ঢাকা, মঙ্গলবার 10 April 2018, ২৭ চৈত্র ১৪২৪, ২২ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সিরিয়ার সামরিক বিমানবন্দরে ইসরাইলের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ১৪

হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেপণাস্ত্র

৯ এপ্রিল, বিবিসি, দ্য গার্ডিয়ান : সিরিয়ার একটি সামরিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে, তাতে অন্তত ১৪ জন নিহত ও আহত হয়েছেন বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এসএএনএ জানিয়েছে, গতকাল সোমবারের প্রথম কয়েক ঘন্টায় হোমস শহরের নিকটবর্তী তাইফুর বিমান ঘাঁটিতে (টি-৪ নামেও পরিচিত) বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।

ঘটনার বিস্তারিত খবর তখনও আসছিল জানিয়ে বিবিসি বলেছে, এ হামলার জন্য কারা দায়ী তা পরিষ্কার হয়নি।

সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক সংলগ্ন পূর্ব গৌতার বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত শহর দৌমায় রাসায়নিক হামলার অভিযোগ আসার পর বিশ্বমহলে সৃষ্ট প্রতিক্রিয়ায় মধ্যেই ক্ষেপণাস্ত্র হামলাটি চালানো হয়েছে। অন্যদিকে সিরিয়ার সেনাবাহিনী এই হামলার জন্য ইসরাইলকে দায়ী করেছে। একই কথা বলছে রুশ সেনাবাহিনী। তবে এই হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততার খবর উড়িয়ে দিয়েছে পেন্টাগন।

দৌমার ওই ‘রাসায়নিক’ হামলায় বহু লোক নিহত হয়েছেন বলে খবর।

এর প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে ‘পশু’ বলে অভিহিত করেছেন। এর জন্য সিরিয়া ও তার ঘনিষ্ঠ মিত্র ইরান ও রাশিয়াকে ‘বড় ধরনের মূল্য চুকাতে হবে’ বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

ওই দিনই ট্রাম্প ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এক যৌথ বিবৃতি দিয়ে কথিত হামলার ঘটনায় ‘সমন্বিতভাবে একটি শক্তিশালী, যৌথ প্রতিক্রিয়ায়’ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর কথা অস্বীকার করেছেন।

এক বিবৃতিতে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পেন্টাগন বলেছে, “এই সময়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সিরিয়ার কোনো এয়ার স্ট্রাইক পরিচালনা করছে না।”

তবে তারা পরিস্থিতির ওপর ‘গভীর নজর রাখছে’ এবং সিরিয়ায় যারা রাসায়নিক অস্ত্রের হামলা চালিয়েছে তাদের জবাবদিহিতার জন্য চলমান কূটনৈতিক উদ্যোগকে সমর্থন দিচ্ছে বলে ওই বিবৃতিতে জানিয়েছে।

প্রথমদিকে সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার প্রতিবেদনে তাইফুর বিমানক্ষেত্রে চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলাটিকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের হামলা সন্দেহ করা হচ্ছে’ বলে জানালো হলেও পরের প্রতিবেদনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নাম বাদ দেওয়া হয়।

গত বছর সিরিয়ার বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা খান শেইখৌনে রাসায়নিক অস্ত্রের হামলার প্রতিক্রিয়ায় ওই বছরের (২০১৭) এপ্রিলে দেশটির শায়রাত সামরিক বিমানক্ষেত্রে ৫৯টি টমাহক ক্রুইজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।

চলতি বছরের প্রথমদিকে সিরিয়ার লক্ষ্যস্থলগুলোতে ইসরায়েলও বড় ধরনের হামলা চালিয়েছিল।  

শনিবার দৌমায় চালানো হামলায় বহু লোক নিহত হয়েছেন বলে মেডিকেল সূত্রগুলো জানিয়েছে। হোয়াইট হেলমেট নামে পরিচিত উদ্ধারকারী কর্মীদের ধারণ করা একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, একটি বাড়ির ভিতরে প্রাণহীন অনেক পুরুষ, নারী ও শিশু পড়ে আছেন, তাদের অনেকের মুখ দিয়ে ফেনা বের হচ্ছে।

তবে দৌমায় সত্যিই কী ঘটেছে এবং সেখানে মারা যাওয়া মানুষের সঠিক সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি বলে জানিয়েছে বিবিসি।

সেখানে রাসায়নিক হামলা চালানো হয়েছে এমন দাবি, সিরিয়া ও রাশিয়া, উভয়েই অস্বীকার করেছে। বরং দৌমার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা বিদ্রোহীদের সঙ্গে ‘এলাকা ত্যাগের একটি চুক্তি’ হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।

সিরিয়ার এসব পরিস্থিতি নিয়ে সোমবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।  

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ