ঢাকা, মঙ্গলবার 10 April 2018, ২৭ চৈত্র ১৪২৪, ২২ রজব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কলাপাড়ায় কৃষকের বোরোর ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে মিঠা পানির সঙ্কটে 

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা : পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় এবছর নতুন করে ৩০ শতক জমিতে বোরোর আবাদ করেছেন কৃষক আসাদুল। তরতর করে বেড়ে উঠেছিল চারাগুলো। এমনকি শেষ পর্যন্ত কাইচ থোড় হয়ে আর ধানের শীষ বের হতে পারছে না। সেচ দেয়ার মতো পানি না থাকায় কিছু ধানের শীষ বের হলেও বাকী সব চিটা হয়ে গেছে।

উপজেলার আজিমপুর গ্রামের হাজী মানিক মৃধা জানালেন ছয় বিঘা জমিতে বোরোর আবাদ করেছেন। দুই বিঘার ধান নষ্ট হয়ে গেছে। তার দাবি শেষকালে মিঠা পানি ছিলনা। সেচ সঙ্কটে তার ক্ষেতটি নষ্ট হয়ে গেছে। মালা চায়না জাতের ক্ষেতটি সবচেয়ে বেশি নষ্ট হয়েছে।

এভাবে কালাম ফরাজির ৩০ শতক। ইসমাইল মিয়ার চার বিঘা। নুরুজ্জামানের ২৪ শতক সব নষ্ট হয়ে গেছে। গবাদিপশু দিয়ে খাওয়াচ্ছেন। হাজার চারেক টাকা তার খরচ হয়েছে। অন্তত ৪০ হাজার টাকার ধান পাওয়ার কথা ছিল তার। ফলন তো পায়নি বরং লোকসান উৎপাদন খরচ। এভাবে বহু চাষির বোরো ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। এবছর এমন কোন ইউনিয়ন নেই যেখানে দুই একশ’ চাষি বোরোর আবাদ না করেছেন। যেখানে খাল কিংবা পুকুরে পানি ছিল সেখানেই কৃষক বোরোর আবাদ করেছেন। মনষাতলী খালটির দুই পাড়ের অন্তত দুইশ’ কৃষক বোরোর আবাদ করেছেন।

পাঁচটি গ্রামের মানুষ দীর্ঘ খালটির সব পানি সেচ দিতে গিয়ে এখন পানিশূন্য হয়ে গেছে খাল। শুকিয়ে খাঁ খাঁ করছে। এখন পানির সঙ্কটে রয়েছেন চাষিরা। কাক্সিক্ষত বর্ষাও আসছে না। চোখের সামনে শত চাষির বোরো ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এমন কোন ইউনিয়ন নেই এবছর গড়ে দুই একশ’ চাষি বোরোর আবাদ করেনি। এ বছর বোরোর আবাদ হয়েছে ছয় হাজার একশ’ ৩৫ একর জমিতে। যা গেল বছরের চেয়ে ১১ গুন বেশি। উপজেলা কলাপাড়া উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মসিউর রহমান জানান, আসলে এ বছর কৃষক যেখানে খালে, ডোবায় কিংবা পুকুরে মিঠা পানি পেয়েছে সেখানেই বোরোর আবাদ করেছেন। কিন্তু কেউ চিন্তা করেন নি যে, কী পরিমাণ পানিতে কতটুকু বোরোর আবাদ করা যাবে। ফলে একটু সমস্যা হয়েছে। তাদের ধারণা শতকরা সর্বোচ্চ পাঁচ ভাগ জমির ফসল কমবেশি ক্ষতি হতে পারে।

কৃষকরা জানান, কিছু ফসল তারা মাত্রাতিরিক্ত ইউরিয়া সার প্রয়োগ করে নষ্ট করেছেন। কিছু নষ্ট হয়েছে বীজধানের মান খারাপ হওয়ায়। আর সেচ দিতে না পারায় বেশি পরিমাণ বোরোর ক্ষেত নষ্ট হয়েছে। সকল কৃষক জানান, এবছর গেল তিন/চার মাসে কোন বৃষ্টি হয়নি। যা কোন বছর দেখা যায় নি। তাদের ধারণা ছিল বৃষ্টি হবেই। ১০-১৫ দিনে অধিকাংশ কৃষক বোরোর ফলন ঘরে তুলতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তারপরও শেষ মুহূর্তে বোরোর এমন ক্ষতিতে কৃষকরা একটু হতাশা ব্যক্ত করেছেন। তারা এও বলেন এর পরের বছর মিঠা পানির মজুদ বৃদ্ধি করতে খালগুলো আগেভাগেই বাঁধ দিয়ে লোনা পানির প্রবেশ বন্ধ করে দিতে হবে। এছাড়া ভরাট হওয়া খাল পুনঃখননের দাবিও তাদের।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ