন কারাগার থেকে মুক্তি পান না? তার কারণ একটাই সেটা হলো বেগম খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তা। দেশে সুষ্ঠু ভোট হলে বিএনপি ২৫০টিরও বেশি আসন পাবে বলে সরকার সেটা বুঝতে পেরেছে। সে কারণেই বেগম খালেদা জিয়াকে কারাবন্দী রাখা হয়েছে।

সরকারকে উদ্দেশ্য করে ফারুক বলেন, আপনারা যদি এতই উন্নয়ন করেন, সরকারের যদি এতই জনপ্রিয়তা। তাহলে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন দিয়ে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধায়নে একটা নির্বাচনের ব্যবস্থা করা যায় তাহলে আপনাদের এত ভয় কিসের। ভয়ের কারণ হলো বেগম খালেদা জিয়া।

 বিএনপি নির্বাচন মুখী দল দাবি করে তিনি বলেন, আমরা নির্বাচনে যেতে চাই। আর তাই গাজীপুর ও খুলনাতে মনোনয়ন দিয়েছি। তবে বেগম খালেদা জিয়াকে ছাড়া কোনো নির্বাচন এদেশের মানুষ কখনও মেনে নিবে না। দেশে অতীতেও আওয়ামী লীগের সময় গণতন্ত্র ছিলো না এখনও নেই। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচন করে সরকার চালালেও আপনাদের গ্রহণযোগ্যতা কতটুকু দেশের মানুষ তা ভালোভাবেই জানে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 আয়োজক সংগঠনের সভাপতি পলাশ মন্ডলের সভাপতিত্ব এবং দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভপতি কেএম রকিবুল ইসলাম রিপনের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন লেবার পার্টির মহাসচিব হামদুল্লাহ আল মেহেদি, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আলমগীর হোসন, শিক্ষক নেতা জাকির হোসেন, সেলিম মিয়া প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ