ঢাকা, মঙ্গলবার 10 April 2018, ২৭ চৈত্র ১৪২৪, ২২ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কেশবপুরে তিন ফসলি জমি গ্রাস করে ইটভাটা তৈরি হচ্ছে

কেশবপুর (যশোর) সংবাদদাতা : যশোরের কেশবপুর উপজেলার প্রতাপপুর বাজারের পাশে জনবসতিপূর্ণ এলাকার ৩ ফসলি জমি গ্রাস করে ইটভাটা স্থাপনার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন দুই প্রভাবশালী ব্যবসায়ী। এলাকার রাস্তাঘাটের ক্ষয়ক্ষতি, ফসলহানি, ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া বিঘœঘটাসহ পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয়ের আশঙ্কায় ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী। রোববার বিকেলে ভাটা বন্ধের দাবিতে এলাকার শিক্ষার্থীসহ শতশত নারী পুরুষ শহরের ত্রিমোহিনী মোড়ে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে। 

জানা গেছে, কেশবপুর সাগরদাঁড়ি সড়কের প্রতাপপুর গ্রামে মানুষের প্রয়োজনে ছোট্ট একটি বাজার গড়ে উঠেছে। বাজারটিতে প্রতিদিন হাট বসে। এ বাজারে একটি প্রাথমিক, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও একটি দাখিল মাদরাসা রয়েছে। এর উত্তর পাশে মজিদপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও চৌরাস্তা মোড়ে কেশবপুর পৌরসভায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্যে দুটি গভীর নলকূপ স্থাপনের কাজ চলছে। এর চারপাশে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা ছাড়াও সব জমিই ৩ ফসলি। কেশবপুর ভায়া সাগরদাঁড়ি ও মঙ্গলকোট ভায়া সরসকাটি সড়কের সংযোগ স্থান এই চৌরাস্তার দক্ষিণ পাশে কেশবপুর শহরের প্রভাবশালী মৎস্য ঘের ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম ওরফে বুলু বিশ্বাস ও উত্তর পাশে পাটকেলঘাটা থানার সেনপুর গ্রামের পোল্ট্রি ফিড ব্যবসায়ী হাসানুর রহমান হাসান পৃথকভাবে দুটি ইটভাটা স্থাপনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এ রাস্তা দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন শিশু শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যেতে হয়। এলাকাবাসী অভিযোগ, চৌরাস্তা মোড়ে ভাটা স্থাপিত হলে প্রতিনিয়ত ভাটার ইট ও বালি, মাটিবাহী গাড়ি চলাচলের কারণে ধুলা বালিতে সাধরণ মানুষ সর্দি-কাশি, এলার্জিসহ নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয়সহ ভাটার কার্বন জাতীয় আবহাওয়ার কারণে এলাকায় ব্যাপক ফসলহানি ঘটবে। 

ভাটা স্থাপন আইন-২০১৩ এর ৮নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে, আবাসিক, সংরক্ষিত বা বাণিজ্যিক এলাকা, কৃষি জমি, পরিবেশ বিপর্যয়, ফসলের ক্ষতি সাধন বা ব্যক্তি মালিকানাধীন বাগান দখল করে কোনো ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না। অথচ ভাটা মালিকগণ এ আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ওই বাজারের উত্তর পাশের ৩ ফসলি জমি গ্রাস করে ইটভাটা দুটি স্থাপনার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।   দেউলী গ্রামের সিদ্দিকুর রহমান জানান, মৎস্য ঘের ব্যবসায়ী বুলু বিশ্বাস ও হাসানুর রহমান হাসান গত বছর এই স্থানে ইটভাটা স্থাপনার কাজ চালিয়ে যেতে থাকলে শেষ পর্যন্ত গ্রামবাসীর আন্দোলনের মুখে গুটিয়ে নিতে বাধ্য হন। এ বছর তারা পুনরায় চৌরাস্তা মোড়ে ভাটা স্থাপনার কাজ পুরোদমে চালিয়ে যাচ্ছেন। এরই প্রতিবাদে ৮ এপ্রিল আশপাশের ৩ গ্রামের শিক্ষার্থীসহ নারী পুরুষ ইটভাটা বন্ধের দাবিতে শহরের ত্রিমোহিনী মোড়ে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন আশরাফুল ইসলাম, জিয়াদ হাসান, জাহাঙ্গীর আলম বাচ্চু, হাফিজুর রহমান, নাছির উদ্দীন গাজী প্রমুখ। সমাবেশ থেকে ওই স্থানে ভাটা স্থাপনার কাজ বন্ধ না হলে কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেয়া হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ