ঢাকা, মঙ্গলবার 10 April 2018, ২৭ চৈত্র ১৪২৪, ২২ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খুলনায় যুব মহিলা লীগের নেত্রীসহ তিন আইনজীবীকে আদালতের শোকজ

খুলনা অফিস : আদালতে জাল ওকালতনামা ও জাল স্ট্যাম্প দাখিলের অভিযোগে খুলনা জেলা যুব মহিলা লীগের আহ্বায়িকা এডভোকেট সেলিনা আক্তার পিয়াসহ তিন আইনজীবীকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিতে নির্দেশনা দিয়েছেন খুলনার মুখ্য জেলা বিচারিক হাকিম। খুলনার মুখ্য বিচারিক হাকিম মো. আবুল বাশার মিঞা এ আদেশ দেন।

বৃহস্পতিবার দেয়া এক আদেশনামায় (স্মারক নম্বর ১১৮) বিচারিক হাকিম মো. আবুল বাশার মিঞা বলেন, মামলার বাদীপক্ষের নিয়োজিত আইনজীবী সেলিনা আক্তার পিয়া, এস এম আরিফুর রহমান ও রোজালিন সরকারের সম্পাদিত ৩৫৬৯১ নম্বর ওকালতনামা ও তাঁর সঙ্গে ১০ টাকা মূল্যের দাতব্য তহবিলের স্ট্যাম্প পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, এটার সঙ্গে অন্যান্য মামলায় দেয়া ওকালতনামার স্ট্যাম্পের যথেষ্ট গড়মিল রয়েছে।

আইনজীবীদের সূত্র জানান, বিষয়টি আদালতে উপস্থিত অন্য আইনজীবীদের জানানো হলে তারা আদালতকে বলেন, এই মামলায় বাদীপক্ষের দেয়া ওকালতনামা ও স্ট্যাম্প সম্পূর্ণ জাল। পরে আদালত এই তিন আইনজীবীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার আদেশ দেন। এছাড়া খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতি কর্তৃপক্ষকে আদেশ পাওয়ার তিন দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়ার নির্দেশ দেন।

খুলনা জেলা যুব মহিলা লীগের আহ্বায়িকা এডভোকেট সেলিনা আক্তার পিয়া তার চেম্বারের জুনিয়র আইনজীবী এসএম আরিফুর রহমানকে দিয়ে এই ওকালতনামা ও স্ট্যাম্প সংগ্রহ করেছিলেন বলে সাংবাদিকদের জানান। তিনি নিজে জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত নন দাবি করে এ ব্যাপারে আদালতকে জানানো হবে বলে জানান। দলের একটি গোষ্ঠী তার নামে অপবাদ ছড়াচ্ছে বলেও দাবি করেন সেলিনা আক্তার পিয়া।

এর আগেও খুলনায় ওকালতনামা ও জামিননামা জালিয়াতির অভিযোগে তিন আইনজীবী এসএম আরিফুর রহমান, জি এম শাহাদাৎ হোসেন ও বিউটি আক্তারের সদস্য পদ সাময়িক বাতিল করা হয়। খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মশিউর রহমান নান্নু এই তিনজনসহ চারজনের নামে মামলাও দায়ের করেন।

এদিকে এই জালিয়াতি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা খুলনা থানার এসআই টিপু সুলতান বলেন, এসএম আরিফুর রহমান, জি এম শাহাদাৎ হোসেন ও বিউটি আক্তার নিজেরা লাভবান হতে জাল ওকালতনামা ও স্ট্যাম্প ছাপিয়ে আইনজীবীদের কাছে কম দামে বিক্রি করতেন বলে তারা স্বীকার করেছেন।

খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মোল্লা মশিউর রহমান নান্নু বলেন, আদালত থেকে এডভোকেট সেলিনা আক্তার পিয়াকে শোকজ করার নির্দেশ পেয়েছেন। রোববার বিষয়টি নিয়ে বার সভাপতি এডভোকেট কাজী আবু শাহিন ও তিনি জেলা ও দায়রা জজ জেসমিন আনোয়ার এবং চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মো. মঞ্জুরুল হোসেনের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে যে সব আইনজীবীর কাছে এখনও জাল ওকালতনামা এবং জামিননামা ও স্ট্যাম্প রয়েছে সেগুলো বাতিল করে অরিজিনাল ব্যবহারের সিদ্ধান্ত হয়। এ বিষয়ে নতুন করে কারও বিরুদ্ধে মামলা না হলেও তদন্তে কোন আইনজীবীর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও সিদ্ধান্ত হয়। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই একটি জালিয়াত চক্র বিপুল পরিমাণ টাকা লোপাট করছে বলেও জানান মশিউর রহমান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ