ঢাকা, মঙ্গলবার 10 April 2018, ২৭ চৈত্র ১৪২৪, ২২ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন ‘যৌক্তিক’ --- মির্জা ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার: সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের দাবিকে ‘যৌক্তিক’ বলেছে বিএনপি। আগামীতে ক্ষমতায় গেলে মুক্তিযোদ্ধা, নারী ও প্রান্তিক জাতিগোষ্ঠীর কোটা ব্যাতিরেকে বাকী কোটা বাতিল করবে দলটি। গতকাল সোমবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়াজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে দলের এই অবস্থানের কথা জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কোটা পদ্ধতি নিয়ে আন্দোলনকারীদের দাবি ও পুলিশি হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দলের প্রতিক্রিয়া তুলে ধরতেই দুপুরে এই সম্মেলনের আয়োজন করেন মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন,  আমরা জানি এদেশকে সত্যিকার অর্থে গড়ে তুলতে হলে মেধার কোনো বিকল্প নাই। এই লক্ষ্যে স্থির থেকেও  আমরা সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো যৌক্তিক বিবেচনায় এনে ভিশন ২০৩০ তে বলেছি যে, মেধার মূল্যায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যথাযথ সংস্কার করা হবে। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, নারী ও প্রান্তিক জাতি-গোষ্ঠীর কোটা ব্যাতিরেকে বাকী কোটা পদ্ধতি বাতিল করা হবে।

সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান বেগম সেলিমা রহমান, শামসুজ্জামান দুদু, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, দুই বছর আগে দেয়া ভিশন- ২০৩০’  এই বিষয়টি (কোটা) সরকার বিবেচনায় নিলে এই পরিস্থিতির উদ্ভব হতো না। গণতন্ত্রের নিয়ম পদ্ধতির প্রতি এই সরকারের কেনো শ্রদ্ধাবোধ নেই।্ যা গত প্রায় এক দশকে বর্তমান সরকার বার বার তাদের কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রমাণ করেছে। যার ফলোশ্রুতিতে বর্তমান শাসকদের দেশ পরিচালনায় অন্যায়-অবিচারের শিকার হয়েছে দেশের জনগণ, বিশেষ করে মেধাবী ও শিক্ষিত তরুণ সমাজ।

  রোববার রাতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ ও ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, চলমান কোটা সংস্কারের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন রোববার প্রতিবাদে-বিক্ষোভে মুখরিত হয়ে ওঠে। পুলিশ রাতে সহিংস হয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর বেপরোয়া লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল, রাবার বুলেট নিক্ষিপ করেছে। পুলিশি এই হামলায় অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রী ও চাকরিপ্রার্থীসহ শতাধিক মানুষ গুরুতর আহত হয়। পুলিশি এই হামলার সাথে ছাত্রলীগের সশস্ত্র ক্যাডাররা যোগ দিয়ে রাতে শাহবাগ থেকে শুরু করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা পর্যন্ত রণক্ষেত্রে পরিণত করে।

তিনি বলেন, রোববার প্রার্থী ও ছাত্র-ছাত্রীদের যৌক্তিক দাবি আদায়ের আন্দোলন বিনা উস্কানিতে পুলিশের বর্বরোচিত আক্রমণের তীব্র্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। যারা আহত হয়েছেন তাদের আশু সুস্থতা কামনা করছি এবং আন্দোলনে অংশগ্রহনকারী যাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানাচ্ছি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন,‘আন্দোলনের যে কোটার বিষয়টি মূল প্রতিপাদ্য সে সম্বন্ধে দেশের চার কোটি শিক্ষিত যুব সমাজের জীবন-জীবিকার প্রশ্নটি জড়িত। এই সম্বন্ধে বিএনপির নীতি নির্ধারণী কমিটি সম্পূর্ণ অবহিত এবং বিষয়টি নিয়ে তারা উৎকন্ঠিত।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থী ও চাকরি প্রার্থীরা বেশ কিছুদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছে। যেকোন ব্যক্তি বা সংগঠন তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোন বিষয়ে নিজেদের বঞ্চিত মনে করলে তা থেকে প্রতিকার পাওয়ার জন্য সোচ্চার হবেন-এটাই গণতান্ত্রিক অধিকার। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের নিয়ম-পদ্ধতির প্রতি এই সরকারের কোন শ্রদ্ধাবোধ নেই, যা গত প্রায় এক দশকে বর্তমান সরকার বারবার তাদের কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রমাণ করেছে। যার ফলশ্রুতিতে বর্তমান শাসকদের দেশ পরিচালনায় অন্যায়-অবিচারের শিকার হয়েছে দেশের জনগণ, বিশেষ করে এদেশের মেধাবী ও শিক্ষিত তরুণ সমাজ। এই অবিচারের অবসান ঘটাতে বিএনপি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সমবেত মানুষের আওয়াজ শুনলেই শিহরিত হয়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে জনগণের চাহিদা ও দাবিকে তারা সবসময় পাশ কাটিয়ে কেবলমাত্র আওয়ামী চেতনার মানুষদের সংকীর্ণ স্বার্থে কাজ করে গেছে।

নিন্দা ও প্রতিবাদ: নোয়াখালী জেলাধীন সেনবাগ উপজেলা ও পৌরসভার বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনসমূহের মোট ১৬ জন নেতাকর্মীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। আদালতে তাদের জামিন চাইলে তা নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব বলেন, মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়ে বাকশালী কায়দায় দেশ পরিচালনা করছে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার। প্রতিদিন অসত্য ও বানোয়াট মামলা সাজিয়ে বিএনপিসহ বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের গ্রেফতার এবং কারান্তরীণ করে এক ব্যক্তির ইচ্ছার শাসন চালানো হচ্ছে। আইন ও আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীরা আদালতে হাজিরা দিতে গেলেই তাদের জামিল বাতিল করে কারাবন্দী করা হচ্ছে। বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর জুলুম-নির্যাতনকে এক ধরনের খেলায় পরিণত করেছে বর্তমান জুলুমবাজ সরকার। কিন্তু এসব অপকর্ম করে রাষ্ট্রক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করতে পারবে না সরকার। জনগণ এখন বর্তমান সরকারের নিষ্ঠুর শাসন থেকে মুক্তি পেতে ঐক্যবদ্ধ। বিএনপি মহাসচিব অবিলম্বে গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া বানোয়াট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহার এবং তাদের নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ