ঢাকা, বুধবার 26 September 2018, ১১ আশ্বিন ১৪২৫, ১৫ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

নানা সংকটে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: বৃহত্তর কুমিল্লার সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবা পাওয়ার সর্বশেষ ভরাসাস্থল কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতাল।

১৯৯২ সালে ২৫০ শয্যা নিয়ে যাত্রা শুরু করে হাসপাতালটি। ২০০৬ সালে ২৫০ শয্যা থেকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করা হয় এটিকে।

হাসপাতালটির বহির্বিভাগে গড়ে দৈনিক ৮০০ থেকে ৮৫০ জন মানুষ বিনামূল্যে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে থাকেন। জরুরি বিভাগে রয়েছে ২৪ ঘণ্টা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।

এছাড়া ৫০০ শয্যার এ হাসপাতালে ৩০টি ওয়ার্ডে গড়ে ৭০০ রোগী ভর্তি থেকে চিকিৎসা নেন।

কিন্তু বৃহত্তর এ সেবা প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে নানা সমস্যায় জর্জরিত। কুমেক শিক্ষার্থীদের হোস্টেলে প্রবেশের প্রধান ফটক ও হাসপাতালে প্রবেশের প্রধান ফটক একটাই। এতে শিক্ষার্থীদের বিশেষ করে ছাত্রীদের নিয়মিত ইভটিজিংসহ নানা ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

গত বছর সেপ্টম্বরে বহিরগত দ্বারা মহিলা ইন্টার্ন চিকিৎসক লাঞ্ছিতের ঘটনা ঘটে। জরুরি বিভাগে দুটি লিফট থাকার কথা থাকলেও লিফট রয়েছে একটি। তাও দুই বছর ধরে বন্ধ প্রায়। হাসপাতালের পুরাতন ও নতুন ভবনে চারটি লিফটের দুটি বহুদিন ধরে বন্ধ। বাকি দুটি চলছে কোনোরকম জোড়াতালি দিয়ে। হাসপাতালের পাঁচটি লিফটের কোনোটিতেই নেই লিফটম্যান।

এছাড়াও হাসপাতালের পরীক্ষা-নিরীক্ষার বেশীর ভাগ সরঞ্জাম অকেজো। বহুদিন ধরে বিকল হয়ে আছে সিটি স্ক্যান ও এম আর আই মেশিন। এটি মেরামতে নেই কোনো উদ্যোগ। এতে করে রোগীদেরকে বেশি টাকা খরচ করে বাইরে থেকে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করাতে হয়।

হাসপাতালের শৌচাগারগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী। জনবল সংকটের কারণে নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না এগুলো। কোনোটিতে পানির কল নষ্ট, প্রায় টয়লেটে নেই বদনা। রাতে টয়েলেট ব্যবহারের জন্য নেই বৈদুতিক বাতি। দুর্গন্ধময় টয়লেটে প্রবেশের আগেই কাপড় দিয়ে নাক চেপে ধরতে হয়। বেশিরভাগ টয়লেটেই নেই ভেতর থেকে আটকানোর ব্যবস্থা। নেই নিরাপদ খাবার পানির ব্যবস্থাও।

হাসপাতালের সামনের রাস্তার পাশে সাপ্লাই পানির চৌবাচ্চাটি ১৩০০ রোগী ও রোগীর স্বজনদের একমাত্র ভরসা। হাসপাতাল সংলগ্ন কোথাও নেই টিউবওয়েলের ব্যবস্থা। হাসপাতালে অবস্থানরত রোগীদের বেশিরভাগ সময় বোতলজাত পানি কিনে খেতে হয়।

বিশাল এ হাসপাতালে নেই কোনো পরামর্শ বা লোকেশান হেল্প ডেস্ক। নতুন কোনো মানুষ এলে পড়তে হয় নানা বিভ্রান্তিকর অবস্থায়।

 

জরুরি বিভাগ, আন্ত:বিভাগ, বহির্বিভাগ, ওটি, টিকেট ক্রয়ের স্থান, প্যাথোলজি বিভাগ, ব্লাড ব্যাংক, বিভিন্ন ওয়ার্ড, পরমাণু কেন্দ্র, ফরেনসিক বিভাগ একটা থেকে অন্যটাতে যাওয়া-আসা করতে নতুন লোকজনদের পড়তে হয় দুর্বিপাকে।

এছাড়াও হাসপাতালটিতে ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী সংকট বহুদিনের। ১৯৯২ সালের পর থেকে কুমেক হাসপাতালে আর কোনো সরকারি কর্মচারী নিয়োগ দেয়া হয়নি। ২০০৬ সালে ২৫০ থেকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও হাসপাতালটিতে নতুন নিয়োগ দেয়নি সরকার।

হাসপাতাল সূত্র মতে, ১৯৯২ সালে ৪র্থ শ্রেণির জনবল ছিল ১৬০ জন। মৃত্যু, বদলি, পদোন্নতিসহ বিভিন্ন কারণে বর্তমানে আছে ৬৪ জন। হাসপাতালের ৩০টি ওয়ার্ডে দারোয়ান, লিফটম্যান, পিয়ন, ওয়ার্ডবয়, ক্লিনারসহ ২৪ ঘণ্টা সেবা প্রধানের জন্য ৪র্থ শ্রেণির জনশক্তি প্রয়োজন ৫৬৪ জন।

হাসপাতালে চলছে ডায়গনস্টিক সেন্টারের দালালদের বাণিজ্য। অধিকাংশ ডাক্তার হাসপাতালে রোগীদের সময় না দিয়ে, নিজ চেম্বারের প্রতি মনোযোগী। হাসপাতালের সময় ৮:৩০ থেকে ২:৩০ পর্যন্ত সময় নির্ধারিত থাকলেও যথাসময়ে হাসপাতালে আসেন না চিকিৎসকরা।

এতকিছুর পরেও সংকট সমস্যা নিয়ে হাসপতালকে এগিয়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছেন একঝাঁক কর্মকর্তা, কর্মচারী। জানুয়ারি মাসে মেডিসিন বিভাগে ডাক্তারদের অর্থায়নে প্রায় ২৫ লাখ টাকার চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনা হয়েছে। চালু করা হয়েছে ডিজিটাল এস্ক রে মেশিন। বহিরগতদের প্রবেশ ঠেকাতে ওয়ার্ডে প্রবেশের পূর্বে গেইট পাশ দেখানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

সনাক ও টিআইবির যৌথ উদ্দ্যোগে প্রতি মাসে সেবার মান নিয়ে কর্তৃপক্ষের মুখোমুখি হন সেবা গ্রহীতারা। স্থাপন করা হয়েছে অভিযোগ বস্ক।

কুমেক হাসপাতাল পরিচালক ডাক্তার স্বপন কুমার অধিকারী জানান, রোগীকে সবোর্চ্চ সেবা দিতে আমাদের আন্তরিকতার কোনো কমতি নেই। জনবল সংকট, আইসিইউ চালু করা, বাজেট বৃদ্ধি করা, পরীক্ষা-নিরীক্ষার সরঞ্জাম মেরামত করাসহ সকল সমস্যা আমরা চিঠি দিয়ে কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি। সরকারি কাজ নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে হয়ে থাকে, তাই একটু সময় লাগছে।

সূত্র: ইউএনবি

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ