ঢাকা, মঙ্গলবার 10 April 2018, ২৭ চৈত্র ১৪২৪, ২২ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বাঁশখালীতে টিউবওয়েলে বিশুদ্ধ  পানির তীব্র সংকট

 

মোঃ আবদুল জব্বার, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) : বর্তমান শুকনো মওসুমে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে বাঁশখালীর উপকূলীয় এলাকায়। অধিকাংশ টিউবওয়েল পরিত্যাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ফলে প্রচ- গরম ও উঞ্চ আবহাওয়ার কারণে ছাত্র-ছাত্রীরা বাধ্য হয়ে পিপাসা মিটাতে খাল, বিল, পুকুর এবং পথঘাট থেকে পানীয় পান করে নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। পানির অভাবে দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে প্রত্যন্ত অঞ্চলের লোকজন। শুস্ক মওসুমে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় অধিকাংশ টিউবওয়েলে পানি না উঠায় এ সংকট চরম আকার ধারণ করছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, অধিকাংশ স্কুলে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নাই। বাঁশখালীর ৫০ শতাংশ বিদ্যালয়ে বিশুদ্ধ পানির জন্য নলকূপের ব্যবস্থা আছে। এসব টিউবওয়েলগুলো অনেকদিনের পুরনো এবং দীর্ঘদিন থেকে অযতœ অবহেলায় বর্তমানে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। এই কারণেই ওই অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিভাবকদের অভিযোগ। স্কুলগামী অবুঝ শিশুরা না বুঝে পান অনুপযোগী ঠা-া পানীয় পানের পাশাপাশি স্কুলের আশ-পাশের দোকান থেকে বিভিন্ন ধরনের জীবানুযুক্ত আচার ও মান অনুপযোগী খাবার খেতে বাধ্য হচ্ছে। বাঁশখালী উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল ছনুয়া, খুদুকখালী, গন্ডামারা, সরল, বাহারছড়া, খানখানাবাদ, পুকুরিয়া, কালীপুর, বৈলছড়ি, কাথরিয়া, সাধণপুর, পুঁইছড়ি, চাম্বল, শেখেরখীল ও শীলকূপ ইউনিয়নের অধিকাংশ স্কুলে বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা নেই। ছনুয়া খুদুকখালী মধুখালী, দক্ষিণ ছনুয়া, মনু মিয়াজীর বাজার সাগর উপকূলের কয়েক কিলোমিটার গুরেও একটি নলকূপে পানি পাওয়া যায় না। ছোট ছোট ছেলে-মেয়ে ছাড়াও আবাল বৃদ্ধ সবাই বিশুদ্ধ পানির সংকট রয়েছে। উপকূলীয় এলাকায় একটি নলকূপ বসাতে ৯০০-১২০০ ফুট গভীরে যেতে হয়। গভীরে না গেলে বিশুদ্ধ পানি পাওয়া যায় না। গভীরে যেতে হলে ১ লক্ষ বা ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা ব্যয় করতে হয়। স্থানীয়রা এ প্রতিবেদকে অভিযোগে বলেন- এত টাকা জোগাড় করা তাদের পক্ষে সম্ভব না হওয়ায় তারা বিশুদ্ধ পানির পরিবর্তে জীবানুযুক্ত খাল-বিল নদী-নালার পানি পান করে নানান রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। তারা আরও অভিযোগ করে বলেন, উপকূলীয় এলাকায় শত শত নলকূপ অকেজো হয়ে পরিত্যাক্ত অবস্থায় থাকলেও যেন দেখার কেউ নেই। উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, প্রতিটি স্কুলে এলজিইডির পক্ষ থেকে নলকূপ দেয়া হলেও সমুদ্র তীরবর্তী এলাকায় অবস্থিত স্কুলগুলোর নলকূপ লবণাক্ততার কারণে তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যায় এবং দুর্বৃত্তরা নলকূপের হেডগুলো চুরি করে নিয়ে যায়। নতুন করে স্কুল নির্মাণের সময় সংশ্লিষ্টরাই নলকূপ বসিয়ে দেন। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসে নলকূপ এলে তা ইউপি চেয়ারম্যানদের জানিয়ে দেয়া হয় এবং তাদের দেয়া নির্দিষ্ট স্থানেই নলকূপ বসানো হয়। এদিকে অভিযোগ রয়েছে বিগত অনেকদিন যাবৎ বাঁশখালীবাসীর চাহিদা অনুসারে কেনো নলকূপ বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে না। তাছাড়া যেসব নলকূপ সরকারি ভাবে বরাদ্দ পাওয়া যায় তাতেও ৩০-৪০ হাজার টাকা খরচ করে এই শুষ্ক মওসুমে পানি পায় না জনগণ। এ ব্যাপারে বাঁশখালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলামের সাথে মুটোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বাঁশখালীতে শুস্ক মওসুমে প্রধান সমস্যা হল সেনিটেশন, ডিপ-টিউবঅয়েল, বেড়িবাঁধ এই গুলি হচ্ছে প্রধান অন্তরায়। এমপি মহোদয়ের মাধ্যমে, উপজেলা পরিষদ, এনজিও ও ভারতীয় হাই কমিশনার এর মাধ্যমে বাঁশখালীর বিভিন্ন ইউনিয়ন, বিদ্যালয়, মসজিদসহ ২ শতাধিক গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়। পর্যায়ক্রমে প্রধান সমস্যা গুলি সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাব। বাঁশখালীর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মোঃ মনিরুজ্জামান দেওয়ানজী বলেন, উপকূলীয় উপজেলা হিসেবে বাঁশখালীতে গভীর নলকূপের বরাদ্দ খুবই অপ্রতুল। গত ২০১৫-১৬ ও ১৭ এর অর্থ বছরে বরাদ্দ পেয়েছি মাত্র ৯৫টি। তাও আবার এমপি ও উপজেলা চেয়ারম্যান ২ জন মিলে তাদের চাহিদা মোতাবেক খুবই পানি সংকটাপন্ন এলাকাগুলোতে বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে।

বিশেষ চাকরি মেলা অনুষ্ঠিত : দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি, বাংলাদেশ বিজনেস এন্ড ডিজাবিলিটি নেটওয়ার্ক (বিবিডিএন), ব্র্যাক এবং ইপসা’র যৌথ আয়োজনে ৭ এপ্রিল সকালে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে শারীরিক প্রতিবন্ধীদের জন্য চাকরি মেলা আয়োজন করা হয়। এ মেলার উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোঃ ইকবাল বাহার, চট্টগ্রাম চেম্বার প্রেসিডেন্ট মাহবুবুল আলম’র সভাপতিত্বে মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন (বিইএফ)’র সভাপতি কামরান টি. রহমান এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে টিভিইটি এন্ড স্কিলস ডেভেলাপমেন্ট স্পেশালিস্ট অব আইএলও লিগা লাওং ডুমাওয়াং ও ন্যাশনাল স্কিলস ডেভেলাপমেন্ট কাউন্সিল’র এক্সিকিউটিভ কমিটির কো-চেয়ারম্যান, তুর্কির অনারারী কনসাল সালাহ্উদ্দীন কাসেম খান উপস্থিত ছিলেন। এতে আমন্ত্রীত অতিথিদের পাশাপাশি আরো বক্তব্য রাখেন পিএইচপি’র চেয়ারম্যান সুফী মোঃ মিজানুর রহমান, বিবিডিএন এক্সিকিউটিভ কমিটির কো-চেয়ারম্যান মুর্তজা রাফি খান, আইএলও বি-সেপ প্রজেক্ট’র ডিজাবিলিটি কন্সালটেন্ট আলবার্ট মোল্লা, প্রতিবন্ধী কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে গঠিত যৌথ কমিটির সদস্য সালাহ্উদ্দিন ইউসুফ ও মিনহাজ চৌধুরী, ইপসা’র প্রোগ্রাম ম্যানেজার ভাস্কর ভট্টাচার্য্য, ব্র্যাকের স্কিলড ডেভেলাপমেন্ট প্রোগ্রাম’র প্রধান আহমেদ তানভীর আনাম এবং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের প্রতিনিধি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চেম্বার পরিচালকবৃন্দ এ. কে. এম. আক্তার হোসেন, মোঃ অহীদ সিরাজ চৌধুরী (স্বপন) ও অঞ্জন শেখর দাশসহ বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিভিন্ন এনজিও সংস্থা এবং চট্টগ্রামস্থ কর্পোরেট হাউসের প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

 প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ কমিশনার মোঃ ইকবাল বাহার শারীরিক প্রতিবন্ধীদেরকে সম্পূর্ণ অক্ষম না বলে বিশেষ ক্ষেত্রে বিশেষভাবে সক্ষম বলে মন্তব্য করেন। তিনি ১১ ধরনের শারীরিক প্রতিবন্ধী আছে উল্লেখ করে ব্যক্তিভেদে তাদের নির্দিষ্ট প্রতিবন্ধকতাকে পাশ কাটিয়ে অন্যান্য সক্ষমতাকে বৃদ্ধি ও দক্ষ করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সিএমপি কমিশনার শারীরিক প্রতিবন্ধীদের জন্য আয়োজিত চাকরি মেলার প্রশংসা করেন এবং এ জাতীয় আয়োজন অন্যান্যেরকে শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধীদেরকে স্বাভাবিক কার্যপ্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট করতে উদ্বুদ্ধ করবে যা দেশের জিডিপি ঘাটতি পূরণে অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। 

 স্বাগতঃ বক্তব্যে চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন-চিটাগাং চেম্বার সর্বদাই এ জাতীয় উদ্যোগে অবদান রেখে আসছে। এ আয়োজনের পূর্বেও গত ৬ মাসে প্রতিবন্ধীদের কর্ম-সংস্থান তৈরির লক্ষ্যে চেম্বারে ২টি সেমিনার আয়োজনসহ ১টি যৌথ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কোন প্রকার ভেদাভেদ না করে সকলকে স্বাভাবিকভাবে কর্মক্ষেত্রে নিয়োগ না করলে ২০৩০ সালে এসডিজি লক্ষ্যপূরণ সম্ভব না, পাশাপাশি এ চাকরি মেলা আয়োজন এসডিজি লক্ষ্যপূরণের পথে চেম্বারের সহায়ক মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ বলে তিনি মন্তব্য করেন। এছাড়া মাহবুবুল আলম প্রতিবন্ধী কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে এগিয়ে আসার জন্য কর্পোরেট হাউসগুলোর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।   

 বিশেষ অতিথি ন্যাশনাল স্কিলস ডেভেলাপমেন্ট কাউন্সিল’র এক্সিকিউটিভ কমিটির কো-চেয়ারম্যান সালাহ্উদ্দীন কাসেম খান বলেন-দেশের প্রায় ১০% মানুষ কোন না কোনভাবে শারীরিক প্রতিবন্ধী। এদেরকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে সম্মিলিত প্রয়াস বিশেষ করে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশীপ ভিত্তিতে কাজ করা জরুরি। আজ যারা এ মেলাতে চাকরি খোঁজে এসেছে অদূর ভবিষ্যতে একদিন তারাই সাফল্যের শেখরে পৌঁছাতে সক্ষম হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। 

উল্লেখ্য, ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে প্রতিবন্ধীদের আয়োজিত চাকরি মেলায় প্রায় ১৭০ জন চাকরি প্রার্থী মেলায়  অংশগ্রহণকারী ১৭টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির কাছে মৌখিক সাক্ষাৎকার প্রদান ও প্রয়োজনীয় জীবন-বৃত্তান্ত দাখিল করেন। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে কেএসআরএম, ক্লিফটন গ্রুপ, লুব-রেফ, ম্যাফ সুজ, আরএসবি ইন্ডাস্ট্রিয়াল, চিটাগাং গ্রামার স্কুল, সাংকো অপটিকস্ (সিইপিজেড)’র পক্ষ থেকে প্রধান অতিথির মাধ্যমে ১ জন করে চাকরি প্রার্থীকে নিয়োগপত্র প্রদান করা হয়। এছাড়া উল্লেখিত প্রতিষ্ঠানসমূহের পাশাপাশি আরো কিছু প্রতিষ্ঠানে চাকরি মেলার অংশ হিসেবে মোট ৪০ জনকে নিয়োগ প্রদান করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ