ঢাকা, মঙ্গলবার 10 April 2018, ২৭ চৈত্র ১৪২৪, ২২ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মশার যন্ত্রণা আর যানজটে চট্টগ্রাম মহানগরীর জনজীবন অতিষ্ঠ

চট্টগ্রাম ব্যুরো : চট্টগ্রাম গণ-অধিকার ফোরামের উপদেষ্টা, রাজনীতিবিদ, মোঃ এরশাদ উল্লাহ বলেছেন,  চট্টগ্রাম মহানগরীর  ৫৭টি খালের মধ্যে আরও ৩১টি খাল খননের সুনির্দিষ্ট আশ্বাস চাই। খাল খনন করে বসে থাকলেই চলবে না। পরবর্তীতে সুষ্ঠু রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে। নাহলে প্রভাবশালীরা পূর্বের ন্যায় নদী-নালা গিলে খাবে। 

তিনি আরো বলেন, পাহাড়ের মাটি খালে না আসার ব্যবস্থা করতে হবে এবং পাহাড় কাটা বন্ধ করতে হবে।   নগরীর সকল সরকারি আধাসরকারি স্বায়ত্তশাসিত সেবাধর্মী সকল প্রতিষ্ঠানকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ওয়াসার ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যানে কাজ করলে প্রকল্পগুলী নির্মাণ কাজ টেকসই হবে এবং তাতে জনদুর্ভোগ লাঘব হবে। বৃহত্তর চান্দগাঁওতে একটি রাস্তাও চলাচলের উপযোগী নাই। নালা-নর্দমা ভরাট হয়ে গেছে। 

তিনি গতকাল সোমবার বিকেলে জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্তির লক্ষ্যে এবং বৃহত্তর চান্দগাঁওর রাস্তাঘাট নির্মাণ, নালা-নর্দমা পরিষ্কার ও ডোমখালের উভয় পার্শ্বে দখলদারদের উচ্ছেদের দাবিতে চট্টগ্রাম মহানগরীর পুরাতন চান্দগাঁও থানার পিছনে ডোমখালের উপর আয়োজিত মানববন্ধন ও সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথাগুলো বলেন। 

চট্টগ্রাম গণ-অধিকার ফোরামের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে যুগ্ম সম্পাদক জাফর আহমদ এর পরিচালনায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম গণ-অধিকার ফোরামের মহাসচিব এম এ হাশেম রাজু। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, চগঅফো’র কেন্দ্রীয় যুগ্মসম্পাদক মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী, মনসুর আলম,   কামাল উদ্দিন, জসিম উদ্দিন, রাজনীতিবিদ শফিকুল ইসলাম শাহীন, জানে আলম, কেন্দ্রীয় সহ-মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা ফারহানা আকতার, যুবসমাজের পক্ষে বক্তব্য রাখেন, মোঃ আবু, মোঃ আলমগীর, মোঃ ওমর ফারুক, মোঃ আবু সৈয়দ  প্রমুখ।

 প্রধান বক্তার বক্তব্যে চগঅফো’র কেন্দ্রীয় মহাসচিব এম এ হাশেম রাজু বলেন, কর্ণফুলী নদী এবং সাগরের সাথে যেসব খালের সংযোগ রয়েছে, জোয়ারের পানি যাতে শহরে ঢুকতে না পারে সে জন্য খালের মুখে স্লুইচগেট নির্মাণ করতে হবে। জলাবদ্ধতা নিরসনে সিডিএ-সেনাবাহিনী এমওইউ সমঝোতা স্বাক্ষর চট্টগ্রাম নগরবাসীর জন্য বড় আনন্দের সংবাদ। ৬০ লক্ষ নগরবাসী ট্যাক্স দিয়ে যাচ্ছেন, কিন্তু তার বিপরীতে সিটি কর্পোরেশন থেকে যে সেবা দেওয়ার কথা ছিল সে সেবা দিতে সিটি কর্পোরেশন সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ। নগরীর একটি রাস্তাও চলাচলের উপযোগী নাই। নালা-নর্দমা, ময়লা, রাস্তাঘাট, মশার যন্ত্রণা, যানজটের কারণে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। 

সভাপতির বক্তব্যে চগঅফো’র চেয়ারম্যান  মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের পূর্বে মেয়র মহোদয় আপনি ওয়াদা করেছিলেন চট্টগ্রাম নগরবাসীকে গ্রিনসিটি, হেলথি সিটি, মেগাসিটি, ক্লিনসিটি উপহার দিবেন, কোথায় গেল আপনার সে ওয়াদা? চট্টগ্রাম নগরবাসী বড় কষ্টে আছে। গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি থাকে না। ফলে নিদারুণ কষ্টের মধ্যে নগরবাসীকে জীবনযাপন করতে হয়। মানুষের মুখের ভাষা বুঝতে চেষ্টা করুন।

 তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের রাজস্ব আয়ের সিংহভাগ এই চট্টগ্রাম থেকে জোগান দেওয়া হয়। কী কারণে চট্টগ্রাম নগরবাসী অবহেলিত? মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি নিজ হাতে চট্টগ্রামের উন্নয়নের বিষয়টি দেখাশুনা করুন। উন্নয়নের নামে অপরিকল্পিত উপায়ে ৫% মানুষের জন্যে ফ্লাইওভার নির্মাণ করে জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে, তা অবিলম্বে তদন্ত করা হোক।

 তিনি আরো বলেন, শিশু-কিশোরদের খেলাধুলা ও বিনোদনের কোনো মাঠ নাই। নগরীর বাসিন্দারা সন্ত্রাসীদের ভয়ে সবসময় আতঙ্কে জীবনযাপন করছেন। চট্টগ্রাম নগরী এখন মাদকের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। কারো কোনো মাথাব্যথা নাই। ফলে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রছাত্রী ও তরুণ সমাজ আজ বিপথগামী। মাদকের ছোবলে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান, অবিলম্বে চট্টগ্রামকে মাদকমুক্ত ঘোষণা করুন। মানববন্ধনটি বিশাল জনসমাবেশে পরিণত হয়। স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীসহ সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গরা উপস্থিত ছিলেন। মানববন্ধনটি শান্তিপূর্ণভাবে ৩ ঘন্টা স্থায়ী হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ