ঢাকা, মঙ্গলবার 10 April 2018, ২৭ চৈত্র ১৪২৪, ২২ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ডুমুরিয়ায় ইনস্টিটিউট অব লাইভস্টক সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা

খুলনা অফিস : সাড়ে তিন বছরেও দৃশ্যমান হয়নি ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে খুলনার ডুুমুরিয়া উপজেলার শাহপুরে নির্মাণাধীন ইনস্টিটিউট অব লাইভস্টক সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি (আইএলএসটি) প্রকল্প। শুধুমাত্র জমি অধিগ্রহণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে সকল কার্যক্রম। ফলে ওই প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়া নিয়ে দীর্ঘসূত্রতা দেখা দিয়েছে। অবশ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ওই স্থানের মাটি প্রস্তুতকৃত নকশা অনুযায়ী বাস্তবায়নের উপযোগী নয় এমন রিপোর্ট দাখিল করে বুয়েট। তাই নতুন নকশা তৈরিতে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেয়া হয়েছে। নতুন নকশা অনুযায়ী প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

খুলনা জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতে প্রাণিসম্পদ সাব সেক্টরের অবদান দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। খাদ্য নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় ডিম, দুধ ও গোশতের গুরুত্ব অপরিসীম। খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে প্রাণিজ আমিষ বিশেষ করে ডিম, দুধ এবং গোশতের অনেক ঘাটতি রয়েছে। এই ঘাটতি পূরণে আইএলএসটি হতে প্রাণি সম্পদের ওপর ডিপ্লোমাসহ সমমানের অন্যান্য কোর্সের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে ২০১৪ সালের জুলাই মাসে ডুমুরিয়া উপজেলার শাহপুরে ইনস্টিটিউট অব লাইভস্টক সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি নির্মাণে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এ কাজের জন্য তিন একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। যার মূল্য পরিশোধ করা হয় ৭০ লাখ ১৭ হাজার টাকা। নির্মিতব্য এ প্রকল্পে একাডেমিক এবং প্রশাসনিক ভবন, ভেটেরিনারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরি, অডিটরিয়াম, ক্যাফেটিয়া এবং শিক্ষক ডরমেটরি, চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর ডরমেটরি, ছোট প্রাণি এবং বড় প্রাণির জন্য ফার্ম বিল্ডিং, প্রিন্সিপ্যাল কোয়ার্টার, ছাত্র ও ছাত্রী হোস্টেল এবং বাকী জায়গায় রাস্তা ও খেলার মাঠ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। 

এছাড়া ভবন নির্মাণের পাশাপাশি লাইভস্টক ডিপ্লোমা কোর্স কারিকুলাম প্রণয়ন, কারিকুলাম অনুযায়ী বই তৈরি করে প্রিন্টিং করা এবং কোর্স চালুরও কার্যক্রমও রয়েছে এ প্রকল্পে। এতে কৃষক ও খামারিদের রোগমুক্ত, সুস্থ গবাদি পশু, হাঁস-মুরগী উৎপাদনে পরামর্শসহ অন্যান্য সেবা প্রদান করা সম্ভব হবে। দেশে খাদ্য নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় ডিম, দুধ ও গোশতের উৎপাদন বৃদ্ধিসহ কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অনন্য অবদান রাখবে। শিশু খাদ্য প্রাপ্তি ও নিশ্চিত হবে, নারীরা গবাদি প্রাণি ও হাঁস-মুরগি লালন-পালনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধি করে জীবন মান উন্নয়ন করতে সহায়ক হবে। 

জানা গেছে, প্রকল্পটি ২০১৪ সালের পয়লা জুলাই থেকে শুরুর পর জমি অধিগ্রহণ করে পাইল নির্মাণ শুরু করতেই চলে গেছে প্রায় সাড়ে তিন বছর। এখনও ভবণ নির্মাণ কাজ দৃশ্যমান করা সম্ভব হয়নি। শুধুমাত্র জমি অধিগ্রহণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে সকল কার্যক্রম। এ অবস্থায় ওই প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়া নিয়ে দীর্ঘসূত্রতা দেখা দিয়েছে।

এ ব্যাপারে খুলনা জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার মো. আনোয়ার উল ইসলাম বলেন, প্রকল্পের কাজ জন্য বুয়েটে পুনরায় মাটি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ওই স্থানের মাটি প্রস্তুতকৃত নকশা অনুযায়ী বাস্তবায়নের উপযোগী নয় এমন রিপোর্ট দাখিল করে। তাই রিপোর্ট অনুযায়ী নতুন করে নকশা তৈরির জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেয়া হয়েছে। নতুন নকশা অনুযায়ী প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ